HeaderDesktopLD
HeaderMobile

মনে-মনে অঞ্জলি দেব মাকে, শুভ প্রার্থনা করব সিঙ্গাপুরেই: ঋতুপর্ণা

0 914

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর বরণডালা হাতে, লাল পাড় সাদ শাড়িতে আর সিঁদুরের টিপ পরা ‘উৎসব’ সিনেমার সেই পোস্টার দেখলে আজও পুজো পুজো অনুভূতি হয়। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘উৎসব’ ছবিতে ঋতুপর্ণার মুখটাই ছিল যেন আইকনিক ‘পুজোর মুখ’। সেই সে যুগ থেকে আজও ঋতুপর্ণা টলিউডের এক নম্বর নায়িকা। শুধু নিজের কাজ দিয়ে নয়, ইন্ডাস্ট্রিতে সকলের সুখে-দুঃখেও তিনি হাজির। দুঃস্থ শিল্পীদের মুখে হাসি ফোটাতেও সবার প্রথমে ঋতুপর্ণাই এগিয়ে যান।

এবার পুজোতে কলকাতায় থাকছেন না ঋতুপর্ণা। তিনি সপরিবারে আছেন সিঙ্গাপুরে। করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনে এই সিদ্ধান্ত। সেখানে কেমন ভাবে কাটাবেন পুজো? ঋতুপর্ণা জানালেন দ্য ওয়ালের প্রতিনিধি শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে

এবারের পুজো একটা নতুন বিস্ময়

এবারের পুজো আমাদের কাছে একটা নতুন বিস্ময় অবশ্যই। এভাবে পুজো দেখতে হবে কখনও ভাবিনি। এরকম কোনও একটা ঘটনা আমাদের জীবনে ঘটতে পারে সেটাই একটা বিস্ময়। এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে মোকাবিলা করা একটা চ্যালেঞ্জ তো বটেই। এবারের পুজো নতুন ভাবে দেখার, নতুন ভাবে উপলদ্ধি করার। আমাদের সবার জীবনেই একটা নতুন অভিজ্ঞতা তো বটেই।

অনেকবার পুজোয় হয়তো এরকম হয়েছে যে ঝড়, বৃষ্টি হল কিংবা চার দিনের পুজো তিন দিনে হয়েছে। কিন্তু একরম একটা পরিস্থিতি সত্যি অস্বাভাবিক।

তবে আমি একটা কথাই বলতে চাই যে দুর্গা পুজো যেহেতু আমাদের জীবনের সঙ্গে মিশে আছে, তাই মায়ের আগমন অবশ্যই শুভ বার্তা নিয়ে আসে। পুজো মানে একটা অপেক্ষা। তাই আমরা যদি একটু চেষ্টা করি নিজেকে ও সবাইকে বাঁচাতে পারি। যতটা সামাজিক দূরত্ব রাখা সম্ভব, মাস্ক পরায় কড়াকড়ি, স্যানিটাইজিংয়ে কোনও আপস না করা– এসব মেনে পুজো উপভোগ করা উচিত। সব কিছুর মধ্যে নিরাপত্তাটা নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে।

পুজো বলে আনন্দ অবশ্যই করবেন, কিন্তু সতর্ক হয়ে, সাবধানতা নিয়ে।

ঋতুপর্ণার রান্নাবাটি

ঋতুপর্ণা এখন সিঙ্গাপুরে পরিবারের সঙ্গেই কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন তাই অবসর সময়ে রান্না অনেক নিজেও করছেন। বললেন, “রান্নায় আমার কত পারদর্শিতা সেটা যারা আমার রান্না খাচ্ছে তারাই বলতে পারবে। বর, ছেলে, মেয়েকে রেঁধে খাওয়াচ্ছি। অনেক কিছু নতুন রান্না এক্সপেরিমেন্টও করেছি। সেসব এক্সপেরিমেন্টাল রান্নায় সুফলও পাওয়া গেছে। আগে ব্যস্ততায় এগুলো তো করা হয়নি।”

এবার পুজো কাটাব সিঙ্গাপুরে

আমরা এখানে চেষ্টা করব পুজোর ওই আমেজটাকে আনার। পুজোর তাৎপর্যটাকে যদি আমরা এই পরিস্থিতিতে শুভ বার্তা হিসেবে দেখি, সেটাই চেষ্টা করব। কলকাতায় পুজো হলেও এখানে সিঙ্গাপুরে পাবলিকলি দুর্গা পুজো নিষিদ্ধ করা হয়েছে এ বছর করোনা পরিস্থিতিতে। এটুকু বলতে পারি, মাকে অঞ্জলি দেওয়া, মায়ের সান্নিধ্যে থাকা এগুলো এবার মনে-মনে করব। সেটাই হবে মায়ের আশীর্বাদ প্রাপ্তি। আর সিঙ্গাপুরে আমাদের পুরো পরিবার আছে তাঁদের সঙ্গেই কাটবে পুজো। কয়েকটা নিমন্ত্রণ আছে ঘনিষ্ঠ মহলে, সেখানে যাওয়ার ইচ্ছে আছে।

ঋতুর পুজোর ছবি

এবারের পুজোতে যেটা নতুন সংযোজন, সেটা হচ্ছে মার্চ মাসে শুধু তিনদিন চলতে পেরেছিল আমাদের নতুন ছবি ‘পার্সেল’। লকডাউনের কারণে প্রেক্ষাগৃহ তখন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমাদের ছবি দেখানো যায়নি। তাই এবার পুজোতে সিনেমা হল খুলছে, আমাদের ছবি ‘পার্সেল’ আবার ফিরে আসছে পুজোয়। ‘পার্সেল’ ছবিটির পরিচালক ইন্দ্রাশিস আচার্য। তবে পঞ্চাশ শতাংশ দর্শক প্রতিটি শো দেখতে পারবেন, সেটা বলা হয়েছে। তাই যে দর্শকরা দেখতে চাইবেন তাঁরা যেন অগ্রিম টিকিট বুকিং করেন এবং সমস্ত নিয়মাবলি মেনেই যেন সিনেমা হলে যান।

সবাইকে শারদীয়ার অভিনন্দন। পুজো খুব ভাল কাটুক, সকলের ভাল হোক।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.