HeaderDesktopLD
HeaderMobile

সদ্য মা হয়েছেন সোনালী, ছেলেকে ধুতি-পাঞ্জাবি পরিয়ে দেবেন অষ্টমীর অঞ্জলি

0

সদ্য মা হয়েছেন জনপ্রিয় নায়িকা সোনালী চৌধুরী (sonali chowdhury)। মা হওয়ার পর প্রথম ‘দ্য ওয়াল’-এর পুজো আড্ডায় অকপট সোনালী। অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বললেন শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

প্যানডেমিকের মধ্যে মা হওয়া কতটা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল?

মা হওয়া প্রতিটা মেয়ের জীবনেই একটা আনন্দের খবর। কিন্তু আমাদের জীবনটা তো হঠাৎ করে ২০২০ থেকে বদলে গেছে।  প্যানডেমিক কী জিনিস সেটা তো আগে আমরা কোনও দিন টের পাইনি। কতটা বদলে গেছে মানুষের জীবন তার ছোট্ট উদাহরণ দিই। আগে বাড়িতে অতিথি এলে আমরা বলতাম ‘এসো এসো, বোসো।’ আমাদের ছোটবেলা থেকে আতিথেয়তার প্রথম ধাপ হিসেবে এটাই শেখানো হয়। এখন মানুষ এলে বলি ‘দূরে দাঁড়াও, স্যানিটাইজ করো’ ইত্যাদি। আমার নিজেরই খারাপ লাগে, কিন্তু এটা করাই এখন উচিত। আর একটা কথা, বেরোতে এত আনন্দ পেতাম সেই বেরোনোটাও এখন কঠিন কাজ হয়ে দাড়িয়েছে। আগের বছর তো শ্যুটিং ফ্লোরের আড্ডাটাও বন্ধ হয়ে গেছিল কাজ করতে গিয়ে।

আমার প্রেগন্যান্সির খবরটা পেয়ে খুব ভাল লেগেছিল। কিন্তু যেভাবে দারুণ করে কাটাব ভেবেছিলাম সেটা হল না। প্রেগন্যান্সির সময় ডায়েটিং খুব তো কিছু থাকে না, তাই ভেবেছিলাম রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাব প্রচুর। সেসব হয়নি। পুরোটাই বাড়িতে কাটিয়েছি। উল্টোদিকে ভাবলে ভাল হয়েছে হয়তো, বাড়িতে হেলদি খাওয়াদাওয়া করেছি।

ব্যস্ত নায়িকা সোনালী চৌধুরী বাড়িতে সারাটা দিন কাটালেন কীভাবে?

বাইরে বেরোনো নিয়ে আমার শারীরিক কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু ডাক্তারবাবু বলেছিলেন যে করোনার কথা মাথায় রেখে সতর্ক থাকতেই হবে। মায়ের বাড়িতেই কাটাচ্ছি এই সময়টা। বাড়িতে থাকাকালীন ‘সঞ্চয়িতা’ আবার শুরু থেকে পড়তে শুরু করলাম। আগে পড়ার জন্যে পড়েছিলাম, এখন পড়ে অনেক নতুন মানে খুঁজে পেলাম জীবনে। আরেকটা জিনিস করেছি, একটু রান্নাবান্নার মধ্যে মন দিয়েছিলাম। আমার মা, পিসির খুব ভাল রান্নার হাত। আমিও পারি কিন্তু শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততায় কিছু খাঁটি বাঙালি রান্না কখনও শেখা হয়নি। সেরকম সব রান্না করেছি। যেমন মোচার ঘন্ট, লাউ চিংড়ি রেঁধেছিলাম। শীতকালে অনেক স্যুপ বানিয়েছি। প্রেগন্যান্সির সময় প্রতিটা বিকেলবেলা আমি কিছু না কিছু রান্না করেছি। আর আমার খুব অভ্যাস আছে ভাল কোনও রান্না দেখলে বা করলে সেটা খাতায় লিখে রাখি।

মা হওয়ার অনুভূতিটা কেমন ছিল?

গত বছর পুজোর সময় প্রেগনেন্ট হই। তাই ভেবেছিলাম করোনার দ্বিতীয় ঢেউটা নভেম্বর ডিসেম্বরের মধ্যে হয়ে যাবে। কিন্তু এমন কপাল, যখন আমার ছেলে হল তখনই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কাটা আমরা পেলাম। ওই সময় এপ্রিলে ভোট হল, করোনা গ্রাফও সর্বোচ্চ হল। আমার ছেলে যখন হল তখন সাড় তিন লাখ মতো দিনপ্রতি করোনা সংক্রমণ হচ্ছিল।

হাসপাতালে ভর্তি হলেই মনে হয় বাড়ির সবাই দেখতে আসবে আর বাচ্চা হলে তো বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সবাই আরও আসে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সেটা ঘটেনি। ডাক্তারবাবু অনুমতি দেননি কাউকে আমায় দেখতে আসার। শুধুমাত্র আবার বর ছিল। বাড়িতে ফেরার পরও কেউই আমার ছেলেকে কোলে নিয়ে দেখতে পারেনি। সবাই ভিডিও কলে দেখেছে।আমার নিজের অপারেশন, পোস্ট প্রেগনেন্সি চাপ চললেও আমি সাহায্যের জন্য কোনও বাইরের লোক রাখিনি প্রথম এক মাস। একা হাতে সবটা সামলেছি। তখন সেকেন্ড লকডাউনের কড়াকড়ি চলছিল। তারমধ্যে সদ্যজাত শিশুর যত্ন নেওয়া যে কত বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমার কাছে সেটা সারাজীবন মনে থাকবে। 

সেই সঙ্গেই, আমি যাদের সাথে কাজ করেছি তেমন ইয়ং কত মানুষকে করোনাতে হারানোর খবর পেয়েছি। তাই মা হওয়ার সাথেসাথে করোনা আবহে অনেক নেগেটিভ খবরের মধ্যেও নিজের মনকে পজিটিভ রেখেছি। নিজে মানসিক ভাবে অনেক সাবলম্বী হলাম।

ছেলের নাম কী রাখলেন?

ছেলের ভাল নাম রিয়ান। রিয়ান ঘোষদস্তিদার। আমার বরের নাম যেহেতু রজত ঘোষদস্তিদার। আমি তো চৌধুরী লিখি। রিয়ান নামের মানে হচ্ছে ভগবান বিষ্ণু। আরেকটা মানেও আছে, স্বর্গদ্বার। ওর ডাকনাম তো অনেক অগুন্তি। শুরু হয়েছিল ঋক দিয়ে। সেটা রিকু, রিকলু থেকে নন্দদুলাল, চন্দ্রকান্ত– কত নামে যে ওকে ডাকা হচ্ছে।

এবার তো পুজো তাহলে ছেলেকে ঘিরেই!

একদম! তবে খুব শখ ছিল ছেলেকে নিয়ে ওর পুজোর বাজার করব সেটার তো এবার চান্স নেই। তবে আমার ছোটবেলায় যেমন অসংখ্য জামা হত পুজোয়, ওরও অসংখ্য জামা হয়েছে। ছেলের পিসি, মাসি, দিদিমা, ঠাকুমা সবাই দিয়েছে জামা। এমনকি স্টুডিও থেকেও ওর গিফ্ট আসছে। আমার তো মনে হচ্ছে নবমী, দশমী অবধিও ওর জামাকাপড় আসবে। এতদিন আমার আলাদা আলমারি ছিল আর আমার কেনার চোটে মা বকাবকি করত যে আবার একটা আলমারি কিনতে হবে নাকি! এবার তো ছেলের জন্য দেখছি একটা আলাদা আলমারি কিনতে হবে।

পুজোয় তো আপনারর জন্মদিনও পড়ে বেশিরভাগ সময়!

হ্যাঁ, তখন পুজোটা আরও স্পেশাল হয়ে যায়। ১৩ অক্টোবর আমার বার্থ ডে। সেটা প্রায়ই পুজোর মধ্যেই পড়ে। এবার আমার জন্মদিন পড়েছে অষ্টমীর দিন। আমি জন্মেছিলাম নবমীর দিন। পুজোয় তো জাজমেন্ট, নানা ইভেন্টে ব্যস্ত থাকি। কিন্তু মায়ের আমার কাছে আবদার থাকেই নবমীর দুপুরবেলাটা আমি যেন মায়ের বাড়িতেই থাকি আর মায়ের হাতের রান্নায় লাঞ্চ করি। এবার অষ্টমীতে জন্মদিন পড়লেও বাঙালি বাড়িতে মহাষ্টমীর দিন আমিষ হয় না। ভোগের উপরই চলে। তাই নবমীর দিনটা পায়েস, মাটন এসব মা আমার জন্য বানাবে। আমাদের বাড়িতে জন্মদিনে রেস্টুরেন্টে খাবার চল খুব একটা নেই। রজতের জামাই ষষ্ঠীও বাড়িতেই আয়োজন করেন মা, পিসি। পুজোর সাজগোজে এবার স্পেশাল কী?

এবার ইচ্ছে আছে অষ্টমীর দিন ছেলেকে ধুতি-পাঞ্জাবি পরিয়ে একটু ঘোরানোর। ছেলেকে নিয়েই এবার অষ্টমীর অঞ্জলি দেব। এটাই সবথেকে স্পেশাল হবে এবার পুজোয়। আমার এক ডিজাইনার বন্ধুকে ছেলের ধুতি-পাঞ্জাবি বানাতে দিয়েছি এক্সক্লুসিভ। আমার একটা জামদানি বানাতে দিয়েছি গোলাপী আর হলুদ মিক্সড, একই কম্বিনেশনে ছেলের ধুতি-পাঞ্জাবি হবে। ইচ্ছে আছে ফটোশ্যুট করারও।

ফুটবলার স্বামী রজত ঘোষদস্তিদার বাচ্চা সামলাতে কতটা অভ্যস্ত?

ভীষণ এক্সপার্ট। আমি ভাবিনি রজত এত ভাল বেবিসিটিং করবে। আমি যে এর মধ্যে কিছু রিয়্যালিটি শোয়ের শ্যুটিং বা ফিল্ম ডাবিংয়ে গেছি, ছেলেকে রজতের কাছেই রেখে গেছি। যদিও মায়ের বাড়িতেই আছি। কিন্তু রজত সবটা সামলায়। রজতের কাছে ছেলে এত সুন্দর থাকে,  আমি খুব নিশ্চিন্তে থাকি।ছেলের পুজো তো শুনলাম, কিন্তু সোনালীর কিশোরীবেলার পুজো?

আমার বড় হওয়া জুড়ে বেহালা। বেহালায় পাড়ার পুজোতে আমি আজও সবার সাথে খুব মিশি, একসঙ্গে অষ্টমীর ভোগ খাই, পুজো মানেই আমার পাড়ার পুজো এখনও। পাড়ার পুজোর আন্তরিকতা কিন্তু হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের পুজোয় আসে না। এখনকার টিপিক্যাল বং কালচারের থেকে অনেক আলাদা।

আমাদের বেহালার সব পুজো তো খুব বিখ্যাত। আগে ঠাকুর দেখতে যেতাম, এখন জাজমেন্ট করতে যাই। কত ক্লাবের পরিবর্তন দেখলাম। সহযাত্রী ভেঙে বড়িশা ক্লাব হল, বেহালা নতুন দল থেকে বেহালা ফ্রেন্ডস। আর আগে বেহালা উৎসব, বেহালা গান মেলা, নাটক উৎসব, বই মেলা অনেককিছু হত। সেসব উঠে গেছে।

প্রেগন্যান্সির পর আবার নতুন লুকে কবে কামব্যাক করবেন আমাদের প্রিয় অভিনেত্রী সোনালী?

যোগা শুরু করেছি। ডায়েট যে খুব একটা করছি তা নয়। তবে আমি মিষ্টি খেতে খুব ভালবাসি। এখন একটু লাগাম দিচ্ছি। তবে পুজোর মাসটা একদম ভাবি না ডায়েট। দুর্গাপুজোর পর আমাদের বাড়িতে বড় করে লক্ষ্মী পুজো হয়। সেখানে নাড়ু তো মাস্ট। ছেলের ছ’মাস হলে আমি জিম জয়েন করব।কামব্যাক অফার অনেক পাচ্ছি, তবে আমি চাই মনের মতো একটা চরিত্র দিয়েই যেন আবার শুরু করতে পারি।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.