HeaderDesktopLD
HeaderMobile

এবার জানবাজারে রানি রাসমণি হাউসের পুজো মিস করব: দিতিপ্রিয়া

0 130

‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’। মলিনা দেবী, অনুরাধা রায়, সোমা দের পরে রাসমণি হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় আজ দিতিপ্রিয়া রায়। দিতিপ্রিয়ার কাজটা অনেক বেশি শক্ত ছিল, কারণ রানি রাসমণির কিশোরীবেলা, যৌবনবেলার সঙ্গে প্রৌঢ়া বৃদ্ধা বেলার অভিনয়ও একসঙ্গে দিতিপ্রিয়াকেই করতে হচ্ছে। তবে দর্শকদের বিচারে তাতে স্টার মার্কস পেয়েই পাশ করেছেন সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা দিতিপ্রিয়া। দর্শকের কাছে আজ রাসমণি মানে দিতিপ্রিয়াই। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা দিতিপ্রিয়া কি আর পাঁচটা টিনএজ গার্লের মতো পুজো কাটাতে পারেন? সে নিয়েই গল্প করলেন দ্য ওয়ালের প্রতিনিধি শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে।

পুজো পরিক্রমা মিস

‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ সিরিয়ালে শট দেবার ফাঁকেই পুজোর প্ল্যান নিয়ে আড্ডা শুরু করলেন দিতিপ্রিয়া। “এখন তো প্রতিবার আমার পুজো মানেই পুজো পরিক্রমা থাকে, অতিথি হয়ে নানা জায়গায় যেতে হয়। পুজো উদ্বোধন করতেও প্রচুর আমন্ত্রণ আসে। গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স দিতে পুজোগুলোয় গিয়ে প্রচুর ঠাকুর দেখা হয়ে যায় আমার। প্রচুর ঘোরাঘুরিও হয়। অনেক জায়গায় অনেক মণ্ডপে বা অনেক বনেদী বাড়িতে, যেখানে আমি আগে কখনও যাইনি, কোনও দিনও যাব বলে ভাবিনি, রাসমণি করার পর সেইসব জায়গার ঠাকুরগুলো আমার দেখা হয়ে যায়। সেইটা খুব ভালো লাগে।

এইবারে পুজো পরিক্রমা কিছুই নেই। এবারের পুজোটা অনেকটাই আলাদা, কলকাতা এরকম পুজো আগে কখনও দেখেনি। তাই অন্যরকম পুজোতে সব কিছু সাবধানতা মেনে পুজো সেলিব্রেট করার চেষ্টা করব। আর এবার পুজোতে একদমই বাড়িতে থাকার চেষ্টা করব।

পুজোর খাওয়া

দিতিপ্রিয়া জানালেন ‘ খাওয়া দাওয়া তো প্রতিবছর বাইরেই হয় আমাদের। কিন্তু এই বছর বাড়ি ছাড়া কোনও অপশন নেই। মাকেই রান্না করতে হবে। আমি হেল্প করব মাকে। বাড়িতেই  খেতে হবে রোজ যা আগে কোন পুজোতে করিনি। তবে পুজোয় একটা দিন চেষ্টা করব বাইরে থেকে খাবার আনানোর, কিন্তু কতটা নিরাপদ সেটা আমি জানি না।

রাসমণি হাউসে রানির তলোয়ার হাতে।

পাড়ার পুজোতেই এবার রাসমণি

এবার তো বাইরে কোথাও যাওয়া নেই, চ্যানেলের পুজো বৈঠক অনুষ্ঠানগুলোর চার্ট এখনও পাইনি, এটাও জানি না হবে কিনা। পুজো পরিক্রমা মহালয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যেত সেটাও নেই। এবার সারা পুজো আমার পাড়ার পুজোতে থাকব। আমার বাড়ির নীচেই আমাদের ক্লাবের দুর্গা পুজো হয়। সেখানেই মোটামুটি থাকব। এখন রোজই প্রায় শ্যুটিং থাকে, রাত হয়ে যায় অনেক, তাই পুজোয় বাড়িতে বাবা মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে পারব বেশি।

রানিকে দেখতে ভিড়

পুজোয় আরেকটা বড় ব্যাপার প্রতিবার হয়, জানবাজারের রানি রাসমণি হাউসে যাই। ওখানে অত দর্শনার্থী আমাকে দেখে প্রণাম করছে, আমাকে দেখতে জন জোয়ার নামছে, এসব দেখে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে হয়। রানি চরিত্র কিছুটা হলেও করতে পেরেছি মনে হয়। রানি রাসমণির শ্বশুর বাড়ি জানবাজারে। আগে এত লোক এখানে যেতেন না বোধহয়, এখন আমায় দেখতে যান। এইটা বড় প্রাপ্তি।

ওখানকার রক্তবর্ণা প্রতিমা খুব ভালো লেগেছিল। রাণিমার পরিবারের লোকরাও খুব ভাল। এবার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জানি না হবে কিনা। আর এবার তো বনেদী বাড়িগুলো প্রায় বন্ধই থাকবে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য। জানবাজারের বাড়ি, প্রতিমার মুখ এবার খুব মিস করব।

রানিমা গরদ পরলেও দিতিপ্রিয়া পছন্দ করেন লেহেঙ্গা

পুজোর শপিং এ এবার খুবই কম হচ্ছে। তবে পুরোটাই অনলাইনে কেনার চেষ্টা করছি। যতটা ভিড় এড়ানো যায়, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখ যায়। এবার পুজোয় জামা কাপড় কিনেছি আগেরবারের থেকে অনেক কম। প্রতিবার তো মনে হয় শপিং করলেই পুজো চলে এল। তো ওই ব্যাপারটাও অনেকটা কম এবার।

Actress Ditipriya Roy shares her thought of shooting Rani Rashmoni

আগেরবার লেহেঙ্গা কিনেছিলাম কিন্তু এবার তো সেসবের কোন বালাই নেই। বেরোনোই হবে না তো কিনে কোথায় পরব? ঘরে নতুন জামা পরে ঘুরব নাকি! নর্মাল কিছু জামা কাপড় কিনেছি এবার, পুজোয় নতুন গায়ে দিতে হয় তাই।

আমার দর্শকদের বলব সাবধানতার সঙ্গে পুজো কাটান। সবার ভালবাসাই আমার কাজে প্রেরণা দেয়। সবাই পুজোয় আনন্দ করুন। ভালো থাকুন।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.