HeaderDesktopLD
HeaderMobile

অষ্টমীর সকালে শাড়ি পরেই অঞ্জলি দেব: বাসবদত্তা

0 60

‘আসা যাওয়ার মাঝে’ ছবির নাম বললেই যে নায়িকার কথা মনে পড়ে কিংবা ‘বয়েই গেল’, ‘মন নিয়ে কাছাকাছি’ ধারাবাহিকের নায়িকা, কিংবা ‘শ্রাবণের ধারা’ ছবির উজ্জ্বল তরুণী—তিনি বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়।

আধুনিক সময়ের তরুণী অভিনেতা হলেও, বাসবদত্তার সৌন্দর্যে এমন এক স্নিগ্ধ গাম্ভীর্য রয়েছে, যা মনে করিয়ে দেয় আট-নয় দশকের শান্ত-সমাহিতা নায়িকাদের কথা। অনেকে আবার এই জন্য বাসবদত্তাকে বেশ গুরুগম্ভীরও ভাবেন। তবে আদতে মানুষটি খুবই আড্ডাপ্রিয়, সাবলীল। তিনিই আড্ডা মারলেন দ্য ওয়ালের প্রতিনিধি শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে।

এবারেও ঠাকুর দেখব

আমি এমনিতে কোনও দিনই কোনও প্ল্যান করে পুজো কাটাই না। সপ্তমীর প্ল্যানটা হয়তো পঞ্চমীতে হয়, নবমীর রাতেরটা নবমীর সকালে। আমরা এরকমই। তবে এ বছর সত্যি বলছি, কিছুই জানি না। তবে হ্যাঁ, আমি কিন্তু পুজোয় নিয়ম করে বেরোই। আমি ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখতে খুব ভালবাসি। এমনকি ভিড়ে সমস্যা হয় বলে ভোর বেলা বেরিয়েও ঠাকুর দেখি প্রতিবার। আগে তো বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে বা বাড়ির লোকজনদের নিয়ে সারারাত একসঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরোতাম। পুজোতে বাড়ি বসে থাকার পাত্রী আমি নই। পুজো মানেই ঠাকুর দেখা, ঘোরা, খাওয়া মাস্ট আমার কাছে। আজকাল তো পুজো পরিক্রমাতেও বিচারক হয়ে গিয়ে অনেক ঠাকুর দেখা হয়।

অষ্টমীর সকালে অঞ্জলি দেওয়া চাইই চাই। আর পুজোয় রোজই কোথাও না কোথাও কিছুক্ষণের জন্য হলেও বেরোই। এবারেও সেরকমই ইচ্ছে আছে। এবার কিন্তু একটা সুবিধে আছে, ভিড় বা ঠেলাঠেলির ব্যাপারটা থাকবে না। ফলে একটু রিল্যাক্স করে ঠাকুর দেখা যাবে। এবার তো শুনলাম অনেক মণ্ডপের ঠাকুর গাড়ির ভিতর বসেও দর্শন করা  যাবে। যেটা একটা খুব সুবিধেজনক ব্যাপার।

ফুচকা অন্ত প্রাণ

তবে ভক্তরা কেউ যদি বাসবদত্তাকে দেখে ভিড় করেন, সেলফি তোলার আবদার করেন, তাতে কিন্তু সমস্যা বোধ করেন না বাসবদত্তা। কারণ তিনি জানেন, তাঁকে ভালবাসেন বলেই তাঁরা ঘিরে ধরেন। বাসবদত্তার স্বামীও ব্যস্ত সাংবাদিক, অনির্বাণ বিশ্বাস। পুজোর সময়েও যিনি ব্যস্ত থাকেন। পুজোয় দুজনে সময় কাটানোর সুযোগ পান?

বাসবদত্তা জানালেন, ‘সবে দু বছর হল আমাদের বিয়ে হয়েছে। পুজোয় একটা দুটো দিন ছুটি পায় ও। এবছরটা আমি বুঝতে পারছি না কী হবে। তবে এমনিতে আমার বরও খুব ভালোবাসে ঠাকুর দেখতে যেতে। ব্যস্ততা থাকলেও সময় বার করে। যেদিন ওঁর পুজোয় কাজ থাকে সেদিন আমি আমার বন্বুবান্ধবের সঙ্গে বেরোই। পুজোয় ঠাকুর দেখা, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা খাওয়া—এগুলো আমায় করতেই হবে আর কি। ফুচকাটা পুজোয় রোজই খেতে হয়। আমার বর আর মা-ও খুব ভালোবাসে ফুচকা খেতে, আমার মা ও খুব ভালবাসে ফুচকা খেতে। তবে এবার বিরাট দুঃখ, পুজোয় ফুচকাটা বড়ই মিস করব।

পুজোয় বাড়িতে রান্না করার কোনও অবকাশই নেই। পুজোয় আমার পায়ে চাকা লাগানো থাকে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরা আর ঠাকুর দেখা, খাওয়া বাইরেই।

সিম্পল, ক্যাজুয়াল সাজই পছন্দ

বাসবদত্তার ব্যক্তিত্ব, স্বতন্ত্র সাজ কিন্তু বাসবদত্তাকে অনেক নায়িকার থেকে আলাদা করে দেয়, বেশি টানে দর্শকদের। পুজোর সাজ নিয়ে কী বলছেন বাসবদত্তা?

‘আমি প্ল্যান করে কিছু সাজগোজ করিনা। হ্যাঁ শপিং করি অবশ্যই এক একদিন এক একটা পরার। অষ্টমীর দিনটা চেষ্টা করি একটা শাড়ি পরে অঞ্জলি দেওয়ার। আর বাকি দিন যখন যেটা ইচ্ছে করে আর কী। আর কী পরব সেটা আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে। কারণ পুজোয় বেশিরভাগ দিনই বৃষ্টি হয়, তখন আবার ড্রেস চেঞ্জ করতে হয়। তবে আমি কোনও দিনই প্রচুর সাজগোজ করা, শাড়ি চুড়িদারের সঙ্গে ম্যাচিং করে সব কেনা—এসব কোনও দিনই করিনা। যতটা সিম্পল আর ক্যাজুয়াল থাকা যায় সেটাই আর কী।

দর্শকদের পুজো শুভেচ্ছায় বাসবদত্তা জানালেন “পুজো সকলের খুব ভাল কাটুক। এবার পুজোয় আনন্দর পাশাপাশি সাবধানতা অবলম্বনটাও জরুরি। সাবধানে সুস্থ থেকে পুজো কাটাক সবাই।  মা দুর্গার আর্শীবাদে করোনা নামক অসুরটি বিদায় নিক এটার চাই।”

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.