HeaderDesktopLD
HeaderMobile

পুজোয় ঘরোয়া আড্ডাই ভালবাসি, শাড়ি মাস্ট, আর চাই স্ট্রিট ফুড: অনুরাধা

0 318

তিনি এই সময়ের আর পাঁচ জন অভিনেত্রীর থেকে আলাদা। কারণ একটাই, তাঁর অন্যরকম কাজ নির্বাচন। অনুরাধা ইতিমধ্যেই বলিউডের বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেও প্রশংসা পেয়েছেন। যেমন ‘ডেজ অব অক্টোবর’ বা ‘পঞ্চলেট’-এর মতো ছবি। কিন্তু অনুরাধাকে বাংলার দর্শক চিনল ‘সোয়েটার’ ছবি দিয়ে। ‘সোয়েটার’ ছবিতে নায়িকা ঈশা সাহার বোন শ্রী-এর চরিত্রে অনুরাধা মুখোপাধ্যায়ের দৃপ্ত অভিনয় সবার নজর কেড়েছে। অনুরাধার সঙ্গে পুজোর গল্প করলেন শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

অনুরাধার পুজোর আড্ডা

এমনিতে আমি খুব একটা ভিড় পছন্দ করি না। ঘুরে-ঘুরে প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখা ছোটবেলায় করেছি, এখন আর অনেক বছর ধরে সেভাবে ঠাকুর দেখা হয় না। আগের বছরে বহু বছর পর আমি কলকাতায় ছিলাম, আমার এক বন্ধুর বনেদী বাড়িতে খুব পুরনো দুর্গাপুজো হয় সল্টলেক লেকটাউনের দিকে, ওই পুজোতেই আমরা বন্ধুরা মিলে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত কাটিয়েছি। তো এ বছর ওদের কী হবে জানি না। এ বছর তো ঘট পুজো করছেন অনেকে। বন্ধুদের সঙ্গে এবার অল্প দেখা হবে হয়তো, বা কারও বাড়িতে আড্ডা হবে।

মুম্বইয়ের পুজো

আমি মুম্বইতে চার বছর ছিলাম। বম্বের জায়গায় জায়গায় যে পুজোগুলো হয়, মুখার্জী পরিবারের পুজো যেটা কাজল-রানিদের পুজো, অভিজিৎদার পুজো—ওইগুলোতে গেলেই পুজো কেটে যায়। অবাঙালিরাও এই দুর্গাপুজো গুলোতে সেজে গুজে যান, কারণ ওঁদের নবরাত্রি চলে। মুখার্জীদের পুজো, অভিজিৎদার পুজো—এই দুটো পুজোতেই ওঁরা ভোগ বানায় সকলের জন্য। সপ্তমী, অষ্টমী আর নবমীতে চলে আনন্দ।

প্রথম বছর আমি চলে এসছিলাম কলকাতার পুজোতে, পরের বছরগুলো মুম্বাইয়ের বন্ধুদের সঙ্গে ছিলাম। ওখানে থাকতে থাকতে একটা বাঙালি সার্কেল হয়ে যায়। আমরা বন্ধুরা আলাদা করে আড্ডা মারতাম। বাকি দুর্গাপুজো আলাদা করে মুম্বাইতে বোঝা যায়না। ওদের গণপতি ফেস্টিভাল আমাদের এখানকার দুর্গাপুজোর মতো, বুঝতে পারা যায়, আলাদা করে ফেস্টিভাল চলছে।

শাড়িমনা মেয়ে

এই বছর এখনও অবধি কিছু কিনিনি। কারণ খুব একটা ইচ্ছেও করছে না সত্যি কথা বলতে। এবার মহালয়াতেও মনে হয়নি মহালয়া এসেছে। আবার এ বছর মলমাসও। পুজোতে শাড়িটাই পছন্দ করি আমি। ওয়েস্টার্ন একেবারেই পরি না পুজোতে। পুজোতে শাড়ি পরে সাজতে ভালো লাগে। আমি খুব একটা ফ্যান্সি কিছু সাজি না। সাবেক সাজেই বিশ্বাস করি।

স্ট্রিট ফুড মিস করব

আমি প্রচুর ফুডি। আমি সারাবছরই খেতে ভালোবাসি। আলাদা করে ডায়েট করতেই হয় না। ভাত না হলে আমার হয় না। দিনে দুবার তো ভাত খাইই-খাই। মুম্বইতেও ভাত খেতাম। এবার পুজোয় যেটা মিস করব, সেটা হল স্ট্রিট ফুড। রাস্তার পাশে পুজোর সময় যেগুলো হয়, এগরোলের দোকান, হাঁড়িভরা বিরিয়ানি— এসবের গন্ধ খুব ভাল লাগে আমার। এই বছর এগুলো খাওয়ার ঝুঁকিটা নিতে পারব না। তবে পুজোর সময় ভোগটা খাই। আমাদের বাড়িতে ষষ্ঠী আর অষ্টমীতে নিরামিষ খাওয়া হয়। আমি এটা ছোটবেলা থেকেই মেনটেন করি। বাকি অন্য দিনগুলো চুটিয়ে ননভেজ খাই।

পুজোয় প্রেম

যখন আমি সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়তাম, পুজোয় ম্যাডক্স স্কোয়ারে খুব গেছি। আড্ডা মারতাম, গল্প করতাম, ঝাড়ি মারতাম। কিন্তু ওই, একটা হয় না, কলেজের পরপরই কাজ করা আরম্ভ হয়ে যায়, তখন সারাবছর কাজের এত চাপ থাকে মনে হয় পুজোতে নিজের লোকজন বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে শুধু আড্ডা মারি। প্যান্ডেল হপিংয়ের থেকে দূরেই থাকি।

আমার ছবি পুজোর আগে ওটিটি-তে রিলিজ হল, ‘হালাহাল’ আর ‘একেন বাবু’। পুজোর সময় বিদুলা ভট্টাচার্যের একটা প্রোজেক্ট রিলিজ হবার কথা, তাতে আমি আছি, যিনি ‘প্রেম আমার টু’ করেছিলেন। আর পুজোর পর দিওয়ালিতে ‘তানসেন’ রিলিজ হবার কথা। সবগুলোই ওটিটি রিলিজ। শুটিং শুরু হবার কথা শিলাদিত্য মৌলিকের ‘ছেলেধরা’।

এই ভাবেই কাজে-আড্ডায় কাটবে আমার পুজো। সব দর্শকদের বলব পুজো সাবধানতার সঙ্গে কাটান। সবাই ভাল থাকুন।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.