HeaderDesktopLD
HeaderMobile

পুজোর কদিন দিতিপ্রিয়ার সময় কাটবে পাড়ার ক্লাবেই, বাবার ঢাকের বাজনা শুনে

0

করুণাময়ী রানি রাসমণি ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় আপামর বাঙালি দর্শকের মন ছুঁয়ে গেছিল। রানি মা চরিত্রে দিতিপ্রিয়া রায়ের সেই অনবদ্য অভিনয় আজীবন মনে থেকে যাবে বাঙালির। মুম্বই থেকে ফিরে পুজোর ঠিক আগে আগেই ‘রানি মা’ দিতিপ্রিয়া ‘দ্য ওয়াল’কে দিলেন এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ। খোশমেজাজে জানালেন তার এবছরের পুজো পরিকল্পনা থেকে শুরু করে অনেক অজানা কথা।মুম্বই থেকে কবে ফিরলেন?
দিতিপ্রিয়া- (হেসে) কয়েকদিন আগে।
এবার কি পাকাপাকিভাবে পসার জমাতে মুম্বই পাড়ি দেওয়া?
দিতিপ্রিয়া- আরে না না। এখন মুম্বই আর কলকাতা মিলিয়ে কাজ করছি।
ইতিমধ্যে ‘পাতালঘর’ খ্যাত হাতোড়া ত্যাগী ওরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আপনার ছবি তো সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো এখন ভাইরাল-
দিতিপ্রিয়া-
হুম। আমি আর
অভিষেক ওয়েব ফিল্মে ভাই-বোনের চরিত্রে অভিনয় করছি। এই ফিল্ম ভাই-বোনের গল্পের ওপর আধারিত। আমি ওঁর খুব ভক্ত। আমার খুব প্রিয় একজন অভিনেতা। মুম্বইয়ে ওঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বুঝলাম যে উনি একজন খুব মিষ্টি স্বভাবের মানুষ, খুব গ্রাউন্ডেড। মোটামুটি ওঁর সব কাজ আমি দেখেছি। আমি যে ওঁর সঙ্গে প্রথমবার স্ক্রিন শেয়ার করছি কাজ করতে গিয়ে একবারও তা মনে হয়নি। একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি সে জন্য আমি থ্যাঙ্কফুল। দর্শক কিছুদিনের মধ্যেই কাজটি দেখতে পাবেন।এছাড়া বাংলায় বেশ কয়েকটি ছবি আছে যার চরিত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাকে যে শুধু একজন নায়িকাই হতে হবে সেরকম কোনও পরিকল্পনা আমার নেই। ভালো চরিত্র, গল্পে কাজ করতে আমি বরাবর আগ্রহী। সেরকম কিছু গল্প এখন হাতে আছে। মুম্বইয়ে যা কাজ ছিল তা হয়ে গেছে। শুধু বিজ্ঞাপনের শ্যুটিং-এর জন্য যাতায়াত করতে হবে মুম্বই। আপাতত ওখানে কোনও কাজ নেই।
চুল ছোটো আর হেয়ার কালার করে আপনি তো নিজের ভোল পুরো পাল্টে ফেলেছেন-
দিতিপ্রিয়া- অনেকদিন ধরেই আমার চুল ছোটো করে কাটা। করুণাময়ী রানি রাসমণি করার সময়ও আমার চুল ছোটো ছিল। তবে চরিত্রের স্বার্থে হিন্দি ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করার জন্য আমি চুলে টেম্পোরারি কালার করেছি।রানি মা চরিত্র থেকে বেরিয়ে আসা কতটা কঠিন ছিল?
দিতিপ্রিয়া-
আমার জীবন জুড়ে পুরোটাই তো রানি মা। ১৫ বছর বয়সে ওই চরিত্রে অভিনয় শুরু করি। আর যখন ওই চরিত্রে অভিনয় শেষ করলাম তখন আমার বয়স ১৯। একটা দীর্ঘ জার্নি ছিল যা আমার জীবনে স্মৃতি হয়ে থাকবে। দর্শকদের মাথায় আমার নামের সঙ্গে রানি রাসমণির ইমেজ ঢুকে গেছে। হয়তো কোথাও গিয়ে আমাকে অন্য চরিত্রে অভিনয় করতে দেখে প্রথম প্রথম মানুষের গ্রহণ করতে অসুবিধা হবে। তবে হ্যাঁ ,ধীরে ধীরে মানুষ ক্রমশ আমাকে গ্রহণ করে নেবেন। মানুষ বুঝবেন যে রানি মা আর দিতিপ্রিয়া দুজন আলাদা মানুষ। তাই আমার সঙ্গে রানি মার কোনও তুলনা চলে না। রানি মা চরিত্রে অভিনয় করার পরই যে ধরনের সুন্দর সুন্দর কাজের অফার আসছে সত্যি আমি খুব ধন্য। কাজকর্ম তো চলছেই, তবে সেগুলো এখনও রিলিজের পর্যায়ে আসে নি। দেখা যাক কী হয়! একটা কথা বলব যে সব চরিত্রের জন্য আমাকে নিয়ে মানুষজন ভাবছেন। ‘অচেনা উত্তম’ ছবিতে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, ‘অভিযাত্রিক’-এ অপর্ণা ছাড়াও পরিচালক পাভেলের ছবিতে মিষ্টি মেয়ে চরিত্রে অভিনয় করছি। এছাড়া জিতের প্রযোজনায় ‘আয় খুকু আয়’ ছবিতে বুম্বাদার মেয়ের চরিত্রে আমাকে অভিনয় করতে দেখা যাবে। এই ছবিটি বাবা আর মেয়ের গল্প। পরিচালক সৌভিক কুন্ডু। ইনি এর আগে ‘সুইজারল্যান্ড’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন। চিত্রনাট্যকার থেকে পরিচালক- এঁরা যে আমায় ভিন্ন চরিত্রে ভাবছেন সেটাই তো বড় ব্যাপার।রানি রাসমণির শেষ দিনের শ্যুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?
দিতিপ্রিয়া
সত্যি আমি আর মনে করতে চাই না। খুব কষ্ট হয়। ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। এখন নিজের মনকে সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া আর কিছু উপায় নেই। খারাপ লাগাটা তো থাকবেই। ৪ বছর ধরে শ্যুটিং, প্রতিটি মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা, তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানো, প্রতিবছর আমার জন্মদিন সেলিব্রেট করা, কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বাড়ির মানুষের তুলনায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁদের মুখ আমি বেশি দেখেছি। আমার জন্মদিনে ওঁরা সুন্দর উপহার দিতেন যা সারাজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেই সবকিছুকে ছেড়ে বেরোনো খুব কঠিন ছিল। পরিচালক থেকে ডিওপি, ধারাবাহিকের সব অভিনেতা-অভিনেত্রীদের চোখের জল যা দেখে আমি নিজে খুব আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। এত মানুষের ভালোবাসায় সত্যি আমি ধনী। খুব কষ্ট হলেও নিজেকে সামলে নিই। তাঁরা প্রত্যেকেই আমার খুব প্রিয় মানুষ, মনের অত্যন্ত কাছের।রানি মা চরিত্রে অভিনয় করে কী শিখলেন?
দিতিপ্রিয়া-
পুরোটাই ছিল লার্নিং প্রসেসে। দীর্ঘ বছর ধরে আমি অনেক কিছু শিখেছি। কীভাবে ধৈর্য ধরতে হয় যেটা আমার বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে খুবই কম থাকে। রানি মার ভূমিকায় সুদীর্ঘ সময় ধরে অভিনয় করতে গিয়ে যা আমার মধ্যে জাড়িত হয়েছে। রানি মার মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পছন্দ করি আমিও।
রানি মা চরিত্রে অভিনয় করে কোনও কমপ্লিমেন্ট পেয়েছেন কি?
দিতিপ্রিয়া-
 এত কমপ্লিমেন্ট পেয়েছি তা বলে শেষ করা যাবেনা। লোকজন আমাকে রানি মা হিসেবে ভাবেন। এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা এই ধারাবাহিক শেষ অধ্যায় দেখেননি। তাঁরা আমার এবং এই ধারাবাহিকের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গেছিলেন যে আমাকে তাঁদের বাড়ির একজন মনে হয়েছিল। যেন বাড়ির কোনও আপনজন কোথাও চলে যাচ্ছে। যা আমার কাছে পরম প্রাপ্তি। আমি চার বছর ধরে তাঁদের ঘরের মেয়ে হয়ে গেছিলাম। তবে মজার কমপ্লিমেন্ট অনেক আছে। তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হল তিন বছরের পুঁচকে ছেলের কাছ থেকে বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছি। তার নাম শেরু। এখন হয়তো তার বয়স বেড়ে ৫ হয়েছে। মাকে দিয়ে সে প্রায়ই ফোন করায়। তার এখনও বিয়ের ইচ্ছে আছে (হেসে কুটি কুটি)। এছাড়াও আমাকে সামনে থেকে দেখে কেউ প্রণাম করেন। সত্যি বলতে কি, এমনও দেখেছি আমাকে দেখে অজ্ঞান হয়ে গেছেন।রানি মা আর দিতিপ্রিয়ার মধ্যে কী ধরনের মিল আর অমিল?
দিতিপ্রিয়া- মিল তো আছেই। আর অভিনয় করতে করতে প্রচুর মিল আমি খুঁজে পেয়েছি। যেমন দিতিপ্রিয়া নিজেও অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে ভালোবাসেন। রানি মার এই গুণ ছিল। এছাড়া রানি মার মতো দিতিপ্রিয়ার কাছে কোনও মানুষ যদি দুঃখ নিয়ে কথা বলে গলে পড়ে। হয়তো তার পেছনে ইনটেনশন ভালো ছিল না, সেটা পরে সে বুঝতে পারে। দিতিপ্রিয়ার জীবনেও এরকম ঘটেছে (খিলখিল করে হেসে)। এছাড়া রানি মার থেকে দিতিপ্রিয়া ধৈর্য শিখেছে।হাতে এখন আপনার কি কি কাজ আছে?
দিতিপ্রিয়া- ওয়েব সিরিজ তানসেনের তানপুরা ‘সিজন ৩’ শুটিং শেষ করতে হবে। পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। এ ছাড়াও আরও কয়েকটি ছবিতে কাজ করার কথাবার্তা চলছে। একটি ছবির কথা চলছে। সেটা আশা করছি পুজোর আগে খবর দিতে পারব।
ঋত্বিক চক্রবর্তীর ডেবিউ ওয়েব সিরিজে আপনাকে জুটি হিসেবে অভিনয় করতে দেখা যাবে শুনলাম…
দিতিপ্রিয়া- এক্ষেত্রে বলার মতো অনেক কিছু থাকলেও এখনই কিছু বলতে পারছি না। প্রোডাকশনের বারণ আছে।
‘বব বিশ্বাস’ ছবিতে অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
দিতিপ্রিয়া-
শ্যুটিং তো অনেক দিন আগেই শেষ হয়ে গেছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত ওঁর সঙ্গে কোনও স্ক্রিন শেয়ার আমি করিনি। ছবিতে আমার চরিত্রটি অত্যন্ত ভালো। তবে চরিত্রটি কেমন তা জানতে ছবি দেখতে হবে। ছবিটি এখন রিলিজের অপেক্ষায়।মেইনস্ট্রিম ছবির নায়িকা হতে চান?
দিতিপ্রিয়া- এখন আমার কাছে যা চরিত্র আসছে সব একটু অন্যরকম। তবে যদি কমার্শিয়াল ছবির গল্প ভালো হয় অবশ্যই আমি করব।
এখন টলি ইন্ডাস্ট্রিতে জোর খবর যে আপনার নাকি অ্যাটিটিউড বদলে গেছে?
দিতিপ্রিয়াএই কথা আমার কানেও এসেছে। আসলে কেউ যদি একটু কাজেকর্মে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন তখন তাঁকে নিয়ে কিছু মানুষের চর্চা বা গসিপ করা অভ্যাস। এটা করে তাঁরা আনন্দ পান। তাঁদের আনন্দ বজায় থাকুক সেটাই চাই(হেসে)। তবে কারা এসব কথা বলেন তা আমার জানা নেই। আমার নতুন লোকজনের সঙ্গে মিশতে একটু সময় লাগে। আমি একটু অন্তর্মুখী স্বভাবের। আমার নিজস্ব একটা গ্রুপ আছে, তাঁদের সঙ্গেই মেলামেশা করি। যারা বেশিরভাগই আমার স্কুলের বন্ধু। আমি একেবারে পার্টি, ক্লাব করতে পছন্দ করি না। সেটাও হয়তো কারোর সমস্যা হতে পারে। ঠিক জানি না কারা এসব রটনা করেন।
আপনি তো এখন ব্যস্ত শেডিউলে আছেন। নিজের পড়াশুনা আর অভিনয় ব্যালেন্স করছেন কীভাবে? 
দিতিপ্রিয়া-
আমি তো এখন সোশিওলজি অনার্স নিয়ে আশুতোষ কলেজে পড়ি। ৮৪% নম্বর নিয়ে ফার্স্ট ইয়ার থেকে সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছি। এখন তো অনলাইন ক্লাস হয়। সেটা হয়তো অনেক সময় করতে পারি না। এটা একটা সমস্যা বটে। তবে বাড়িতে আর শ্যুটিংয়ের ফাঁকে পড়াশুনা করি। স্কুলে পড়াকালীন তো শ্যুটিংয়ের ফাঁকে পড়াশুনা করার অভ্যাস ছিলই। আশা করি আমার পড়াশুনা নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না।এ বছর পুজোর প্ল্যানিং কী?
দিতিপ্রিয়া- পুজোর ঠিক আগে কয়েকটা কাজ শেষ হবে। দুটো ছবির ওয়ার্কশপ শেষ করব।
এছাড়া পুজোর দিনে বিকেলে সময় পেলে নিজেকে গ্রুম করব। আর আমি যেখানে থাকি সেখানে পাড়ার পুজো সঙ্গে আমি যুক্ত। আমার ঠিক বাড়ির পাশেই রয়েছে রাইফেল ক্লাব। যেখানে প্রতি বছর আমরা ঠাকুর দিই। সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত সেখানেই কাটে। ওখানে স্কুলের বন্ধুরা আসে। সবাই মিলে হৈ হুল্লোড়, খাওয়া-দাওয়া, মজা করি, আড্ডা মারি। ছেলেবেলার থেকেই ঠাকুর দেখার শখ আমার ছিল না। আর এখন তো কোভিড পরিস্থিতিতে বাইরে সেভাবে বেরোনোর জো নেই। প্রতিদিন সকালে ঢাকের আওয়াজে আমার ঘুম ভাঙে। আর পুজোতে আমার বাবা ঢাক বাজান। আমার বাবা ফাটাফাটি ঢাক বাজাতে পারেন। আমি সকালে স্নান সেরে নতুন জামাকাপড় পরে প্যান্ডেলে চলে যাই। সারাটা দিন কীভাবে কেটে যায় বুঝতেই পারিনা। অষ্টমীর দিন মোমবাতি জ্বালানোর অনুষ্ঠান হয়। আমি আর পাড়ার কয়েকজন লাল সাদা রঙের জামাকাপড় বা শাড়ি পরি।

পুজোর শপিং শেষ?
দিতিপ্রিয়া- (হেসে) মুম্বই থেকে প্রচুর শপিং করেছি। মা আমার সঙ্গেই ছিলেন। বাবা, মার জন্য প্রচুর কিছু কেনাকাটা করেছি। তবে এখনও কিছু শপিং বাকি আছে। আমি খুব একটা শপিং পার্সন নই। আর খুব বেশি ভিড়ের মধ্যে শপিং করতে পছন্দ করি না। তবে এখন তো পুজোর ভিড় দোকানে থাকবেই। সাতসকালে বেরিয়ে একদিন যেটুকু কেনাকাটা বাকি আছে তা সেরে ফেলব। প্রচুর মানুষকে আমি উপহার দিই। সেগুলো কিনব। এছাড়া মায়ের শাড়ি কেনা হয়নি সেটা কিনব। মুম্বই থেকে নিজের জন্য আমি বেশ কিছু পোশাক কিনেছি। এছাড়া অনলাইনে কয়েকটি পোশাক কেনার ইচ্ছে আছে(হাসি)।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.