HeaderDesktopLD
HeaderMobile

পুজোয় পাড়ার নাটকে প্রথম অভিনয় ‘মেঘে ঢাকা তারা’র নীতা! ওয়াল আড্ডায় তনিমা

0

টলিপাড়ায় হাসির আর এক নাম তনিমা সেন (tanima sen)। ইন্ডাস্ট্রিতে পুরুষ কমেডিয়ান অভিনেতা অনেক এসেছেন– ভানু, জহর, রবি, অনুপ, কাঞ্চন প্রমুখ। কিন্তু মহিলা কমেডিয়ান বিরল। এ যুগের অন্যতমা হাসির সম্রাজ্ঞী তনিমা সেন। ‘দ্য ওয়াল’ পুজো আড্ডায় তনিমা সেনের সঙ্গে কথায়-কথায় শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তনিমা সেন পর্দায় আসা মানেই হাসি। নিজের জীবনের স্ট্রেস কন্ট্রোল করে মানুষকে এতকাল হাসিয়ে চলার ম্যাজিক কী?

এই কথাটা যতবার শুনেছি, আমাকে দেখলেই মানুষের মন ভাল হয়ে যায় সেটা যেন দায়িত্ব হয়ে আমার ঘাড়ে চেপে বসেছে। আমায় যেন কিছুতেই দুঃখী মুখ করে থাকলে চলবে না। সেটাই করতে করতে অভ্যেস হয়ে গেছে। এখন আর দুঃখটাকে দুঃখ ভেবে গায়ে মাখতে পারি না।

পুজোয় কিশোরীবেলার বন্ধুদের কথা মনে পড়ে?

আমি তো শ্যামবাজারের মেয়ে। উত্তর কলকাতার পাড়া-কালচারে মানুষ। আমাদের পুরো গলিটাই ছিল একটা পরিবার। আমার মেয়ে বন্ধু ছিল হাতে গোনা দু-একটা। তারাও একটু মস্তান টাইপের। পাঁচিলে ওঠা, পড়ে গিয়েও না কাঁদা, সারাদিন মা-বাবার কাছে মারধর খাওয়া মেয়ে। আর পাড়ার সব ছেলেরাই ছিল আমার বন্ধু। ছেলেদের সঙ্গেই ছিল আমার খেলাধূলো।আপনার অভিনয়ের হাতেখড়ি তো পাড়ায় পুজোর নাটকেই?

তখন সবে-সবে বিয়ের পর সংসার পেতেছি সল্টলেকে। প্রথম অভিনয় করি সল্টলেকের আবাসনে পুজো প্যান্ডেলের নাটকেই এবং সেটা ভীষণ সিরিয়াস নাটক। ‘মেঘে ঢাকা তারা’-র নীতা।

সেসময় সল্টলেক ক্যাম্পাসের বাচ্চা ছেলেমেয়েদের নিয়ে রবীন্দ্র গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্যও করিয়েছিলাম। আমি নাচ শিখিয়েছিলাম বাচ্চাদের। ওখানে নাটকের পরিচালক ছিলেন প্রেমাংশু সেনগুপ্ত নামের একজন। তিনি আমাকে দেখে বলেন ‘মেঘে ঢাকা তারা’র নীতা যদি কেউ করতে পারে সেটা তনিমাই পারবে। কিন্তু সবাই ওঁর মতের বিপক্ষে বললেন “তনিমা সারাদিন হাহা হিহি করে বেড়ায়, ওর পক্ষে নীতার রোল করা অসম্ভব।”তারপর আপনি কী করলেন?

আমি চুপচাপই ছিলাম। প্রেমাংশুদা বলেছেন যখন, করতে রাজি হয়ে গেছিলাম। তো আমি করলাম নীতার রোল এবং অভাবনীয় সাফল্য পেল আমার প্রথম অভিনয়। সবাই ভেবেছিল পাড়ার লোক সব চরিত্র করলেও নীতাকে বোধহয় বাইরে থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল। প্রেমাংশুদা বলেছিলেন যে, ‘তনিমার চোখ দেখে বুঝেছিলাম ও নীতা পারবেই।’

আপনি কি সুপ্রিয়া দেবীর নীতা দেখেছিলেন অভিনয় করার আগে?

না একদম না। বোধহয় দেখিনি বলেই ভাল করতে পেরেছিলাম নিজের মতো। আর বোকারা কিছু না ভেবে করে তো, তাই তাদের কোনও টেনশন থাকে না। যেমন শেষ দৃশ্যে আমি যখন বলছি “দাদা আমি বাঁচতে যাই” তখন নার্স ঢোকার সিন ছিল। সে নার্স আর ঢোকে না। আর এদিকে আমি বলে যাচ্ছি “দাদা আমি বাঁচতে যাই”। নার্স ঢুকবে কী, আমার অভিনয় দেখে সে হাউহাউ করে কাঁদছে নিজের পার্ট ফেল করে। শেষে তাকে ঠেলে মঞ্চে ঢোকানো হয়েছিল।

পরে বেণুদির “দাদা আমি বাঁচতে যাই” দেখে ভেবেছিলাম কোন দুঃসাহসে আমি পার্টটা করেছিলাম কে জানে! পরবর্তীকালে সুপ্রিয়া দেবীর সাথে আমার অভিনয় করার সুযোগও হয়েছিল।

মেয়ে, জামাইয়ের সঙ্গে তনিমা।

পুজোর গান বলতে আপনার কাছে কী?

আমার সবসময় পছন্দ হেমন্ত-সঙ্গীত। আমি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পাগল ফ্যান। সারাদিন আমার বাড়িতে, গাড়িতে হেমন্তর গান চলে। সাগ্নিক সেন যে আজকাল খুব হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান গায়, ও আর আমি তাই খুব বন্ধু। সাগ্নিক আমায় প্রচুর হেমন্তর বিরল গান পাঠায়। আমি তাই সাগ্নিকের গানেরও ভক্ত। অনেকেই বলেন, সাগ্নিক সেন আর তনিমা সেন কি দুজনে কি আত্মীয়! আমি বলি হ্যাঁ, আমরা হেমন্ত-আত্মীয়।এবারের পুজোর শপিং করেছেন?

এবারে পুজোর আগে এমন ক’জন কাছের মানুষকে হারিয়েছি যে পুজো-শপিংয়ের বিন্দুমাত্র ধারেকাছে যাইনি। কোনও বছরই যে আমি খুব একটা শপিং করি, তা নয়। বেশিরভাগই পুজোতে পাওয়া-থোওয়া দিয়ে হয়ে যায়। এবার সবাইকে দিতেও বারণ করেছি পুজোতে। তবে চলছে ভালই, যাচ্ছি তো সব চ্যানেলের পুজো আড্ডা, রান্নাবান্নার শোগুলোয়। হাসাহাসি করে কাজ করে চলেছি।আগে তো টিভি খুললেই আপনাকে দেখা যেত সে ‘লাবণ্যের সংসার’ হোক বা ‘সোনায় সোহাগা’ বা ‘রোজগেরে গিন্নি’র সঞ্চালিকা হিসেবে। আপনাকে আজকাল আমরা কম পাচ্ছি কেন?

ডাকে না তাই। আমার একটা রোগ আছে, কাউকে ফোন করে বলতে পারি না, আমি ফাঁকা আছি কাজ দিন। ডাকলে তো কাজ করব! তবে রোজই কাজ করছি, শ্যুটিং করছি। নতুন চ্যানেল ‘এন্টার টেন বাংলা’-তে ‘সাগর জ্যোতি’ নামে একটা মেগাতে রোজই কাজ করছি। নতুন চ্যানেল তাই লোকে খুব একটা জানে না।‘সাগর জ্যোতি’-তে বহুবছর পর আমি আর চান্দ্রেয়ী ঘোষ শাশুড়ি-বউমা হয়েছি। আমাদের শাশুড়ি-বউমা জুটি আইকনিক হিট ছিল ‘লাবণ্যের সংসার’ সিরিয়ালে। তবে  ‘সাগর জ্যোতি’-তে আমাদের দুজনের চরিত্রের ভীষণ অমিল। চান্দ্রেয়ী ভীষণ নেগেটিভ চরিত্রে আর আমি পজিটিভ চরিত্রে। কিন্তু আমরা খুব আনন্দ করে কাজ করছি, মনে হচ্ছে যেন ‘লাবণ্যের সংসার’ এই দশ দিন আগে শেষ হয়েছে। ‘সাগর জ্যোতি’ সবাইকে দেখতে বলছি। তাহলেই আমাকে দেখতে পাবেন।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.