HeaderDesktopLD
HeaderMobile

পুজো মানেই মনে পড়ে আমার মায়ের সিঁদুরমাখা সেই মুখটা: পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়

0 482

বাংলার ছোট ও বড় পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়। যেমন কাজ করেছেন ঋতুপর্ণ ঘোষ, তরুণ মজুমদারদের সঙ্গে, তেমনই হরনাথ চক্রবর্তী, প্রভাত রায়, রাজ চক্রবর্তীর বাণিজ্যিক ছবিতেও সফলতার সঙ্গে কাজ করে বুঝিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী হিসেবে তিনি কতটা বড় মাপের। আবার ছোট পর্দাতেও অন্তরালে, একদিন প্রতিদিন, প্রতিবিম্ব, রাজা গজা, দ্বিরাগমন সিরিয়ালে একের পর এক ভাল অভিনয় দর্শকদের উপহার দিয়েছেন পুষ্পিতা।

পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায় তাঁর জীবনে পুজোর নানা নস্ট্যালজিক গল্প বললেন দ্য ওয়ালের প্রতিনিধি শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে

পুজোর পত্রিকা, পুজোর গান মিস করি

ছোটবেলায় মধ্যমগ্রামে যে দুর্গা মণ্ডপ ছিল, সেখানে অঞ্জলি দিতে যেতাম মায়ের সাথে। অষ্টমীর দিন আমাদের একটা স্পেশ্যাল রান্না হত। বাবা সেই রান্নার প্রিপেরাশানটা রেডি করে রাখত যখন আমি আর মা অঞ্জলি দিতে যেতাম। ছোটবেলায় মা অর্ডার দিয়ে পুজোর জামা, বিভিন্ন রকম ড্রেস বানিয়ে দিত। আমার মামারবাড়ি যেহেতু কলেজ স্ট্রিটে ছিল, তাই ওই মধ্য-উত্তর কলকাতার ঠাকুর আমরা ছোটবেলায় খুব দেখতাম। মহম্মদ আলি পার্ক, কলেজ স্কোয়ার, সিমলা ব্যায়াম সমিতি তো যেতামই। একবার বাবা যাত্রা দেখাতে নিয়ে গেছিল মহাজাতি সদনে। আগে তো পুজোয় শারদীয়া পত্রিকার আমেজ ছিল। ছোটবেলায় আনন্দমেলা, শুকতারার আলাদা আকর্ষণ ছিল। গত বছরও বাবা আমাকে কিনে দিয়েছিলেন। পুজোর গান হত তখন, প্যান্ডেলে পুরনো গানের সঙ্গে নতুন গানগুলোও বাজত। এখন সেই আকর্ষণটা হারিয়েছে।

পুজোয় মা দুর্গার সঙ্গে আমার মাকেও সাজাতাম

যখন বড় হলাম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করলাম কলকাতায় এসে, তখন ঘুরেঘুরে ঠাকুর দেখাটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে বিভিন্ন উদ্বোধন,পুজো বিচারক হয়ে যাওয়া– সেই সূত্রে যেটুকু ঠাকুর দেখা হত। তার পর তো বাবা, মা, আমি ঠাকুরপুকুর হাউজিংয়ে চলে এলাম। সেখানে পুজো হয়। তার পরে কাজ আরও বেড়ে গেল। পুজোর আগে বহু পত্রিকায় শাড়ির মডেল হতাম, সেই শাড়িগুলো উপহারও পেতাম। আমি তো শাড়ি অত পরতামনা, তাই এসে শাড়িগুলো মাকে গিফট করতাম। আমার মা কে সাজাতে খুব ভাল লাগত। পুজোয় আমার মায়ের সাজটাও এক্সক্লুসিভ শাড়িতে সবার থেকে আলাদা হয় যেন, এটাই চাইতাম।

পুজো মানেই মা কে মনে পড়া

মা দুর্গার যেমন বাপের বাড়ি আসেন তেমনি আমাদের মেয়েদেরও বাপের বাড়ি ফেরা পুজোয়। মায়ের কথা বলি, আবাসনের পুজোতে ঐ যে আগে মোমবাতি জ্বালানোর প্রতিযোগিতা, শঙ্খধ্বনি প্রতিযোগিতা হত ওগুলোতে মা অংশগ্রহণ করত। আর সবচেয়ে ভাল লাগত বিজয়া দশমীর পর মায়ের ওই সিঁদুর মাখা মুখটা। আমার যে কী ভাল লাগত মা যখন সিঁদুর খেলে আসত। মাকে ক্যানসারে হারানোর পরে পুজো এলেই মায়ের কথা খুব মনে পড়ে। মায়ের শেষবার পুজোয় হাউসিংয়ে পুজো হচ্ছে অথচ মায়ের নেমে যাওয়ার মত শক্তি নেই। শারীরিক কষ্টের চেয়েও মানসিক কষ্ট বেশি পেয়েছেন। সবাইকে নিয়ে হৈহৈ করা মানুষটা খুব কষ্ট পেয়ে চলে গেলেন।

আমার প্রতি জন্মদিনে মা একটা সোনার গয়না গড়িয়ে দিতেন। শেষবারও দিয়েছেন। আর বাবা আছেন। বাবার সঙ্গে যতটা পারি সময় কাটাই। একসঙ্গে সবাই ঘুরতে, খেতে যাই। এখন বন্ধ এসব অবশ্যি করোনায়।

আর আমার না ছোটবেলা থেকে সিঁদুরের প্রতি খুব আকর্ষণ ছিল। প্রথম প্রথম যখন শ্যুটিং করি তখনও যদি সিঁদুর পরে কোনও দৃশ্য থাকত, আমি মেক আপটা তুলতাম না একেবারে সিঁদুর পরেই বাড়ি চলে যেতাম। তখন আমার বিয়ে হয়নি। যতক্ষণ থাকে আর কি সিঁদুরটা, আমার খুব ভাল লাগত।

বিয়ের পরে ফিরে এল ছোটবেলা

বিয়ের পরে আমার সেই ছোটবেলাটা আবার ফিরে এসেছে কারণ আমার বর খুব হুজুগে। আমার কর্তার পায়ের তলায় সর্ষে। বিয়ের পরেও আমার পুজোয় জাজমেন্ট ইভেন্ট থাকে। এখন তো মহালয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায়। এগুলো ছাড়াও বর ছেলের সঙ্গেও আমাকে বেরোতে হয় ওদের পাল্লায় পড়ে।

একটা অভিযোগ রয়েছে ওদের, আমার বর-ছেলের অফিস আর স্কুল পুজোর সময়টায় লম্বা ছুটি থাকে তাই এই সময়টা ওরা আশা করে বাইরে ঘুরতে যাবে। কিন্তু পুজোতে আমার প্রচুর ইভেন্ট থাকে ওদের সঙ্গে যেতে পারব না বলে ওরাও যেতে পারেনা। আর এবার কোনও ইভেন্ট ছিল না, তাও করোনার কারণে যেতেও পারলাম না।

আন্তরিক ভাবে খাবার পরিবেশন

আমাদের বাড়ির পাশে মিত্র বাড়ির পুজোও আমার খুব প্রিয়। ওখানে কুমারী পুজো, হোম হয়। ওখানেও সিঁদুরখেলা হয়। সবথেকে ভাল লাগে পরিবেশন করতে। দুপুরে যে খাবার ব্যবস্থা হয়, সেখানে সবাই অপেক্ষা করেন কখন আমি পরিবেশন করব। একবার আমি পরিবেশন করতে পারিনি, কাজ পড়ে গেছিল। সেবার মিত্র বাড়ির সবাই বলেছিল ‘পুষ্পিতা তোমার পরিবেশন খুব মিস করলাম।’

এরকম একটা পুজো আগে কোনও দিন কাটাইনি। সারাবছর অপেক্ষা করে থাকি পুজোর জন্য, সেটা এবছর নষ্ট হয়ে গেল। এরকম পুজো আসুক আর চাই না।

এবার ঘরে বসে নতুন একটা ইউটিউব চ্যানেল খুললাম আমরা ‘ক্রিয়েটিভ জোন’ বলে। সেখানে আমার গান, আবৃত্তি থেকে আমার ছেলের আঁকা, আবৃত্তি, নানা ভাল থাকার টিপস– সবই রাখছি। সৃজনশীল মননটাকে বাঁচিয়ে রাখলে মন খারাপটা কমে এই রকম বিচ্ছিন্ন সময়ে।

সবাই ভাল থাকুন। শারদীয়ার শুভেচ্ছা।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.