HeaderDesktopLD
HeaderMobile

ছোটবেলায় সারারাত নাটকের মহড়া শেষে ভোরে দেখতাম কলাবৌয়ের স্নান: মাধবী

0 485

তিনি চারুলতা, তিনি সুবর্ণলতা, তিনি আরতি, তিনিই মৃণাল। তিনিই প্রথম পুরনো যুগের বাঙালি নায়িকা, যিনি উর্বশী পুরস্কার পেয়েছিলেন, যে পুরস্কার এখন নাম বদলে হয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্মান, জাতীয় পুরস্কার। ১৯৬৯ সালে ‘দিবারাত্রির কাব্য’ ছবির সেই নায়িকা মাধবী মুখোপাধ্যায় অবশ্য এসবে নির্লিপ্ত। অহংবোধের স্পর্শটুকুও নেই ব্যবহারে। সাদামাঠা যাপনের মানুষটির সঙ্গী এখন একাকীত্ব। তা থেকেই টেলিফেনে খানিক গল্প করলেন দ্য ওয়ালের প্রতিনিধি শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে।

এমন পুজো কখনও দেখিনি

এবার পুজোও সেই একাই কাটবে। টেলিফোনে বললেন, “আমি তো একাই থাকি একাই আছি। এই করোনার জন্য এখন লোকজন আসা বন্ধ, কাজের লোকজকেও আসতে বারণ করেছি। নিজেই রান্নাবান্না করছি। এতগুলো মাস ধরে গৃহবন্দি।। আর কি ভালো লাগে? কতদিন বসে থাকা যায় এভাবে? পুজো এসে গেল, কোনও লোকের মুখ দেখা নেই। এ কেমন পুজো? এরকম পুজো যে আমার জীবদ্দশায় দেখতে হবে ভাবিনি।”

তবে আবাসনের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে চারুলতার। গল্পগাছাও হয়, সামাজিক দূরত্ব মেনে। তবে পুজোর প্রসঙ্গ আসতেই মুখ ভার করছেন তিনি। বিষাদ ভরা কণ্ঠে বললেন “এবার কি পুজোর আনন্দ করার মানসিকতা আছে? সারা জীবনে এরকম লকডাউন দেখিনি। এক সময়ে কারফিউ দেখেছিলাম, মহামারী দেখেছিলাম। কিন্তু সেই কারফিউ সাময়িক ছিল। সেই মহামারীও বিশ্বব্যাপী মানবসভ্যতাকে এমন থমকে দেয়নি। এ কী চলছে! বাড়ির মানুষের সঙ্গেও সময় কাটানোর উপায় নেই, সেখানেও তো দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হচ্ছে!”

Soul of masterpiece is not just the award: Madhabi Mukherjee

এবার শুধুই বিষাদ

মাধবী বলে চলেন, “আমার দুই মেয়ে মিমি আর ঝুমি। দুজনেই প্রতিষ্ঠিত, ওদের আলাদা সংসার আছে। এক মেয়ে দুবাইয়ে থাকে, আর এক মেয়ে কাছেই থাকে, লেক গার্ডেন্সে থাকে। নাতি-নাতনিরাও আছে। ফোনে মেয়েরা খবর নেয়। এক-দু দিন মিমি না হয় এল, ওরও কাজ আছে সংসার আছে। আমি কোথাও ফাংশনে গেলে ইদানীং মিমি আমার সঙ্গে যেত। কিন্তু এবার কি সবাই আসতে পারবে এই করোনার মধ্যে? সম্ভব? দুবাই থেকে না আদৌ সম্ভব, না নিরাপদ।

Exotic and irrational entertainment: Mahanagar

এ পুজো আর পাঁচটা লক ডাউনের মতোই আমার কাছে। কোনও আনন্দ নেই এই পুজোয়।”

ছোটবেলায় দেখা কলাবৌয়ের স্নান

তবে এবছরের বিষাদ মলিন করতে পারেনি তাঁর স্মৃতি। মাধবী জানালেন “ছোটবেলাতেই থিয়েটার জগতে অভিনয় করতে চলে আসি। আমার মা ছিলেন মঞ্চের অভিনেত্রী লীলা মুখোপাধ্যায়। তখন শিশু চরিত্রেই বেশীরভাগ অভিনয় করতাম। পুজোয় কোনও দিন সেভাবে আনন্দ করার সুযোগ পাইনি আমার বয়সী বাচ্চাদের মতো, কারণ শো থাকত। আমার অনেক পুতুল ছিল, কিন্তু খেলার সময় ছিল না।

The trauma of refugee life and its... - Madhabi Mukherjee | Facebook

সারা দিন তো নাটক, নাটকের মহড়াতেই সময় চলে যেত। দুর্গাপুজোর আগের দিন গোটা রাত মহড়া হত। সকালে ঘুমে জড়িয়ে আসত চোখে। তখন আমরা বাগবাজার স্ট্রিটে থাকতাম। ভোরবেলা মহড়া শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে দেখতাম,  সপ্তমীতে কলাবৌকে স্নান করাতে নিয়ে যাচ্ছেন সবাই। তখন তো সপ্তমী থেকেই পুজো শুরু হত। মহালয়া থেকে নয়। দুর্গোৎসবের আনন্দ পেয়েছি জীবনে অনেক পরে, পেশার চাপ একটু কমলে।”

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.