রাঁধতে খুব ভালবাসেন বুলবুলি, খেতে নয়! কইমাছের হরগৌরীর রেসিপি দিলেন পুজোয়

0

বুলবুলি পাঁজা, ছোট পর্দা ও বড় পর্দার চেনা মুখ মিষ্টি অভিনেত্রী। সিরিয়াল, সিনেমার শ্যুটিংয়ের ফাঁকেই তিনি অবসরযাপন খুঁজে পান রান্নাঘরে। সবাই যখন লকডাউনে রান্না করার চাপে ক্লান্ত, বুলবুলি তখন দিব্যি খুশি রকমারি রান্নাতেই। সেই বুলবুলি দিলেন এবারের পুজোর রেসিপি ‘কই মাছের হর গৌরী’। শুনলেন শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

চাইনিজ থেকে মোগলাই,বাঙালি থেকে কন্টিনেন্টাল, সব রান্নাতেই প্রথমা বুলবুলি। তবে বুলবুলি নিজে কিন্তু খুব সাধাসিধে খাবার খান। বললেন, “আমি মশলাদার খাবার একদমই খেতে ভালোবাসি না। খুব সাধারণ ডাল, ভাত, আলুভাজা, পোস্তবাটা আমার প্রিয়। কিন্তু আমি দেশ-বিদেশের রকমারি রান্না করতে পারি। বেশিরভাগ মানুষই রান্না করার পাশাপাশি খেতেও ভালোবাসেন। আমি একদমই উল্টো। রান্না করতে, খাওয়াতে আমি ভালবাসি, কিন্তু নিজে খেতে মোটে ভালবাসি না। আমি খুব চালাক আসলে, জানি তো রান্নাগুলোয় কত তেল, মশলা, ঘি দিয়েছি, তাই সেসব রান্না আমি ভুলেও মুখে তুলি না। সবাই খেয়ে ভাল ভাল বলেন।

পুজো নিয়ে বলতে গেলে আমার শ্বশুরবাড়ির গ্রামের বাড়িটা যৌথ পরিবার বর্ধমানে। ওখানে দুর্গাপুজো হয়। তবে আমরা এবার যাচ্ছি না, আমার শাশুড়িমা শুধু যাবেন। উনি মিস করতে চান না। গ্রামে এবার ঘটে-পটে খুব ছোট করে পুজো হচ্ছে। যতদিন আমার জ্যাঠা শ্বশুরমশাই বেঁচে ছিলেন ততদিন আমরা প্রত্যেকবারই গ্রামের পুজোয় যেতাম। এবার করোনার জন্য গ্রামে যাওয়া কলকাতা থেকে ঠিক নয়। তবে আমি,আমার ছেলে আর বর এবার তারাপীঠ যাচ্ছি পুজোয়।

পুজো বলে নয় আমি বেশিরভাগ সময়েই রান্নাঘরেই কাটাই সময় পেলে। লক্ষীপুজো আর সরস্বতীপুজো আমার বাড়ি বড় করে হয়। বরের বন্ধু বান্ধব,আমার দাদা-বৌদি, ননদ-নন্দাইরা আসেন। তাই রান্নাবান্না লেগেই থাকে।

আমি পুজোর রেসিপিতে সবাইকে আজ শেখাব কই মাছের গঙ্গা যমুনা বা যার আর এক নাম কই মাছের হরগৌরী।

প্রথমে কই মাছ ভাল করে ধুয়ে নুন হলুদ মাখিয়ে রাখতে হবে। তার পর কালো সর্ষে, কাঁচা লঙ্কা অল্প নুন দিয়ে বেটে নিতে হবে ভাল করে। আমি সবসময় সর্ষে বাটা ছেঁকে ব্যবহার করি। তাহলে সরষের খোসা না থাকায় পেটের গন্ডগোল হয় না এবং জিনিসটা দেখতেও সুন্দর ক্রিমি লুক আসে। স্বাদও ভাল হয় রান্নার। তাই সর্ষে বাটা ভালে করে ছেঁকে নিয়ে একটা বাটিতে রাখতে হবে। অন্যদিকে একটুখানি তেঁতুল জলে ভিজিয়ে বেশ মোটা করে তেঁতুলের কাথ করে নিতে হবে।

এবার একটা ফ্রাইং প্যানে ভাল করে মাছগুলো ভেজে নিতে হবে। তার পরে একটা ফ্রাইং প্যানে কালো জিরে ফোড়ন দিয়ে,  সর্ষে বাটাটা দিতে হবে, সঙ্গে কাঁচালঙ্কা। টগবগ করে ফুটে উঠ কই মাছের একটা পিঠ দিতে হবে তার ভিতর। একপিঠ সর্ষে মেখে গেলে খুব আলতো করে তুলে রাখতে হবে।

এর পরে অন্য ফ্রাইং প্যানে সরষের তেল দিয়ে পাঁচফোড়ন আর শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিতে হবে। তাতে তেঁতুলের কাথ দিয়ে, তাতে অল্প চিনি, হলুদ, শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো দিতে হবে। টগবগ করে ফুটে উঠলে স্বাদমতো নুন মিষ্টি দেবেন। কই মাছের যেদিকে সর্ষে বাটা মাখা আছে, তার উল্টো পিঠটা তেঁতুলের মশলায় বসিয়ে দিতে হবে খুন্তি করে তুলে।

কিছুক্ষণ রেখে তুলে নিতে হবে, হয়ে গেল কই মাছের হর গৌরী বা গঙ্গা যমুনা। পরিবেশন করার সময়ে একটা সাদা প্লেটে দিলে দেখতে খুব ভাল লাগবে। দুটো মাছ দিলে প্লেটে একটা মাছের এক দিক থাকবে সরষের দিকটা তার উপর কাঁচালঙ্কা এবং আরেকটা মাছের তেঁতুলের দিকটা থাকবে তার উপর শুকনো লঙ্কা। প্রতিটি মাছের দুপিঠ যেন মিশে না যায় তাই গায়ে-গায়ে নামাতে হবে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.