HeaderDesktopLD
HeaderMobile

আরাধনা নেই, শুধুই আড়ম্বর! করোনা পরিস্থতিতে পুজোর এত জাঁক মানতে পারছি না: বিপ্লব

0 2,807

একসময় টলিউডের শ্রেষ্ঠ ভিলেন বলতেই মনে পড়ত তাঁর মুখ। তবে শুধু ভিলেন নয়, তিনি একজন বলিষ্ঠ অভিনেতাও। প্রজাপতি, অভিমুন্য, একান্ত আপন, জয় বাবা ফেলুনাথ, প্রতিকার, পাতালঘর, দেবীপক্ষ,অসুর– অজস্র ছবিতে তিনি বর্ণময় চরিত্রে মাতিয়েছেন দর্শকদের। আবার মঞ্চেও ‘শকুনির পাশা’ নাটকে তাঁর অবিস্মরণীয় অভিনয় ভোলা যায় না। তিনি বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়। এবারের পুজো নিয়ে তাঁর মনমেজাজ মোটেও ভাল নেই। জানালেন দ্য ওয়ালের প্রতিনিধি শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে

মাকে ডাকা হচ্ছে না, মাকে ঘুষ দেওয়া হচ্ছে

আমার মনে হয় আমরা কেউই অন্তত মনের দিক থেকে ভাল নেই এই সময়ে। তবে যাঁরা সব ভুলেও মোচ্ছবে মেতে আছেন, তাঁরা ভাল আছেন বৈকি। উৎসবের নামে এই আড়ম্বর এবার আমার কাছে একদম অপ্রয়োজনীয় ঠেকেছে। আমি কিন্তু পুজোটা বন্ধ করার কথা বলছি না, কিন্তু এত আড়ম্বরে কি সত্যি মায়ের আরাধনা হচ্ছে? মাকে ডাকা হচ্ছে না এটা, মাকে ঘুষ দেওয়া হচ্ছে। আমার একটা ছবিতে ডায়ালগ ছিল, “মাকে এত ভালবাসে সবাই যে মাকে সবাই রাজভোগ খাওয়াচ্ছে। তাতে করে রাজভোগ খেতে খেতে মায়ের অম্বল হয়ে গেছে, কিন্তু মাকে অ্যান্টাসিড দেওয়ার লোক পাওয়া যাচ্ছে না।”

সিপিএম ছিলাম, আছি, থাকবো, আমার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই - বিপ্লব  চট্টোপাধ্যায় - People's Reporter

বড় প্যান্ডেলে অঞ্জলি দিতে মা বলেছেন কি?

এই সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা। পুজোর খরচটা গরিব মানুষের জন্য খরচ করলে মহামায়া অনেক শান্তি পেতেন। পুজো নিয়ে আমার কোনও সমস্যা নেই, এই পদ্ধতিটা নিয়ে আছে। আমি যেমন এবার বাইরে অঞ্জলি দিতে যেতে পারব না। কিন্তু আমার বাড়িতে একটি ছোট্ট দুগ্গা ঠাকুর আছে, চালচিত্রের। আমি এবার অষ্টমীতে তাঁর সামনে অঞ্জলি দেব। বড় প্যান্ডেলে গিয়ে বড় ঠাকুরের সামনে অঞ্জলি দিতে এটা কি মা দুর্গা বলেছেন?

কিন্তু আমাদের এটাই প্রচলন হয়ে গেছে। পুজোর নামে গান বাজবে, নাচবে, তাসা বাজবে এটা কি এসময় খুব দরকার? আমার মনে হয়, না।

আগে আরাধনা হতো, এখন শুধুই হুল্লোড়

এখন পুজো মানেই হুল্লোড়। আগে তো সত্যিকারের দেবী আরাধনা হত। আমরাও পুজো করেছি ছোটবেলায়। শ্যামবাজারে থাকতাম। আমাদের দেশবন্ধু পার্কে পুজো হতো। এখন তো পুজোর নামে ক্লাবগুলো কেবলই হল্লায় মাতে। সেইসঙ্গে যেভাবে চাঁদার জুলুম বাড়ছে এই করোনা পরিস্থিতিতেও, তা কহতব্য নয়।

দুষ্টু বিপ্লবটা ভ্যানিশ - Anandabazar

আমার বারবারই মনে হচ্ছে এবছর ক্লাবে ক্লাবে বড় করে পুজোর দরকার ছিলনা। আনন্দ করার সময় অনেক পড়ে আছে। এই ঠাকুরের উদ্বোধন থেকে শুরু করে আরো যা যা চলবে তাতে এত গাড়ি, এত মানুষ– এই করেই তো করোনা আরও ছড়াবে।

সেকালে পুজোয় থিয়েটার পাড়া

তখন পুজোতে থিয়েটার হত মানে সাঙ্ঘাতিক। থিয়েটার পাড়াটা পুরো লোকে লোকারণ্য থাকত। ঠাকুর দেখার সঙ্গে-সঙ্গে লোকে নাটকও দেখতে আসত। এখন তো পেশাদারী মঞ্চ বন্ধই হয়ে গেছে। অনেক দিন হল অন্ধকার থিয়েটার পাড়া। আসল ব্যাপারটা কী হয়ে গেছে, আমরা ব্যক্তিগত ভাবে সবাই লোভী হয়ে গেছি। আরও চাই, আরও চাই মানসিকতা হয়ে গেছে। এ জন্যই আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। পুরনো সংস্কৃতি সব হারিয়েই গেল।

Tollywood actor turned politician Biplab Chatterjee joins BJP

কাজে থাকতে চান অভিনেতা

লকডাউনে লেখাপড়ার কাজ কিছু করছি। শরীর আমার একেবারেই খারাপ নয়, কিন্তু মনটা খারাপ। আমার একটা হলে  থিয়েটার করবার জন্য অগ্রিম দেওয়া আছে। পনেরই অক্টোবর শুনলাম সব হল খুলছে। রিহার্সালটা তো দরকার। আমি তো আমার ছেলেদের বলেছি যারা পার্ট করে আমার নাটকের দলে আবার শুরু করব। আস্তে আস্তে পুজোর পর থেকে বসব আর কি।পুজোয় সবাই ভালো থাকুন। শারদীয়ার শুভেচ্ছা। সবাই সুস্থ থাকুন।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.