HeaderDesktopLD
HeaderMobile

সেলাইদাগের মতো মায়ের পায়ের হাড় কাঁপে 

0

রাজদীপ রায়

 

ঢাকের আলগোছ শব্দে ঘুম ভেঙে একসময় পুজো আসতসমবয়স মিশে যেত অসমবয়সে, এমন পুজোও আসতএখন মেয়ের সুখানুভূতির সঙ্গে মিলেমিশে পুজোকে দেখবার চেষ্টা করিআদতে চেষ্টাই করি না; চুপ মেরে পড়ে থাকি কোথাওক্রমে-ক্রমে দেখতে পাই আমার শুয়ে থাকবার বিছানা অদৃশ্য হচ্ছে, বসে থাকার চেয়ার কোথায় হাপুস মিলিয়ে গেলএমনকি যে-ঘরের মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়ে মনোযোগ অর্জনের চেষ্টা করেছিলাম, সেও তো কোথায় মিলিয়ে গেছে! এখন আমার কোনও ঘর নেই। বসে পড়বার সুনির্দিষ্ট জায়গা নেইলেখারও জায়গা আছে কি? বই-গাদা একটা স্বল্প পরিসরের ঘরে বসে রাতভোর পৃথিবীর আহ্নিক গতি অনুভব করতে করতে বুঝতে পারি, পাশের বাড়ির রেডিয়োতে মহালয়া শুরু হয়ে গেছেথার্মোমিটারের মতো ভেঙে পড়ছে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের গলাএকবছর ঘুরে গেল তাহলে! কত সফলতা-নিষ্ফলতা, কত মান-অভিমান, কত জয়-পরাজয় অর্থহীন হয়ে পড়ল রাতারাতিএসবের পাশ কাটিয়ে যখন দু-একটা কাশ ফুটে ওঠে, প্রবল গুমোটের মধ্যেও গায়ে কাঁটা দেয়প্রজন্মান্তরের চেতনায় এইসব বয়ে চলে পলির আকারেপ্রাচ্যের দুঃখবোধে মিশে যায় পাশ্চাত্যের বিষণ্ণতাঅনতিক্রম্য এক নিঃসঙ্গতার বিষাদে আক্রান্ত হয়েছি আমরানিজেকেও প্রশ্ন করে দেখেছি, এই দুঃখবোধের অস্তিত্ব কোথায়? আমি তো কষ্টবিলাসী বাবুটি নই তাহলে ছোটোবেলায় উত্তরাধিকার-সূত্রে পাওয়া সুখানুভূতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়ে পড়ল সাময়িক বিরক্তিতে, নির্বাচিত হতাশায়? তাহলে কি আমারই অজ্ঞাতে ওই অপঘাতী, সমাজবিপ্লবী বাবু-সিনড্রোমটি জীবাণু আকারে আমার মস্তিষ্কেও বাসা বানিয়ে ফেলেছে? না-চাইতেও আমি তার যোগ্যতম বাহক? 

আমার মা-কে কখনও কোনও ঐশ্বরিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখতে পারিনিদেখেছি দোষ-গুণ সমেতএভাবেই একজন মানুষকে বোঝা যায় বলে আমি বিশ্বাস করি

আস্তিক ও আচারপ্রবণ বাড়িতে জন্মে অবশ্য গোঁড়া-নাস্তিক হওয়া সম্ভব হয়নি কোনওদিনকিন্তু আচার-নিষ্ঠার বাইরে গিয়ে প্রকৃতির দৈনন্দিন ঘটনাপ্রবাহের ভালো-মন্দে মিশেই বুঝতে চেয়েছি একসময়ে— ঈশ্বর কী, ঈশ্বর কী নয়! সংশয়ে আচ্ছন্ন হয়েছিউদাসীন থেকেছিকিন্তু নিত্যদিনের দোষ-ত্রুটির ঊর্দ্ধে গিয়ে ঈশ্বর কিংবা মানব কোনও সম্পর্ককেই বুঝতে চেষ্টা করিনিবাবা-মায়ের মনের মতো সন্তান হতে পারিনি বলে ভেবেছি অনেকসেও একপ্রকার প্রশ্নের দিকেই আমার অনিঃশেষ যাত্রাছোটোবেলা থেকে যে-মা স্কুল নিয়ে গেছে, সেই মায়ের হাড়ে ঘুণ ধরেছেআর্থারাইটিসে পঙ্গু হয়ে পড়েছে ক্রমশবাড়ি থেকে কলতলা যেতেই যেন কয়েক যোজন পথ পেরিয়ে যেতে হয় সেই অতিক্রম দেখেছি, তবে দূর থেকেলেখালিখির প্রথম জীবনে মাতৃ-অনুষঙ্গে লেখা কবিতাগুলো যে সবই আমার নিজের মা-কে নিয়ে লেখা, তেমন নয়মা-কে নিয়ে শুরু করে সেই লেখা কোনও ব্যক্তিগত নির্যাস থেকে মহাপৃথিবীর ধারণায় পৌঁছতে চেয়েছে।  জন্ম প্রক্রিয়া ও তার সঞ্জাত মা-সন্তানের সম্পর্কের জটিলতা, মুক্তি-বন্ধন, শ্বাস ও দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে আবিষ্কার করতে চেয়েছি মহাজগতের নিয়মকেইমানব-অনুভূতির বিভিন্ন স্তরের বিন্যাসের সূত্রপাত এই সম্পর্কের মধ্যে দিয়েই হয়এই লেখাগুলি যেমন ব্যক্তিগত, তেমনিই নৈর্ব্যক্তিকআমার প্রথম বই ‘যদি না পুনর্জন্ম হয়’ শেষ হয়েছিল মা-কে নিয়ে লেখা কয়েকটি কবিতায়সেই বীজের সম্প্রসারণ হয় পরবর্তী বইতেশরত্‍কাল এলেই মনে হয় ‘ধানদূর্বার দেশ’ নামে একটা কবিতাবই আছেযদিও শরতে নয়, সেই বই বেরিয়েছিল ডিসেম্বরে, শীতেকিন্তু মাতৃ-ধারণার লেখাই এই বইয়ের সারবস্তু

‘নাড়ি ছিঁড়ে বাইরে না এলে পৃথিবীকে পাওয়া যায় নাগর্ভস্থ শিশু বুঝে উঠতে পারে না সেই গর্ভের সঙ্গে তার সম্পর্কবাইরে আসার পর সারাজীবন ধরে এই বুঝে ওঠার পালাএ-বইয়ের লেখাগুলি সেই বুঝে ওঠারই একচিলতে প্রয়াস মাত্র

উপরের এই কথাগুলোই লিখেছিলাম বইয়ের ব্লার্বেমাতৃ-আরাধনা নয়, মাতৃ-সম্পর্কের দ্বন্দ্ব ও বিরোধ, তার সংলগ্ন প্রেম-আর্তি-বিষাদ, সর্বোপরি জীবনের মহত্তম বিশ্বাসের উত্তরণ ও পতন— এইভাবেই এগিয়ে গেছে কবিতার ঋতুআমি শুধু সেই পরিবর্তনশীলতার সঙ্গে একাগ্র হতে চেয়েছি। 

অনর্থক কাশফুল নয়, হারিয়ে গিয়েছিলাম সেই মাংসে-মজ্জায়-স্তন্যে ও হৃদয়ে, যার কাছ থেকে পালাতে পারিনিপ্রথম লেখালিখির সময়ে মনে হয় যা-ই আমাকে আঘাত করবে, তা নিয়েই লিখতে পারিকিন্তু একসময় সেই চিন্তাস্রোত সুস্থিত হয় কোনও বিশেষ ভাবনা-বীজেমা-কে নিয়ে লিখে ফেলা কবিতাগুলো আমার সেই কেন্দ্রীভূত বীজমাতৃ-আরাধনা নয়, মাতৃ-চেতনার বীজপুরো একটা শরত্‍কাল আমার কেটে গেছে এই বইয়ের প্রুফ দেখেকাটাকুটি করেশব্দ পালটেনিজেরই অজ্ঞাতে যেন হারানো শৈশবের কাছে ফিরে যেতে চাইছিতখনও মেয়ে আসেনি আমার জীবনেকিন্তু তার আগমনের ইশারা পাচ্ছিএই বইয়ে নির্মিত দ্বান্দ্বিক সম্পর্কজগত সেই ভবিষ্যতের জন্যে ভূমি প্রস্তুত করে রাখছে‘ধানদূর্বার দেশ’ বেরিয়েছিল ২০১৪-য়; ডিসেম্বরেএর ঠিক এক বছর পরে ২০১৬-র জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘জন্মান্ধের আলো’-র উত্‍সর্গপত্রে ছিল এই ঘোষণা: ‘পৃথিবীর অনাগত সন্তানদের’এর মাঝখানে ঝরে গেছে আরেকটি শরত্‍কাল, পাণ্ডুলিপি তৈরি করে, বইয়ের প্রুফ দেখেঅর্থাত্‍ কোনওভাবে না-চাইতেও শরত্‍কাল আমার কাছে আপনা-আপনিই জন্মের ও অভিযোজনের তাত্পর্য নিয়ে এসেছেআমি জোর করিনি। 

আমার এক নিকট আত্মীয় মৃত সন্তান প্রসব করেআমাদের তখনও সন্তান হয়নিসেই দুর্ঘটনা আমাদের ভীষণ বিমূঢ় করে দেয়সেই অদেখা জাতককে নিয়ে কিছু লেখা হয়লেখাগুলোর শিরোনাম দিই ‘অন্তর্জলি’লেখার পরে অবাক হয়ে দেখছিলাম, লেখাগুলো কবি হিসেবে নয়, একজন হতভাগ্য মায়ের মন নিয়েই লিখেছিলাম, লিখতে পেরেছিলামযে সন্তান মৃত জন্মাল, সে কি সন্তান নয় আমার? তাকেও তো দশ মাসেরও অধিক সময়ে আনন্দে-উত্তেজনায় কত আশা নিয়ে বড় করেছিগর্ভের লালন সে পেল, কিন্তু গর্ভের বাইরে এসে সে জানল না কিছুইসম্পর্ক তৈরি হতে-হতেও গড়ে উঠল নাএকটি কবিতা ছিল এরকম: ‘কোলবালিশ জড়িয়ে শুলে মনে হয়/ তুই আছিস। আছিস! / সত্যিই আমি মা হতে চলেছি…’সন্তান আর গর্ভে নেই, এখন সে শুধুই স্মৃতিমায়ের মন এখনও মেনে নিতে পারেনিকোলবালিশ এখানে ওই মৃত সন্তানেরই প্রতিভূঅন্যমনস্ক হলেই মনে হয় ওই কোলবালিশ আসলে গর্ভস্থ শিশু, যার জন্মের সময় উপস্থিতপরক্ষণেই ভুল ভাঙেকিন্তু সেই বিলাপ এই লেখায় অনুপস্থিতবরং আঘাতের পর ক্ষণিকের জন্যে হলেও সেই মা বিশ্বাস করতে চাইছে, সে মা হতে চলেছেএই বিস্ময়ের আড়ালে যে কষ্ট রয়েছে, তা আমি অনুভব করতে চেষ্টা করিভাববার চেষ্টা করি নারীজন্ম; যে জন্ম পাইনি, তার অপেক্ষা, সহ্য, আহূতির অপরিসীম ব্যাপ্তিকোনওভাবেই আমি বিশ্বাস করি না, শুধুমাত্র গর্ভধারণের আধারেই নারীজন্মের সার্থকতা। খুব কষ্ট হয়েছিল যখন একজন মান্য কবি এই বইয়ের একটি লাইন উদ্ধৃত করে লিখেছিলেন, পুরুষের স্বভাব নারীকে এইভাবে দেখতে চাওয়াযদি সৃষ্টির এই আদিতম সত্যিকে আমি আমার নিকট সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে বুঝতে চাই, হ্যাঁ একজন পুরুষ হিসেবেই, তাতে সমস্যাটা কোথায়? মায়ের পায়ের হাড় লিখলাম কেন! পরে ভেবেছি; আর্থারাইটিসে পঙ্গু মায়ের পা কি কাশফুলের মতো যন্ত্রণায় দোলে? কম্পন হয় তার মধ্যে? সঞ্চারিত হয় অনেক দূর হেঁটে যাবার ইচ্ছে? পরক্ষণেই সেই ইচ্ছে অসম্পূর্ণ থেকে যায় ব্যর্থতার সম্ভাবনা হয়েসাংসারিক জটিলতার গ্রহ অনেক দেখেছিবাস করেছি তার ভেতর নির্লিপ্ত হয়েসেই গ্রহ অনেক সম্পর্ককে কক্ষপথ থেকে হারিয়ে দিয়েছেবহুদূর থেকে মৃত তারা হয়ে দেখেছি আত্মীয়দেরঅপত্য স্নেহের হাড়িকাঠে ঝুলিয়েছে প্রজন্মকেজীবনকে কেউ ধরতে পারে না, জীবন একেকজনের কাছে একরকমভাবে ধরা দেয়। দাতা নয়, গ্রহীতা হয়েই জীবনের অধিকাংশ মুহূর্ত যাপন করতে হয়শোষিত হয়ে বেঁচে থাকবার এই আক্রোশ থেকেই একজন মানুষ হয়ে আরেক মানুষকে পীড়নের শুরুপীড়িতের আর্তি শুনে সে হয়ত নিজেরই পীড়ন প্রশমিত করতে চায়এও মানব সভ্যতার বেড়ে ওঠার এক কদর্য স্যাডিস্টিক দিকএমনও কি হতে পারে, আমি হয়ত এইসব অর্থহীন লেখালিখির মধ্যে দিয়ে সেই অপ্রাপনীয় জীবনকেই ছুঁতে চেয়েছিবসবাস করতে চেয়েছি তারই ভেতর। অ্যালোটেড রিয়েলিটির অজগর নিঃশ্বাস থেকে পালাতে চেয়েছিযে-কয়েকজন এই লেখাগুলো পড়ে আমাকে প্রশ্ন করেন, তুমি তোমার মা-কে খুব ভালোবাসো তাই না? তার মুখের দিকে তাকিয়ে আমি হাতড়ে গেছি এই অসীম ও মহতী প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে—ভালোবাসা কাকে বলে? আমি কি সত্যি আমার মা-কে ভালোবাসতে পেরেছি? 

‘উঠোনে ভাসবে বলে কাগজ নৌকা হয়ে গেছে’—এমন একটি ছোট্ট লেখাও উঠে এসেছিল শরত্‍কাল থেকেইতখনও বৃষ্টির রেশ চলে যায়নিএকবছর পুজোর সময় নিম্নচাপঠাকুর দেখতে যাওয়া হবে না রাতে— এই কথা ভাবছি দুপুরে বসেউঠোনে একটা করে কাগজের নৌকো তৈরি করে ছেড়ে যাচ্ছিঠিক কোন সময়ের, কোন বয়সের ঘটনা, তা আর মনে নেই। তবে সদ্য তখন হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছি এমন কোনও বয়সসেদিনের সেই অকাল-শরতের বৃষ্টি এবং আমাদের ঠাকুর দেখতে না-যাওয়ার বেদনার কথা কীভাবে মনের ভেতর সংগুপ্ত থেকে গিয়েছিলতারই আত্মপ্রকাশ ঘটছে প্রায় কুড়ি-বাইশ বছর পর শৈশবের সেই বিষণ্ণ, নিঃসঙ্গ দুঃখমোচনের খেলা উঠে এসেছে অবদমিত মাতৃ-আকাঙ্ক্ষার রূপকল্প হয়েতাই অনিবার্যভাবেই কবিতার নাম হয়েছে ‘সন্তান’ছেলেবেলায় স্বাধীনতার অভাব থেকেই কি উঠোনে নৌকাকে ভাসিয়েছিলাম নিজের মর্জির ওপর নির্ভর করে? যে-ভাসাচ্ছে তার ইচ্ছের ওপর ভরসা করে নয়, বরং কাগজেরই নৌকা হয়ে ভেসে যাবার ইচ্ছায়? সত্যি, কখন মনের গভীর থেকে অজ্ঞাতে কোন কথা, কোন প্রসঙ্গ লেখার বিষয় ও ইশারা হয়ে উঠে আসে, তার খবর স্বয়ং লেখকও রাখেন নাঅবদমিত এই মাতৃ-আকাঙ্ক্ষার কথা কি তখনও আসেনি কবিতায়, যখন নিজের মেয়েকে খাবার মেখে দেবার সময় যথাসম্ভব মিহি করে দেওয়ার কথা মাথায় থাকত! যেন ওর খেতে অসুবিধে না হয়এই অনুষঙ্গেই একটি কবিতা লেখা হয়, যার শেষ লাইনে ছিল এমন পার্থিব মনোবাঞ্ছার কথা: ‘পোকার আহার হয়ে সন্তানের মুখে লেগে থাকি’ যে-কোনও অনুভবের গভীরে পৌঁছলেই বোঝা যায় জীবন কতদূর সংকীর্ণ, অসহায়আমি সেই অনুভূতিকে লালন করছি, কিন্তু তাকে পুরোটা অধিগৃহীত করতে পারছি নাএকসময় এ-কথাও মনে হয়েছে, এই মনোভূমি থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রয়োজনলিখি তো শুধু নিজের জন্যে নয়, অন্যের জন্যেওযদি শুধু নিজের জন্যেই লেখার আর্তি অর্জন করতে পারতাম, সারাজীবন কোনও বিশেষ চিন্তাসূত্র থেকে লিখে যেতাম, কেউ দেখতে আসত নালিখে, অন্যের কাছে পৌঁছনোর, স্বীকৃতি পাওয়ার যে মরিয়া চেষ্টা, সেই কারণেই তো একজন লিখিয়েকে নিজেকে পালটে ফেলতে হয়এমনকি সে যদি শরত্‍কাল ও কাশফুলের প্রথাসিদ্ধ বন্ধু নাও হয়, জীবন নিংড়ে কি এই অসেতুসম্ভব সম্পর্কের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ তৈরি করতে পারে না? গড়ে তুলতে পারে না অসম্ভব সম্পর্কের প্রতি কোনো নিগূঢ় ইঙ্গিত?

ছবি- চিরঞ্জিৎ সামন্ত

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.