HeaderDesktopLD
HeaderMobile

মৃৎফলকে লেখা

0

হিন্দোল ভট্টাচার্য

 

আজ সরাসরি বলছি, আমরা ভুল পথে এলোমেলো 

হারিয়ে ফেলেছি সব

আমাদের ঘটি-বাটি, জমি-জমা, পুথি

 

রক্তের ভিতরে শুধু মাঝেমাঝে জেগে ওঠে

পুরনো মহেঞ্জোদরো

আরুণির পেতে রাখা শরীরের বাঁধ

 

তোমাকে হাতড়াই আমি, আমাকে খনন করো তুমি

কাকে যে খুঁজেছি আমরা

আজীবন কার বুকে মাথা রেখে বলেছি ‘বাঁচাও’!

 

বাতিল কবিতাগুলি পুড়ে যাওয়া চামড়া যেরকম;

মায়া লাগে, কত চামড়া সহ্য করে কত যে চাবুক

না-লেখা কবিতা নিয়ে একপাহাড় খিদে জমে থাকে।

একটি জীবন কাটে খিদে নিয়ে কয়েকশো জীবনে…

হেরে যাওয়া কাকে বলে, কাকে বলে জিতে যাওয়া বলো-

আয়ু তো শুকিয়ে যায়, ঘরে ঘরে বেজে ওঠে শাঁখ

 

কী লেখা হল না আর, কী লেখা লেখার আগে মৃত

তাকেই লেখার কথা ভাবি আজ, ব্যর্থ কবিতায়…

 

‘মনে রেখো সব বাড়ি একদিন পরিত্যক্ত হবে…

 সব যুদ্ধবিমান, বন্দর, বাজার, 

সব ইতিহাস, কবরখানা, বইয়ের ধুলো,

কাচের বাসন, আয়না, পুরস্কার

দলিল, প্রতারক চিঠি…’

 

উত্তরাধিকারসূত্রে এ পৃথিবী  কিছুই রাখে না।

যখন ঘুমোও, তুমি নিজের শ্বাসের শব্দ শুনেছ কখনও?

 

তৃতীয় একটি দরজা সারাক্ষণ খোলা থাকে ঘরে-

 

ঈশ্বর, হয়তো একটি গন্ধ শুধু-

                                    যেমন বাউল মানে চোখ।

 

যখন ঘুমোও, তুমি দেখেছ কি আলো ফুটে ওঠে?

 

যত দুর্গ এ জীবন, তত মন গোলকধাঁধায়…

 

সুকৌশলে বলি, এইসব শ্বাসকষ্ট শেষ কথা নয়। জল অনেকদূর

গড়িয়েছে; ভাঙতে ভাঙতে পাড় যেমন নিজের সবকিছুই হারিয়ে ফেলে

আমাদের পায়ে চলা পথগুলো কি এমনভাবেই মুছে যাবে?

কম তো আসা-যাওয়া হল না, কম তো দেখলাম না মানুষের নশ্বরতা

আজ এই দুপুরবেলায় তুমি কোন শীতঘুম থেকে উড়ে এসেছ?

জল অনেকদূর গড়িয়েছে; এখন ফিরে যাওয়ার রাস্তাও নেই

মানুষ যুদ্ধ ভালোবাসে, এই কথা বুঝতে এত সময় লাগার কথা নয়।

ঘনঘন ঘণ্টা বাজাচ্ছে কেউ। আজ বিষণ্ণতা থাক। শস্যক্ষেতে যাব। 

 

যার হাত ধরে আছ, যে তোমার হাত ধরে আছে

তাকে ভয় পেতে নেই

 

নয়নপথগামী এই আলো, এই ছন্দ।

শিল্পের প্রকৃত অর্থ 

হয়তো আহুতি।

 

তুমিও কি সমুদ্রের দিকে 

এগিয়ে যাওনি?

 

শুধু কি সমুদ্র আসে? তুমিও কি ঢেউ নও তার?

 

 

 

 

ফিরিয়ে নেওয়া মুখে আশ্চর্য আলো লেগে থাকে।

তুমি, তেমন সুন্দর, জ্বর ছেড়ে যাওয়া কিশোরী যেমন।

 

আমি আড়াল থেকে দেখি। পৃথিবীকে লক্ষ্য করি গোপনে।

 

দেখি জাগ্রত শস্যক্ষেত, পাখির ঝাঁক, মন ডুবে যাওয়া নদী

ফিরিয়ে নিয়েছে মুখ, অভিমানে, জীবনদেবতার দিকে…

 

 

ভাঙা দরজায় কার নাম লেখা আছে আজও? এসো উচ্চারণ করি; কত মায়াপ্রবণ হয়ে আছে দোতলায় উঠে যাওয়া সিঁড়ি। কতবার তোমাকে হারাবো! চোখ বন্ধ করলেই শুনতে পাই ঘোড়ার পায়ের শব্দ। পাতার উপর উঠে যাওয়া শুঁয়োপোকার মতো আমাদের জীবন হল না। আজও আগুনের শিখা লেগে আছে ইঁটে। আমাদের শতটুকরো হয়ে যাওয়াই পথনাটিকার শেষের দৃশ্য ছিল এই সবতোমাকে খুঁজেছি তাই ঘাসে ঘাসে, ধুলোয়, মাটিতে। পুরোনো উঠোন থেকে ধোঁয়া উঠছে উনুনের। পড়শিদের জানলা বন্ধ হল। সব বন্ধ দরজাগুলির সামনে দাঁড়ালে নিজেকে আত্মীয় মনে হয়। হাতে টানা রিক্সা যায় এ গলি ও গলি। কিছু কিছু বাড়ি আছে, যারা দরজা বন্ধ করে না সারাদিন। তাদের দোরগোড়ায় চাঁদ আসে, জল খায়, কুশলজিজ্ঞাসা করে কিছু। 

 

 

ছবি- সৌজন্য চক্রবর্তী

 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.