HeaderDesktopLD
HeaderMobile

অন্ধকার ও ঋতজা

0

অলোকপর্ণা

নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে দৌড়তে ভালো লাগে সৌম্যর। নিজের ঘন গভীর শ্বাসের শব্দের মধ্যে ডুবে থেকে অতল ভারী আঁধার সাঁতরে এগিয়ে যাওয়া- আশেপাশে যা কিছু দেখার মতো ছিল, এখন সমস্ত নারাজ। রাত সাড়ে এগারোটার পর এই তল্লাটে কেবল অন্ধকার আর কিছু কুকুর জেগে থাকে। সেসবের মধ্যে দিয়ে নিশ্বাসের শব্দে বেঁচে থাকার হাজিরা দিতে দিতে দৌড়ে যায় সৌম্য। এসময় অন্ধকারে সৌম্যর অশরীরী অতীত বাইরে বেরিয়ে আসতে সাহস পায়। বোধহয় এই কারণেই পুজোর ছুটিতে বাড়ি এলে সৌম্য অন্ধকারে ছুটে যেতে পছন্দ করে। এমন অন্ধকার এই তল্লাট বাদে দেশের আর কোথাও সে দেখেনি। এই অন্ধকারই ছোট টাউনশিপটার একরত্তি চরিত্র। টাউনের কথা ভাবলে আঁধারে জ্বলে থাকা একজোড়া শ্বাপদের চোখ দেখতে পায় সৌম্য। ছুটতে ছুটতে, আগে যেসব বাড়িকে গুরুজনের মতো সটান মনে হত,- আঁধারে তাদের ন্যুব্জ লাগে। যেসব রাস্তা পার হতে আগে দু এক পল ভাবার প্রয়োজন পড়ত, সৌম্য সেসব এখন চোখ বুজে পার করে। মাঠগুলো হাতের তালুর মতো মজে যাওয়া। বাঁশঝাড় নিশ্চিহ্ন। তবু সেইসব অন্ধকার থেকে গেছে বছরের পর বছর একই ক্লাস ফেল করা ছাত্রের মতো- টাউনের চোখমুখে। অন্ধকারে কুকুরের প্রাগৈতিহাসিক চোখ জ্বলজ্বল করে, আকাশের তারার নীচে। সেসব নজর এড়িয়ে সৌম্য ধেয়ে যায় আরও অন্ধকারে। সাড়ে এগারোটার সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লে বারোটায় সৌম্য পৌঁছে যায় ঋতজাদের বাড়ির কাছাকাছি। জানালা খোলা থাকলে ফ্যানের হাওয়ায় উড়ন্ত পর্দার ফাঁক দিয়ে সবুজ নাইটল্যাম্পের আলো সৌম্যকে নেশাতুর করে। কীসের নেশায় সৌম্য পুজোর ছুটিতে বাড়ি এসে প্রতিদিন রাত বারোটা নাগাদ ঋতজাদের বাড়ির সামনে এসে থমকে দাঁড়ায়! নাইটল্যাম্পের আলো দেখে… আর তারপর, তার চিরাচরিত ফিরে যাওয়া।

মনে পড়ে, খালি হাতে ফেরত যাওয়ার জন্য বন্ধুদের মধ্যে সে বিখ্যাত ছিল। বিশেষত, মানুষের কাছ থেকে তার ফিরে যাওয়া- দেখার মতো।

ঋতজাদের জানালার পর্দা ফিরে যাওয়া সৌম্যকে দেখে খিলখিলিয়ে হাসে। সৌম্য দেখে পনেরো বছর ধরে সেই এক পর্দা ঋতজাদের জানালায়, ঋতজাদের দরজায়। পনেরো বছর ধরে সেই একই হাসি ঠিকরে পড়ছে।

এর কোনও রকমফের নেই।

অক্টোবর মাসের অন্ধকার চিরে সৌম্য সাড়ে বারোটায় দৌড় সেরে বাড়ি ফেরে। আগে মা রাতের খাবার নিয়ে বসে থাকতেন। এখন দেওয়ালে মায়ের পিঠের ছাপ নিষ্পলক চেয়ে থাকে সৌম্যর দিকে।  

যুবশক্তি সংঘের মোমবাতি টিমটিম করে কারা যেন এখনও আগলে রেখেছে। ক্লাবঘরের দেওয়ালে একটা ২০০৭ সালের ক্যালেন্ডার ঝুলতে দেখল সৌম্য। জোর জবরদস্তি কে যেন আজন্মের ধুলো উচ্ছেদ করে ক্লাবঘরটার উপর পুজোমণ্ডপের বেঢপ আব্রু চাপানোর চেষ্টা করেছে। একটু পরেই তিনটে ছেলে একটা সাইকেল ভ্যানে খর্বকায় দুর্গাপ্রতিমা নিয়ে ক্লাবের সামনে এসে থামলো। সৌম্য এদের কাউকে চেনে না। তার বন্ধুরা তুলোফুলের মতো উড়ে উড়ে গিয়ে পড়েছে কে কোথায়! সৌম্যও আজ সৌম্যের তলায় চাপা পড়ে থাকা কঙ্কাল মাত্র।

ক্ষয়াটে দাঁত বের করে ফিতের মতো ফিনফিনে ছেলেটা হেসে বলল, “সৌম্যদা কবে আসলে?”

 অপরিষ্কার স্বরে সৌম্য জানায়, “গত পরশু।“

ছেলেগুলো সযত্নে প্রতিমা নামিয়ে রাখল যথাস্থানে। তারপর ফিতেপ্রতিম ছেলেটা এগিয়ে এলো সৌম্যর দিকে, “আমায় চিনতে পারোনি তো?”

সৌম্য স্মৃতি হাতড়াচ্ছে, মুখের দল অবাধ্য পশুর পালের মতো দ্রুতবেগে পার করে যাচ্ছে তাকে। সৌম্যর মনে পড়ল না ছেলেটাকে কোথায় দেখেছে সে আগে।

“ঋতজা দিদির পাশের বাড়িটা আমার কাকার। আমার নাম মলয়। তোমাকে দেখতাম ঋতজা দিদিদের বাড়িতে আসতে। তোমার থেকে ক্লাস ইলেভেনে বায়োলজি বই নিয়েছিলাম, মনে নেই?”

মনে নেই। এভাবে সৌম্য আজকাল প্রত্যেকটি মানুষকে আশাহত করতে পারে।

মলয় বলল, “ঋতজা দিদির ব্যাপারটা খুব স্যাড।”

বিদ্যুৎপৃষ্টের মতো চমকালো সৌম্য, “মানে?”

“বেড রিডেন হয়ে পড়ে আছে বছর দুই, তুমি জানো না?”

সৌম্য আকাশ থেকে পড়তে থাকে। মায়ের উপর ক্ষোভ হয়। বছর দুই! মা জানায়নি তো কখনও।

মলয় স্বর নামিয়ে বলে, “টিবি। আজকালকার দিনে কারোর হতে শুনেছ?”

 

বিকেলের আলোয় ঋতজাদের বাড়িটাকে বেখাপ্পা লাগে। সৌম্যর হাত কলিং বেলের স্যুইচে থমকে থাকে কিছুক্ষণ। এখনও ফিরে যাওয়া যায়- ভিতরের সৌম্য বলে। তাকে অগ্রাহ্য করে উপরের সৌম্য বেল বাজিয়ে দেয়।

 

চিরপরিচিত পর্দা সরিয়ে যে মানুষটা বেরিয়ে এলেন তাকে সৌম্য এককালে মনিমা বলে ডাকত ঋতজার দেখাদেখি। অন্ধকার টাউনে যেমন মানায়, মনিমার চেহারা এক্কেবারে তেমন হয়েছে এখন। রক্তশূন্য চোখ মুখ। দৃষ্টি অস্বচ্ছ। সমস্ত কিছুই কেমন হলুদ, ঘোলাটে। সৌম্যকে দেখার পর সময় নিয়ে মুখে হাসি টেনে আনলেন তিনি, উচ্ছ্বাসহীন স্বরে বললেন, “সৌম্য, কবে এলে?”

অথচ আগে তুই তোকারি করতেন। 

“গত শুক্রবার…”

আর কোনও কথা নেই যেন, মনিমা দরজা আগলে দাঁড়িয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ। ফিরে আসা মজ্জাগত যে সৌম্যর, কী কারণে কে জানে সে জেদ দেখিয়ে দাঁড়িয়ে রইল দুয়ারে। মনিমা বলতে বাধ্য হলেন, “ভেতরে আসবে?”

ঋতজা ঘুমোচ্ছে খাটের উপর। ঋতজার পরিত্যক্তপ্রায় শরীর বলাই ভালো। ঋতজার খোলস শোয়ানো আছে বিছানায়। সৌম্য তার চেয়ে নিরাপদ দূরত্বে বসল। মনিমা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে, চিরাচরিত পর্দা আঁকড়ে।

“কবে হল এসব?” ফাঁকা একটা স্বর, যার অস্তিত্ব আছে বলে সৌম্য নিজেই জানত না,- বেরিয়ে আসল তার গলা বেয়ে। 

“দুবছর হল ও বিছানায় পড়েছে। তবে তার আগেও যে ঠিক ছিল, তা বলি কীভাবে” 

শাদা একটা শরীর, যাকে ঋতজা বলে জানত সৌম্য, বিছানার উপর টিকে আছে। দেখে প্রত্যয় হয়না যে তার ভেতর কোথাও কোনও প্রাণের বসতি আছে এখন আর। চামড়া পাতলা হয়ে নীল শিরার প্রণালী দেখা যাচ্ছে সারা গায়ে। এই মানুষটা ঋতজা! সৌম্য মনে মনে বার কয়েক আওড়ায়। বিশ্বাস করতে চায়।

“তুমি চলে যাওয়ার পর বাড়ি থেকে বেরনো বন্ধ করে দিয়েছিল। সারাক্ষণ খালি টিভি দেখত। জোরে জোরে। আমি বলতাম বন্ধুদের সঙ্গে অন্তত যোগাযোগ রাখ। বলত, সবাই ব্যস্ত! কত কাজ সব্বার! খেত না। কিচ্ছু খেত না। খবরের চ্যানেল চালিয়ে বসে থাকত। সিয়াচেনে সৈন্যরা মারা যেত, খবরে দেখত আর হাউ হাউ করে কাঁদত। সে কী কান্না সৌম্য!“

সৌম্যর দম বন্ধ হয়ে আসে। এখানে আসাটা দুঃসাহসিক হয়ে গেছে, সে বোঝে।

“আমি বোঝাতাম। ওর বাবা বোঝাত। মাঝরাতে আমাদের ডেকে তুলে দেখাত, মাথার চুল ঝরে দুহাত ভরে আছে। একটা সময় পর হু হু করে ওজন কমতে লাগল। আর কাশি। সারারাত। সারাদিন। বিছানা থেকে ওঠার জোর পায়না এখন আর। ডাক্তার বলছেন জোর করে ধরে খাওয়াতে। খেতে চায়না কিছুতেই।“

মনিমা থেমে গেলেন। সৌম্য দেখল ঋতজার শরীরটা অল্প অল্প কেঁপে উঠছে। 

“মনিমা, চাদর… শীত করে,”

মনিমা ঋতজার পায়ের কাছ থেকে একটা চাদর টেনে ঢেকে দিলেন ঋতজার দেহের ভগ্নাবশেষ। তারপর আলতো স্বরে বললেন, “কে এসেছে দেখ!”

ঋতজা চোখ খুলল। কিছুক্ষণ চোখ পিট পিট করার পর সে সৌম্যকে দেখতে পেয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠল, “মনিমা, আলো জ্বালো!”

“পুজোয় এলি?”- প্রশ্নটা হাসিমুখে করলেও, ঋতজার হাসিকে এখন কান্নার মতো দেখাচ্ছে। এটুকু হাসিমুখ বজায় রাখতেও যে তার শ্রম হচ্ছে আন্দাজ করতে পারে সৌম্য। 

“হ্যাঁ, বাড়িতে কিছু কাজও ছিল”

“তোদের যুবশক্তিতে পুজো হচ্ছে না এবার?”

“হ্যাঁ হচ্ছে তো দেখলাম, আমি এখন আর ওতে নেই,”

“তুই অনেক কিছুতেই আর নেই সৌম্য।”

 

মনিমা বলে ওঠেন, “চা দিই? খাও?”

সংকোচ হয় সৌম্যর, ঋতজাকে নয়, ঋতজার রোগের কথা ভেবে সে বলে, “না মনিমা, পরে একদিন”

“পরে একদিন?” ঋতজা ফের এমনভাবে হেসে ওঠে, যে হাসি কান্নার প্রভেদ ঘুচে যায়। 

“আমাকে বসিয়ে দাও মনিমা।”

মনিমা এগিয়ে গিয়ে তাকে তুলে ধরে বসিয়ে দেন। সৌম্য দেখে ঋতজার বুক সাদা পৃষ্ঠার মতো ভাঁজহীন, নিঃশ্বাসের তালে ওঠবোস করছে মাত্র। একদিন এই শরীরের সমস্তটা সৌম্য চিনত। যেমন সে চেনে এই অন্ধকার টাউনশিপের সবকটা রাস্তা- গলিপথ। ঋতজার ধ্বংসাবশেষের সামনে তাজ্জব বসে থাকে সৌম্য হালদার। 

“কেমন আছিস সৌম্য?”

ভালো আছি বলতে কুণ্ঠা হলে সৌম্য বলে, “ওই চলছে!”

“আমি কেমন আছি দেখতেই তো পাচ্ছিস। আমি জানতাম তুই আসবি। মনিমাকে বলেছি আমি, জিজ্ঞেস কর। কী মনিমা, আমি বলিনি, সৌম্য একদিন ফেরত আসবে এখানে!”

“ওসব কথা থাক মামন,”

ঋতজার নাম আর ডাকনাম, এতদিনে এটুকুই যা বদলায়নি। 

“থাক তবে। সৌম্য পুজোয় নতুন জামা কিনলি?” নিমেষে অবান্তর প্রশ্নে ঋতজা মশকরা করে ওঠে। 

জামা খুললে হয়তো সৌম্যর পিঠে এখন দুএকটা চাবুকের ঘা দেখা যেতে পারত। সৌম্য বলে, “পুজোয় আলাদা করে এখন আর কিনিনা। মা দিত আগে একটা।”

“ও হ্যাঁ, কাকিমা চলে গেছেন। মনিমাকে তোদের পাড়ার মলয় জানিয়েছিল- এডভান্সড কারসিনোমা, তাই না?”

সৌম্য মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। 

“সৌম্য, আমাদের এখনও অনেকে মনে রেখেছে দেখ! নাহলে এসব খবর তো আমার ঘরে বসে জানার কথাই নয়, না?”

সৌম্যর চেয়ে তিনহাত দূরে বসা ঋতজা সৌম্যর গলা টিপে ধরে আছে যেন। হঠাৎই সে প্রবল কাশতে শুরু করে। মনিমা ছুটে এসে তার মুখে রুমাল চেপে ধরেন। ঋতজা অনর্গল কেশে যায়। এক মিনিট। দু মিনিট। দশ মিনিট। পনেরো মিনিট। এক সময় সৌম্যর মনে হতে থাকে কাশতে কাশতে আজ এই মুহূর্তেই ঋতজা শেষ হয়ে যাবে। যেন সে শুধু সৌম্যর আসার অপেক্ষায় বেঁচে ছিল। কিন্তু তা ঘটেনা। কাশি স্তিমিত হয়ে আসে। ঋতজাকে মনিমা শুইয়ে দেন বিছানায়। 

“এইরকম সারাদিন চলে। এটাই নর্মাল এখন।” মনিমা বলেন।

“ডাক্তার কী বলছেন?” সৌম্য কথা বলে।

“ওষুধ চলছে। পুষ্টিকর খাবার খেতে বলে। গতমাসে রিপোর্ট দেখে তো বললেন- স্পটগুলো কমছে। আবার সামনের মাসে নিয়ে যাব।“ মনিমা এভাবেই মুছে যাবে সৌম্য বুঝল।

“গলা চিরে যায়। বুক ব্যথা করে, জানিস সৌম্য।” ধীরে ধীরে বলে ওঠে ঋতজা। এবার তার স্বরে কান্না স্পষ্ট হয়, ঋতজা কাঁদতে থাকে। মনিমা তাকে ছোট্ট মেয়ের মতো প্রবোধ দেন, “এই তো মা, ঠিক হয়ে যাবে। কাঁদতে হয়? সৌম্য এল এতবছর পর, তোকে কাঁদতে দেখলে কী ভাববে! ছিঃ কাঁদে না।”

ঋতজা সৌম্যর দিকে ফিরে বলে, “তুই না এলেও এখন আর কিছু যায় আসে না রে। আমি যেন শুধু ঠিক হয়ে যাই। আমার আর তোকে চাইনা। আমি সেরে উঠতে চাই। আর কিচ্ছু চাইনা আমার!” প্রবল কাশিতে ঋতজার গলা ভেঙে গেছে। যন্ত্রণায় তার মুখ কুঁচকে আছে। কোথায় কোন কষ্ট মাথাচাড়া দিয়ে উঠল কে জানে! এখানে না এলেই পারত সৌম্য।

“মনিমা একটু আদর কর। আমায় একটু আদর কর।” বলে কান্নায় ভেঙে পড়ল অবশিষ্ট ঋতজা।

একটা অন্ধকারের জন্ম দেখল সৌম্য। মনিমা ঋতজার মাথায় হাত বোলাতে লাগলেন।

“তুমি যার সঙ্গে বম্বে চলে গেলে তার নামটা যেন কী?” সৌম্য চমকে দেখে মনিমার চোখ দুটো দিনেরবেলাতেও টাউনশিপের কিংবদন্তি অন্ধকারে ধক ধক করছে।

“তৃপ্তি।” ঋতজা জবাব দেয় সৌম্যর হয়ে,- “ও কেমন আছে রে সৌম্য?”

“আমার সাথে যোগাযোগ নেই, অনেকদিন হল।”

মনিমা অবাক হন। ঋতজার চোখে মুখে বিদ্রুপ ফুটে ওঠে, “বেকার বেকার এইসব করলি তার মানে?”

এ প্রশ্নের জবাব নেই সৌম্যর কাছে। তৃপ্তি তাকে ঋতজার থেকে রেসের প্রথম পুরস্কারের মতো ছিনিয়ে নিয়েছিল। যেখানে ঋতজা কখনও কোনও রেসে অংশগ্রহণই করেনি, গ্যালারিতে বসে নির্বাক দেখেছিল তার প্রস্থান। তৃপ্তি তাকে পরিত্যাগ করেছে সরীসৃপের শীতঘুম শেষের খোলসের মতো- যথাসময়ে।

“আমি তো এখন জোরে হেসে উঠতেও পারব না, সময়টা এমন…” ঋতজা থমকে থমকে বলে, “সৌম্য তুই বরং আজকে আয়। দশমীর পর আসিস আবার? বিজয়া করতে?”

চাবুকটা এবার খুব কাছে বেশ জোরে পড়ল। সৌম্য কিছু না বলেই উঠে দাঁড়ায়। মনিমাও বিছানা ছেড়ে মাটিতে নামেন। সৌম্যকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে ঋতজার কাছে ফিরে চলে যান।

 

রাস্তায় এসে সৌম্য ঋতজাদের বাড়িটাকে শেষবারের মতো দেখে। পর্দাগুলো আবার খিলখিলিয়ে হাসছে সৌম্যর খালি হাত দেখার পর। দূরে কোনও ক্লাবের পুজোয় ঢাকে বুঝি কাঠি পড়ল। সৌম্য ধীরে ধীরে ফেরার পথ ধরল। এখানে এখন আর কিচ্ছু নেই। সৌম্যর জন্যেও। ঋতজার জন্যেও। এমনকি মনিমার জন্যেও কিছু নেই। মলয়ের জন্যেও কিচ্ছু পড়ে নেই নিশ্চিত হয়ে সৌম্য অক্টোবরের অন্ধকারে পা বাড়াল।

এখানে, এই অন্ধকারে, কেবল এই অন্ধকারে ঋতজা মিশে আছে।

 

 

ছবি- সৌজন্য চক্রবর্তী

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.