HeaderDesktopLD
HeaderMobile

শারদীয়া 

0

তন্ময় ভট্টাচার্য

(১)

যে পথের কোনও আলো নেই, তারও তো দুর্গাপুজো আজ! দূরের একটা জানলায় পাট করে রাখা নতুন শাড়ি। আজ, না কাল? প্রশ্নের মুখে দুল হয়ে উঠছে পর্দাও। এবার আর হারিয়ে যাবে না। অন্তত কুড়িয়ে পাওয়া যাবে ঠিক। চুল খোলা থাকবে কিনা, ভাবতে ভাবতে বারবার হাত চলে যাচ্ছে ক্লিপে। চেপে ধরে রাখাই যার পুজো। একবার স্প্রিং নষ্ট হয়ে গেলে, কিছুদিন পরেই নতুন কেউ চলে আসবে, সে জানে…

(২)

যারা অপেক্ষা করতে পারে না, মাথা নীচু করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই তাদের। রোজ এই দৃশ্য দেখি আর মনে পড়ে, ওপারে যাওয়ার জন্য এমনই এক উপায় বেছে নিয়েছিল কেউ। রেলগেটের অবশ্য এতে কিছু যায় আসে না। শুধু ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে নিতে মাঝেমাঝে মনে পড়ে, বিরক্ত হয়ে একদিন একটা লরি দুমড়ে দিয়েছিল খুব। বৃষ্টির দিন; অনেকক্ষণ কোনো ট্রেন আসেনি তারপর…

(৩)

উৎসবের সকাল। একমনে মন্ত্র পড়ছেন পূজারি। সারা বছরের রাগ-দুঃখ-যন্ত্রণা জড়ো হচ্ছে হাতের ওই পুঁথিতে। ধোঁয়ায় জ্বলে উঠছে চোখ। ‘দেহি’ শেখাতে শেখাতে, নিজের ইচ্ছেগুলোও বেরিয়ে এসেছে কখন। অন্যদের ‘নমঃ’ বলতে বলে, মনে-মনে ‘ওঁ’ বলছেন তিনি। এটুকুই অভিমান; সবার শুচিতার মধ্যেও নিজের জন্য সরিয়ে রাখা খানিক কোশাকুশি। এতে গন্ধপুষ্পের কোনও দোষ নেই…

(তন্ময় ভট্টাচার্য প্রথম দশকের অন্যতম কবি ও গদ্যকার )

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.