HeaderDesktopLD
HeaderMobile

শীত, নক্ষত্রপুঞ্জের মেঘ

0

কুন্তল মুখোপাধ্যায়

 

এক

নক্ষত্রের মেঘ, ধোঁয়া, শীতের শেয়াল, তার দীর্ঘ দীর্ঘ রোম
মহাশূন্যে ঝুঁকে আছে, সোমবার সোমবার আজ সোম
আলোকবর্ষের দূর মাথা তুললে দেখতে পাওয়া যায়
আকাশে নক্ষত্র ধ্বংস, মেঘ আর রক্ত নেবুলায়
প্রতিটি রোমের ফারে ঢেউ ওঠে সুরে বাজে কোমল গান্ধার
কত-না দূরের পথ ভেসেছিল ফটো-কণিকার,
বাবা নেই মাও নেই সেই কোন দূর থেকে মহাবিশ্বে এ-কোণে ও-কোণে
রুগ্ন রুক্ষ শুকনো চুলে তোমারই মতন কবি, ঘুরে বেড়ায় অলিগলি নদীতীর ঘুরে বেড়ায়
পাখিশব্দ
শোনে

 

 

দুই

উপায় কখনও নেই নক্ষত্রের আলো দেখে দেখে
অন্ধকারে বাড়ি ফিরছে ওই যে ব্লেক ওই যে ম্যারি অ্যান্‌

ওই যে বিস্মিত হয়ে
সৌন্দর্য টাঙিয়ে
রাখছে মনের পেরেকে…

 

ওই যে দূরে ওয়ার্ডসওয়ার্থ ভোর ভোর
টেমস দেখছেন

তখনও নদীর জল ঘুমে
পাখি ডাকছে, সেই পাখি যার কাঁধে পড়েছিল
নক্ষত্রপুঞ্জের ওম, শীতে

সাতাশশো আলোকবর্ষ দূরে

নেবুলা ইশারা করছে রোদ ও বসন্ত দিতে দিতে…

 

 

তিন

আকুল, রোদের ধার হাত কেটে দিয়েছে পাথর
আকুল, এমন নীল দ্রাক্ষাপূর্ণপাত্র রাতভোর
দুদিকে শালের পাতা হাওয়ায় উত্তর শুধু, প্রশ্ন নেই প্রশ্ন নেই কোনও
দুপুরে রোদের গায়ে কে রেখেছে ভালবাসাবাসিবারচূর্ণ
কে রেখেছে সন্দিহান নিমের লাজুক ছায়া, সারাদিন
টইটই দপ্তর

আকুল, বিনিদ্র আমি নক্ষত্রের ঘোরে লিখি ধোঁয়ার অজ্ঞাতবাস মহাশূন্য আমাদের ঘর

 

 

চার

তুলুসীতলার সন্ধ্যে এত বিন্দু নেবুলায় তার কিছু চিহ্ন আছে? নেই?
আঁধারে চোখের জল টলোমলো যেন তোকে দেখা গেল ধোঁয়া, ধোঁয়াতেই
এমন কুণ্ডলী যেন সংসার-জটিল, ঘূর্ণি, মেঘ
পা কেটে রক্তাক্ত, সেই রক্ত
ধার নিয়ে সূর্য, সূর্যাস্তেরা—
বিদায়-রেম্ব্রান্ট দিন, আমার কি কখনও হবে ফেরা?

নেবুলা নেবুলা বলো ঘি-দিয়ে মাখিয়ে লেবু গন্ধরাজ সুঘ্রাণ কেমন
তুলুসীতলার ঘ্রাণ শীত শীত অন্ধকার ভ্যান গখ, হলুদ লণ্ঠন

 

 

 

পাঁচ

 

সর্ষে-মুক্ত দুটি তালু বস্তার ভিতরে…
কী নরম! কী আরাম! এখন শৈশব এসে প্রশ্ন বলে:
ফিরবি না? ফিরবি না? ঘরে?
আসলে বার্ধক্য মানে অপঘাত মৃত্যু তোর, কী হলুদ সর্ষে ফুলে ফুলে
দিন কাটে, মনে মনে সমস্ত সরিষা মাঠ ওঠে দুলে দুলে
হাওয়ায় দুলেছে মনে তাকে নিয়ে শৈশবগ্রামের খুব ভিড়
নরম জামের দেশ আলুথালু পাতানের নদীভরাঢেউ –

যেখানে নেমেই জল, জলে এক সূর্যালোক, বারেবারে মুক্ত হয়ে যায়-
ওই জল দেখেছিল অজস্র শেয়াল এসে জড়ো হল আশরীর রুগ্ন নেবুলায়…

 

 

ছয়

কী লিখছি? জানি না! যা যা মনে আসে, আসেও না কখনওবা!
কী লিখছি? নদীতীর? কী বলছি, ব্যক্ত নাকি
প্রকৃতিরই মতো আমি বোবা!
শোনো শোনো অপ্রকাশ অদূরে দেবতা গাছ দীর্ঘদেহী মাথা নাড়ায় বন
নরম উলের দেহ সময়ের… কে থামায় কে আলাদা নিজেকে কেমন
খুলে নিয়ে ভাঁজ ক’রে রেখে দেয়, ভাঁজ করে
নিজের বেগুনি রং, লাল রং, নীল রং সব
এরা কি বলবে কিছু?

নাকি দূর নেবুলায় কেঁপে উঠবে আলোকবর্ষের দীর্ঘ স্তব

 

 

 

সাত

যেখানে আকাশ হয়, মেঘ হয়, সূর্য ওঠে পৃথিবীর বাইরে
এক মহাজাগতিক
যেখানে নেবুলা আলো মঞ্জরিত নক্ষত্রকুসুমে চিহ্নে এঁকে রাখে দিক
তেমন জগত থেকে
সরে এসে,
সরে এসে,
আরও সরে এসে
দেখি এই চলমান মহাবিশ্ব লটকে আছে একটি কাপড়ে,
কোনও এক দীর্ঘদেহী নারী হেসে হেসে
পাঁচিলে মেলেছে তাকে, তুমি দেখ স্বপ্নে স্বপ্নে ঠায়
একখণ্ড কাপড়ে ওই মহাবিশ্ব বহুবিশ্ব ওঠে ডোবে, বাঁচে, অস্ত যায় …

 

 

পুনশ্চ:
শীতের হলুদ, গেল ব’লে:
“এ বিশ্ব চোখের
তুমি বহুবিশ্ব বেরিয়েছ, শোনো,
নক্ষত্রপুঞ্জিত মেঘ শেয়াল-করুণ মুখে ঝুলে থাকে এখনও এখনও
নেবুলা আসল সত্য, রক্তের ভিতরে তাকে ডাকে”

বিকচ মৃত্যুর পরে সূক্ষ্মদেহী মহাবিশ্ব থাকে

হাওয়ায় ভেসেছে ওই সুদেহী আনন্দে নিরুপায়
একটুকু-দুঃখ-লুব্ধ,

অশ্রুর হীরক তাকে বারে বারে জন্ম নিতে প্রলোভ দেখায়…

 

 

ছবি- দেবাশিস সাহা

 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.