HeaderDesktopLD
HeaderMobile

কবিতাগুচ্ছ

0

জয়ীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

 

প্রেম

উপেক্ষা কখনো বুঝি এরকমও আলো হয়ে ওঠে
দূর থেকে দেখা যায় মণ্ডপের চূড়া, আসন্ন বিকেল
তুমি শান্ত পায়ে উঠে আসো ভেজা টগরের পাশে
সে যেন কাঁপছে ওই
সম্বোধনটুকু পড়ে
চিঠি ভাঁজ করে রাখা তোমার ভঙ্গিমায়…

 

 

নিত্যযাত্রী

যখন থেমেছে ট্রেন দশটা বেজে পাঁচ
শেষ লোকালের গায়ে ঝিরঝিরে বৃষ্টি নেমেছে
বাঁশির অনুরণন মূক ও বধিরের দলে মিশে উঠে গেছে ব্রিজের উপরে
ইংরেজ আমলের ছাদ। হতশ্রী অথচ দৃঢ়
ইস্ট কেবিনের অপরিসর ব্যালকনি যতদূর দেখা যায়
ততদূর পৌঁছনো, ততদূরই দৃশ্যগমন

ওই পান গুমটির আলো, তার মালিকের শর্করাপ্রীতি
রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নব্বইয়ের গান আমাকে ভাবায়
এখনও কোথাও ভেবে দেখবার অবকাশ আছে মনে হয়

জমি অধিগ্রহণের খসড়া লিফলেট ছেপে বিলি হল গত মরশুমে
আমি বাসা অভিমুখী, বৃষ্টির অনেক শেষে
নেমে আসি সুপ্রশস্ত সিঁড়ি বেয়ে চাঁদের গহ্বরে
উৎসব মুখরতা এই আমাকে দিয়েছে বোধ

তুমি সৎ আজও, মৃত সৈনিকের চিঠি। বুড়ো ছাতিমের মতো কিছুটা মহান…

 

 

দেবীপক্ষ

সঞ্চয় যা কিছু ছিল এযাবৎ ছুঁড়ে ফেলে দিল ওরা
চিরুনি, চাটাই, তালিমারা পায়জামা, টিনের আংটিখানি
গত মরশুমে পাওয়া দানের চাদর-ও
ওই চিনামাটির পাত্র। শৌখিন নয়, অথচ শুভ্র যা
কালো বর্ডারের, কোনা ভাঙা
জল সামান্য চুমুক শেষে যতটুকু পড়ে ছিল, তাতে
সকলের নজর এড়িয়ে শুয়ে ছিল সে-ই
বস্ত্রহীন, বাঁকা পিঠ, অপরিণত পুরুষাঙ্গ, পা দুটি কোলের কাছে
যেন গর্ভস্থ ভ্রূণ, যেন মাতৃ-রক্তের দাবি জানাতে জানাতে
এইমাত্র নাড়ি ছিঁড়ে চেঁচিয়ে উঠবে

 

 

ভয়

স্বপ্নের পিঠে এতদূর এসে থেমে গেছে বালিকা হৃদয়
প্রাক কৈশোরে দেখা মুরি জংশন আরও বেশি স্পষ্ট এখন
জারুল গাছের ছায়া, রেল কোয়ার্টার
এ-টাইপ কলোনির ধারে ফাঁকা মাঠ। ডোবা থেকে
কালো জল চলে গেছে বস্তিবাসীর ঘরে। এসবও জীবন্ত যেন
উনিশশো আটানব্বই

অনতিদূরেই মশা উপদ্রুত ঘাসে ছেলেদের কলরব শোনা যায়
ওরা হিন্দি ভাষাও বুঝি সঠিক বলে না
ঘুড়ির সুতোয় চেপে সবচেয়ে কাছের ওই পাহাড়ে বেড়াতে যায়
আর কেউ কেউ অশ্বত্থের ডালে আশ্চর্যরকম কিছু
দেখতে পেয়েছে বলে লাঠি নিয়ে আসে

নিরীহ পরবদিন
আমার আঁচল ওই, লাল রং। ওদের নাগাল পেতে, ভাবি ঢের দেরি আছে

 

 

ঘটমান

রাত্রি আর কুসুমপুরের মাঝে সারিসারি লরি দাঁড়িয়েছে
সীমান্তরক্ষীদের চলাফেরা, পুলিশের গাড়ি, চাপা স্বর, শিশুর কান্নাকাটি
কুকুরের ব্যস্ততাও দেখবার মতো
মাঝে মাঝে নক্ষত্রের মতো আলো জ্বেলে উড়ে যাচ্ছে যাত্রীবিমান
অথচ এরা কেউই দুর্ঘটনাস্থলের খোঁজ দিচ্ছে না দেখে
আমিই রুকস্যাক কাঁধে সাইরেন লক্ষ্য করে এগিয়ে এসেছি
আর সবুজ লরিটি থেকে এক মাদ্রাজি খালাসি হঠাৎ
তার সামান্য হেলে পড়া গলাখানি বার করে বলে উঠল
‘কী ব্যাপার! আপনি যে এখনই স্ট্রেচারে শুয়ে ওদিকে গেলেন!

 

 

ছবি শুভ্রনীল ঘোষ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.