HeaderDesktopLD
HeaderMobile

‘গুপ্তধনের সন্ধানে’ এক অন্য পথ দেখাবে উল্টোডাঙা করবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব

0 31

দেশজুড়ে আর্থিক সংকট ডেকে এনেছে করোনা এবং লকডাউন। এমন পরিস্থিতিতে গুপ্তধনের সন্ধান পেতে চান? তাহলে আপনাকে অবশ্যই যেতে হবে উল্টোডাঙা করবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবে। কারণ এবারের শারদোৎসবে তাদের থিম: ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’। শিল্পী তানিয়া ভট্টাচার্যের ভাবনায় উত্তর কলকাতার এই ঐতিহ্যশালী পুজোর মঞ্চ সেজে উঠছে।

বরাবরই কলকাতার বৃহৎ পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এসেছে করবাগানের এই পুজোটি। কিন্তু, এ বছর মহামারীর দাপট যেন সেই পরিকল্পনা তছনছ করে দিয়েছে। তাতেও দমে না গিয়ে শিল্পী তানিয়া ভট্টাচার্যের ভাবনায় নিজেদের শারোদৎসব সাজানোর পরিকল্পনায় হাত লাগিয়েছেন করবাগানে পুজো কমিটির কর্তারা।

গুপ্তধন কথাটির কথা মাথায় এলেই মনে হয় ঘড়ায় ভরা সোনার মোহর, মণিমাণিক্য। কিন্তু শিল্পী তানিয়া ভট্টাচার্যের ভাবনায় বর্তমান যুগে এই গুপ্তধনের সংজ্ঞাই পাল্টে গিয়েছে। মহার্ঘ্য কোনও হিরে-জহরত নয়, নূন্যতম দামের কোনও বস্তুও আজ আমাদের বর্তমান জীবনে গুপ্তধনের সমতুল্য হয়ে ওঠে।

গুপ্তধনের সন্ধানে থিম প্রসঙ্গে শিল্পী তানিয়া বলছেন, “পুরনো দিনের ঘড়ায় ভরা মোহরের ছবিই আমাদের কাছে গুপ্তধনের প্রতীক। গল্প-উপন্যাসে পড়া সিনেমায় দেখা প্রাচীন গুহায় লুকিয়ে থাকা মোহর, সোনার মুদ্রা ছাড়া গুপ্তধন প্রসঙ্গে আমরা কিছুই ভাবতে পারি না। তবে রোজকার জীবনের অল্প দামের বস্তুও যে গুপ্তধন হতে পারে, আমরা ভেবেই দেখি না। সেই বিষয়টিকেই আমার এই ভাবনায় তুলে ধরা হবে। মণ্ডপের আঙ্গিকে যেমন স্থান পাবে গুপ্তধনের আদি অকৃত্রিম কলেবর, তেমনই বর্তমান পরিস্থিতি মানবজাতির কাছে গুপ্তধন কী, তাও দেখা যাবে করবাগানের পুজোয়।”

পুজো কমিটির কার্যকরী সভাপতি তপন দত্ত বলেন, “সত্যি কথা বলতে, প্রথমে আমরা ভাবছিলাম কীভাবে পুজো করবো। চাঁদা, ব্যানার, হোডিং, স্টল কোনও কিছুই এবার আসতে রাজি নয়। করোনা সংক্রমণের ভয়ে মানুষ ঠাকুর দেখতে আসবে কিনা তা নিয়ে সন্দীহান বাণিজ্যমহল। এবার আর কেউ তাই বিনিয়োগে এগিয়ে আসছে না। আমরা পুজো কমিটির সদস্যরা তাই নিজেরাই চাঁদা তুলে এবারের পুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন বড় বাজেট তো দূরঅস্ত, নিজেদের পকেট থেকে দিয়ে এবার পুজোর বাজেট সর্বসাকুল্যে চার লক্ষ টাকা। এই অল্প টাকায় মণ্ডপ, প্রতিমা, আলো এবং পুজোর খরচ ধরে রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে পুজো কমিটির কার্যকরী সভাপতি তপন দত্ত জানাচ্ছেন, শিল্পী থেকে শুরু করে আলো বা যারা অন্যান্য বিভাগগুলি দেখছেন তাঁরা প্রত্যেকেই নিজেদের প্রাপ্য থেকে অনেক কমে কাজ করে দিচ্ছেন। তাই তাদের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

করবাগান দুর্গোৎসব কমিটির প্রতিমায় প্রাণদান করবেন দীপঙ্কর পাল। আলোক সজ্জায় দীনবন্ধু ইলেকট্রিক।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.