HeaderDesktopLD
HeaderMobile

সুরুচি সংঘ: ‘রক্তমাংসের মাকে সম্মান জানাতে না পারলে মাটির মূর্তিকে কীভাবে সম্মান জানাব’

0 96

বরাবরই কলকাতার হাইপ্রোফাইল পুজো বলে পরিচিত নিউ আলিপুর সুরুচি সংঘের শারদোৎসব। তবে এবার সবই অন্যরকম। আর পাঁচটা পুজোর মতোই পরিকল্পনায় আপস করেছে তারাও।

হবে নাই বা কেন। বিশ্বজুড়ে করোনা-কাণ্ডের মধ্যেই বাংলায় হানা দিয়েছিল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় উমফান। কলকাতা থেকে সুন্দরবন তছনছ হয়ে গিয়েছে। তাই সবমিলিয়ে শারদোৎবের রং ফিকে হয়ে গিয়েছে।

এ কথা মাথায় রেখে এবার মানুষের ‘পুজো’ করতে চাইছে নিউ আলিপুর সুরুচি সংঘ। স্বনামধন্য শিল্পী ভবতোষ সুতারের ভাবনায় তাদের থিম: ‘এবার উৎসব নয়, হোক মানুষের পুজো।’ আর সেই ভাবনাকে বাস্তবায়িত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পুজো এবার খানিকটা জৌলুসহীন। বাজেট কমিয়ে এবারের মণ্ডপ নির্মাণে ভবতোষ সুতার ব্যবহার করেছেন বাঁশ, ডেকোরেটরের কাপড়, ছাপা শাড়ি ও গামছার মতো জিনিসপত্র।

শিল্পী বলছেন, “পুজোর বাজেট ৭০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তাই আমার লক্ষ্য ছিল যতটুকু বাজেট আমাকে তুলে দেওয়া হয়েছে, ততটুকুর যেন পূর্ণ সম্মান করা যায়। দুর্গাপুজো শুধুমাত্র চণ্ডীর ব্যাখ্যা কিংবা ধর্মের ব্যাখ্যায় আটকে না থেকে, তা যদি মানুষের কাজে আসে। দুর্গাকে ঘিরে যা হচ্ছে তা যদি মানুষের কাজে লাগে, মানুষের অন্নসংস্থান হয়। তাহলেই আমার উদ্যোগ সার্থক হবে।”

সুরুচি সংঘের দুর্গা প্রতিমা তৈরি প্রসঙ্গে ভবতোষ বলেছেন, “এখানে দুর্গা মূর্তিটি থেকে তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ মহিলাদের তত্ত্বাবধানে। আমি অবশ্যই রয়েছি মূর্তি গড়ার ক্ষেত্রে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মহিলাদের ক্ষমতায়নের একটা প্রচেষ্টা হয়েছে। যারা এই মূর্তিটি গড়েছেন তাদের হাতে কলমে শিল্পের কোনও শিক্ষা নেই। আমার এবং আমার স্ত্রীর স্টুডিওর আশপাশে যে সমস্ত মহিলারা থাকেন, তাঁদের কর্মক্ষমতাকে সংগঠিত করে একটি রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কারণ রক্তমাংসের মাকে যদি আমরা সম্মান জানাতে না পারি তাহলে মাটির মূর্তির মাকে কীভাবে সম্মান জানাব।”

এবার মূলত পুজোর বাজেটের ৭০ শতাংশ ব্যয় করা হচ্ছে সমাজকল্যাণমূলক কাজে, এমনটাই জানিয়েছেন পুজো কমিটির সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি বলেছেন, “পুজোর পাশাপাশি আমরা ১০ হাজার ছোট ছোট দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের হাতে নতুন জামাকাপড় তুলে দিচ্ছি। পাশাপাশি ডেকরেটার্স, ইলেকট্রিশিয়ান ও ঢাকিদের জন্য বিশেষ ধরনের সাহায্যের পরিকল্পনা রয়েছে।”

সেই সঙ্গে এই পুজো কমিটি বলছে, “এবার মায়ের দোলায় আগমন। শাস্ত্রমতে মড়ক বা মহামারীর সম্ভাবনা। সেটা তো চলছেই। তার পরে মা ফিরে যাচ্ছেন গজে। যার ফলস্বরূপ শস্য-শ্যামলা বসুন্ধরা পেতে পারি আমরা। মা দুর্গা দুর্গতিনাশিনী। তিনি সব সময় আসুরিক শক্তিকে বধ করেন। এক্ষেত্রে তিনি সমস্ত অশুভকে বধ করবেন বলেই আমরা আশা রাখি। তাই আমরা এটাকে এবার মানুষের পুজো বলছি।”

ছবি: স্নেহাশিস দাস
You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.