HeaderDesktopLD
HeaderMobile

সেই ব্রিটিশ আমল থেকে দুর্গাপুজো করছে সিকদার বাগান, তরুণ শিল্পীর ‘উৎসব’ থিমে ঐতিহ্যের ছোঁয়া

0 223

ভারতের পরিচিতি তখনও ব্রিটিশ ইন্ডিয়া নামেই। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের চোখে মহানগরী কলকাতা তখন ইস্ট লন্ডন। সেই সময় কলকাতায় হাতে গোনা যে কয়েকটি দুর্গোৎসবের সূচনা হয়েছিল, তারই অন্যতম উত্তর কলকাতার সিকদার বাগানের শারদোৎসব। শতাব্দী প্রাচীন এই পুজো এবার ১০৮তম বর্ষে পদার্পণ করবে।

শতবর্ষের পথ চলতে চলতেই সাবেকি পুজোর ঘরানা ছেড়ে দুই দশক হল থিম পুজোর যুদ্ধে নাম লিখিয়েছে সিকদার বাগান। কলকাতার থিম পুজোর বাজারে সম্ভবত এমন কোনও শিল্পী নেই যাঁর শিল্পের ছোঁয়া পায়নি উত্তর কলকাতার এই আদি দুর্গোৎসব। তবে গত বছর পুজো শেষের পর যখন ২০২০ সালের আয়োজন নিয়ে আলোচনায় বসে পুজো কমিটি, তখনই ঠিক হয় তুলনামূলক ভাবে কম বয়সি কোনও শিল্পীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তেমন অন্বেষণেই যুবক শিল্পী প্রদীপ্ত কর্মকারকে বেছে নেয় সিকদার বাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি।

সিকদার বাগানের মত ঐতিহ্যশালী পুজোর দায়িত্ব পেয়ে কাজ শুরু করে দেন শিল্পী প্রদীপ্ত কর্মকার। সিকদার বাগানের ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে বড়সড় ভাবনা নিয়েই কাজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু মার্চ মাসে করোনা ভাইরাসের দাপট সব হিসেব নিকেশ বদলে দেয়। মহামারীর সঙ্গে দেশজুড়ে লকডাউন প্রভাব ফেলে সর্বত্র। তারই জেরে কলকাতার সমস্ত দুর্গোৎসব কমিটি নিজেদের বাজেটের ৬০-৭০ শতাংশ কমাতে বাধ্য হয়। সিকদার বাগানের বাজেটও কমেছে প্রায় ৭৫ শতাংশ। সুবিশাল বাজেট থেকে শিল্পীকেও তাঁর ভাবনা কাটছাঁট করতে হয় প্রায় অনেকটাই।

অবশেষে থিম ‘উৎসব’-কে সঙ্গে নিয়ে এবারের পুজোয় হাজির হচ্ছে সিকদার বাগান। নিজের ভাবনা প্রসঙ্গে শিল্পী প্রদীপ্ত কর্মকার বলেছেন, “দুর্গা পুজো বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব। কিন্তু, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের আবহে সেই উৎসব হবে কিনা, তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন ছিল। কিন্তু বছরে একবার মা দুর্গা আসবেন না তা কি হয় ? তাই সিকদার বাগানের মত ঐতিহ্যশালী পুজোয় মা দুর্গার আরাধনাকে বিশ্ববাসীর মুক্তির আশা হিসেবেই তুলে ধরছি।”

স্বল্প বাজেটে ভালো কিছু করে দেখাতে খুব সাধারণ জিনিস নিয়ে কাজ করছেন প্রদীপ্ত।পাটের দড়ি, লাল শালু, মাটি হাঁড়ি মতো জিনিসপত্র নিয়ে সেজে উঠছে সিকদার বাগানের দুর্গোৎসব।

পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ বিজয় দাস বলেন, “এবার শুধু পুজো করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। তার সঙ্গে রয়েছে জনসচেতনতা ও জনসেবাও। তাই পুজোর খরচ কমিয়ে আমরা অনেক বেশি সামাজিক কাজের দিকে মন দিয়েছি। প্রত্যেক পুজো কমিটির মতো আমাদেরও বাজেট কমে গিয়েছে। তাতে পুজোর জৌলুস কমলেও আন্তরিকতা ও ঐতিহ্য আমরা একই জায়গায় রয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতই এবার খোলামেলা মণ্ডপ গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। মণ্ডপে দর্শনার্থীদের যাতায়াতের পথ সুগম করতে ইংরেজি অক্ষর ইউয়ের মতো করেই পথ তৈরি করা হচ্ছে। তা ছাড়া থাকছে স্যানিটাইজিং টানেল। মাস্ক ও স্যানিটাইজার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।”

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.