HeaderDesktopLD
HeaderMobile

‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’ স্লোগান তুলে ‘দেবী’ আরাধনার প্রস্তুতি শিবমন্দির দুর্গোৎসব কমিটির

0 148

এবার কোভিড-সতর্কতাকে সর্বাগ্রে রেখে পুজোর বার্তা দিল শিবমন্দির দুর্গাপুজো কমিটি, ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’। কলকাতার শারদোৎসবের ইতিহাসে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেছিল ভবানীপুর ধর্মোৎসাহিনী সভা। অবশ্য এর প্রায় সমসাময়িক একাধিক পুজো শুরু হয়েছিল উত্তর কলকাতাতেও। কিন্তু যে সমস্ত পুজো কমিটির হাত ধরে দক্ষিণ কলকাতায় শারদোৎসবের পসার বৃদ্ধি হয়েছিল তাদের অন্যতম হল মুদিয়ালি এলাকার শিবমন্দির। এ বছর সেই শিবমন্দির পুজো কমিটির শারদোৎসবের বয়স হবে ৮৪ বছর।

দক্ষিণ কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী দূর্গাপুজোর থিম হল, ‘দেবী’। শিল্পী সঞ্জীব ঘোষের ভাবনায় দেবী আরাধনার মঞ্চ সাজাচ্ছে শিবমন্দির। প্রতিবছরই লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয় শিবমন্দিরের পুজো দেখতে। কিন্তু এই প্রথম শিবমন্দির পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা চাইছেন না দর্শকদের সমাগম।

এ প্রসঙ্গে পুজো কমিটির অন্যতম কর্তা পার্থ ঘোষ বলেন, “করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত। পুজোয় মাত্রাতিরিক্ত ভিড় হলে আমি বা আপনি কেন, সারা পাড়া, জনপদ সংক্রামিত হতে পারে। আমরা আগে ভিড় টানতে নিত্য নতুন স্লোগানের ব্যবহার করতাম। কিন্তু এবার আমরা ঠিক করেছি একটু ভিন্ন ধরনের স্লোগান দেব।”

পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “আমরা বলছি, নো মাস্ক নো এন্ট্রি। কারণ মাস্ক না পরে এলে করোনা সংক্রমনের ভয় সবচেয়ে বেশি। মাস্ক পরে এলে শিবমন্দিরের ঠাকুর দেখতে পারবেন। মাস্ক না পরে এলে ঠাকুর দেখতে পারবেন না।”

এই পুজো প্রসঙ্গে শিল্পী সঞ্জীব ঘোষ বলেন, “সত্যজিৎ রায় ‘দেবী’কে একজন প্রতিবাদী স্বরূপ হিসেবে দেখিয়েছিলেন। কিন্তু আমার কাছে সেই দেবীই আরাধ্যা, যাঁকে পুজো করে আমরা পরিত্রাণ পেতে চাই। যে বিশ্বাস থেকে আমরা তাঁর পুজো করি, সেই বিশ্বাসকেই আমি এখানে তুলে ধরছি।”

শিল্পীর কথায়, “গোটা বিশ্বই এখন মায়ের আঁচলের তলায় এসে মুক্তি পেতে চায়। এই অশান্ত সময়ে মায়ের আঁচলই একমাত্র মানবজাতির সাহারা। আমার ভাবনায় শিবমন্দিরে এসে মায়ের আঁচলের তলায় গোটা মানবজাতির প্রার্থনা করবেন দেবীর কাছে। এই প্রার্থনাই স্থল থেকেই অন্ধকার থেকে আলোর দিকে উৎসারিত হবে পথ।”

থিম দেবীর মাতৃমূর্তি গড়ছেন অরুণ পাল এন্ড সন্স। আলোক সজ্জায় প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী।

শহরের অন্য সব পুজো কমিটি যখন দর্শনার্থীদের মধ্যে মাস্ক জোগান দেওয়ার বন্দোবস্ত রাখছেন, তখন কিছুটা ব্যতিক্রমী পথে হাঁটছে শিবমন্দির। তাঁদের কথায়, “আমাদের এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ আসেন ঠাকুর দেখতে। মানুষকে যদি একবার জানিয়ে দেওয়া হয় যে প্যান্ডেলের মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে, তাহলে আর কেউ মাস্ক পরে আসতে চাইবেন না। তাই আমরা সতর্কতা ও সচেতনতার বিষয়টি দর্শকদের উপর ছেড়ে দিয়েই বলছি নো মাস্ক নো এন্ট্রি।”

তবে স্যানিটাইজিং টানেল ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে প্যান্ডেলে।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.