HeaderDesktopLD
HeaderMobile

বদ্রীনাথ ধাম এবার খোদ কলকাতার বুকেই! পুজোয় চমক সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের

0 23

গত তিন দশকে কলকাতার শারদোৎসবে থিমের জোয়ারে গা ভাসায়নি, এমন পুজো কমিটির খোঁজ পাওয়া দুষ্করই নয়, কষ্টসাধ্যও বটে। তবে গতানুগতিক থিমে ধারায় পা না বাড়িয়ে যে কয়েকটি পুজো কমিটি নিজেদের স্বতন্ত্র ইমেজ তৈরি করতে সফল হয়েছে, সেই গুটি কয়েক পুজো কমিটির মধ্যে অন্যতম পুজো হল উত্তর কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার। কিন্তু থিম থেকে দূরে সরেও বছরের পর বছর কলকাতার মহাপুজোয় চমকের পর চমক দিয়ে এসেছে তারা। কখনও গাইসাল ট্রেন দুর্ঘটনা উঠে এসেছে তাদের মণ্ডপে, কখনও তারা দর্শকদের পৌঁছে দিয়েছে ডুবন্ত টাইট্যানিক জাহাজে। কখনও সোনার দুর্গায় চোখ ধাঁধিয়েছে, কখনও আবার মণ্ডপ হিসেবে আস্ত রুপোর রথ কলকাতাবাসীকে উপহার দিয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো কমিটি।

কিন্তু এবার কী হবে, তা নিয়ে চিন্তায় ছিল তারা। কোভিড সংক্রমণের ধাক্কায় এবারের পুজোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই কিছুটা অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়েছিল উদ্যোক্তাদের। কিন্তু সংক্রমণের ধাক্কা সামাল দিয়ে আবারও সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার চমক দিতে চলেছে ২০২০-র পুজোয়।

বাঙালি মন বড়ই ভ্রমণপিপাসু। করোনা সংক্রমণের জেরে গত ছ’মাসে ভ্রমণপিপাসু মন আটকে চার দেওয়ালের ভিতরে। সেই বাঙালি মননকে কিছুটা সান্ত্বনা দিতে এবার বদ্রীনাথের মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার পুজো কমিটি।

বাবা ভোলেনাথের চার ধামের একধাম বদ্রীনাথ। পর্বতে ঘেরা উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার নগর পঞ্চায়েত এলাকায় অবস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই তীর্থক্ষেত্র। দেবাদিদেবের আদি শঙ্কর রূপ এখানে অধিষ্ঠিত। সেখানেই বদ্রীনাথ রূপে পূজিত হন তিনি। কোভিড সংক্রমণের কারণে গত ছ’মাস তীর্থযাত্রীদের মহাকালের মন্দির দর্শন থেকে বিরত থাকতে হয়েছে। তাই সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার পুজো কমিটি সেই মন্দিরকেই কলকাতায় তুলে আনতে চলেছে। যাতে এবারের পুজোয় কলকাতাতে বসেই বদ্রীনাথ ধামের মন্দির দর্শনের সুযোগ পান দর্শনার্থীরা।, এখন সেই কাজেই চূড়ান্ত রূপ দিতে তুমুল ব্যস্ততা সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে।

বদ্রীনাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ গড়া মোটেই সহজ ছিল না। কম বাজেটে ঐতিহ্যশালী মন্দিরের কৃত্রিম আদল তৈরি ছিল যথেষ্ট সমস্যার। কোভিড সংক্রমণের কারণে পুজোয় বিজ্ঞাপনদাতারা বিমুখ হয়েছেন। ব্যানার, হেডিং, স্টল কোনও কিছুই আর আগের মতো আসছে না। তাই এক সময় দুশ্চিন্তাতেই পড়েছিলেন কর্মকর্তারা।

কিন্তু মুশকিল আসান হয় আলোচনায়। মণ্ডপ গড়া থেকে শুরু করে প্রতিমা শিল্পী, সকলেই তুলনামূলক কম খরচে কাজ করতে রাজি হন। সেই কারণেই এই অসাধ্য সাধন করে এবার বদ্রীনাথের মন্দির নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। আর তাই ৮৫তম বর্ষে নিজেদের চিরাচরিত রীতি অক্ষুন্ন রেখে কলকাতাবাসীকে আবারও শারদোৎসবের উপহার দিতে পারবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার পুজো কমিটি।

এ প্রসঙ্গে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার পুজো কমিটির এক কর্তা সজল ঘোষ বলেন, “করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জেরে ৬০ শতাংশ বাজেট কমাতে বাধ্য হয়েছিলাম। এই অল্প সামর্থেই ভাল কিছু করার বিষয় আলোচনা চলতে চলতেই বদ্রীনাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরির ভাবনা মাথায় আসে। যাঁরা আমাদের পুজোতে সাজিয়ে তোলার দায়িত্বে, তাঁরা প্রত্যেকেই নিজেদের প্রাপ্ত অর্থের থেকে অনেক কমে কাজ করতে রাজি হয়েছেন। তাই তাঁদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। সকলের নিরলস পরিশ্রমে আমরা আমাদের ঐতিহ্য বজায় রাখতে পারছি।”

৮৫তম বর্ষে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের বদ্রীনাথ মন্দির দেখা যাবে মৃৎশিল্পী মিন্টু পালের প্রতিমা। সেই মন্দির দেবাশিস ইলেকট্রিকের সৌজন্যে আলোয় উদ্ভাসিত হবে বলে জানিয়েছেন সজল ঘোষ।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.