HeaderDesktopLD
HeaderMobile

মহামারীর মরুভূমিতে রঙিন রাজস্থান আঁকছে পাথুরিয়াঘাটা পাঁচের পল্লীর পুজো

0 60

সংক্রমণ ও মৃত্যু-মিছিলের সংবাদ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। তারই মধ্যে এসেছে পুজো। সংকটময় এই সময়টাকেই নিজের ভাবনায় তুলে এনে পাথুরিয়াঘাটা ৫-এর পল্লীর শারদোৎসবের আসর সাজাচ্ছেন শিল্পী সন্দীপ মুখোপাধ্যায়। তাঁর থিম, ‘মরুতে রংয়ের ছটা।’ এই থিমের বার্তায় যেন বিবর্ণ মানব সমাজকে উৎসবের রংয়ে রাঙিয়ে দিতে চাইছেন শিল্পী।

উত্তর কলকাতার এই বিখ্যাত শারদোৎসব এবার ৮১তম বর্ষে পদার্পণ করবে। আড়ম্বরে নয়, ঐতিহ্য বহন করেই পাথুরিয়াঘাটা ৫-এর পল্লী এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে বলেই দাবি উদ্যোক্তাদের।

শিল্পী সন্দীপের কথায়, “করোনা মহামারীতে এই পৃথিবী যেন এখন এক অশান্তির মরুভূমি। তাই দেবী আসুন, এসে আলোর দিশা দেখান গোটা মানবজাতিকে। সংক্রমিত রোগের কারণে রঙিন পৃথিবী এখন সাদা-কালো। তাই আমার এই প্রয়াসে পৃথিবীকে রঙিন রংয়ে রাঙিয়ে তোলার প্রচেষ্টা রয়েছে। আমাদের দেশে মরুভূমি মানেই রাজস্থান। কিন্তু, সেই মরু রাজ্য কিন্তু ধূসর বা সাদা কালো নয়। নানা রঙের খেলা সেখানে লক্ষ্য করা যায়।  সেখানে মরুভূমিতে যেভাবে রংয়ের খেলা দেখা যায়। রাজস্থানী জীবনশৈলীর আদব কায়দা, শিল্প, সংস্কৃতি, কৃষ্টির এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সেই চিত্রকেই তুলে ধরা হবে মন্ডপের আঙ্গিকে।”

যেহেতু রাজস্থানী কৃষ্টি-সংস্কৃতির থাকছে মণ্ডপ জুড়ে। তাই দেবী প্রতিমাতেও রাজস্থানী আর্টের ছোঁয়া থাকবে বলে জানিয়েছেন শিল্পী।মরুভূমে রংয়ের খেলাকে প্রাণবন্ত আলোর ব্যবহার রাখারও ব্যবস্থা করেছেন শিল্পী সন্দীপ। এক্ষেত্রে মরু রাজ্য রাজস্থানের কৃষ্টি সংস্কৃতি ও শিল্প ঘরানাকে উৎসবের রাতে প্রাণের পরশ দেবে হরেক রকম আলোর ব্যবহার।

আলোক সজ্জায় রায় ইলেকট্রিক। পরিবেশকে ফুটিয়ে তুলতে রাখা হচ্ছে আবহসংগীত। সেই আবহ সংগীতের পরিচালনা করবেন তানিয়া ভট্টাচার্য।

করোনা সংক্রমণের কারণে পুজোর বাজেটে ৫০ শতাংশ কাটছাঁট করতে বাধ্য হয়েছে পাথুরিয়াঘাটা ৫-এর পল্লীর দুর্গোৎসব কমিটি। তবে শারদোৎসবের প্রস্তুতিতে খামতি রাখতে নারাজ শিল্পী সন্দীপ থেকে পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা।

এ প্রসঙ্গে শিল্পী বলছেন, “খুবই স্বল্প বাজেটে সবকিছু করতে হচ্ছে ঠিকই। কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যদি ভাল কিছু করতে পারি তাহলে আমার সত্যিই ভালো লাগবে যে এমন পরিস্থিতিতে পুজো কমিটির বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে পেরেছি।”

পুজো কমিটির এক্সিকিউটিভ সদস্য গৌতম দত্ত বলেন, “এবারের পুজো দুর্দশার শেষ নেই। স্পন্সরশিপ নেই। চাঁদা তোলার ক্ষেত্রেও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পুজোর বাজেট ৫০ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে। তাই মনের জোরে পুজো কমিটি ও শিল্পী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছি। দেখা যাক, এখন দর্শকদের ভাল লাগলে আমাদের এই পরিশ্রম সফল হবে।”

সরকারি নির্দেশ ১০০ শতাংশ মেনে খোলামেলা রাখা হয়েছে মণ্ডপ। থাকছে মাস্ক, স্যানিটাইজার সহ স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধির সমস্ত বন্দোবস্ত।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.