HeaderDesktopLD
HeaderMobile

সর্বহারা থেকে সর্বজয়া! বজ্রপাতের সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প কলকাতার এই মণ্ডপে

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিনা মেঘে বজ্রপাত (lightening) তো আমাদের জীবনে কতই ঘটে। কিন্তু যাদের সত্যিকারের বজ্রপাতের সম্মুখীন হতে হয়! এমন আচমকা বিপদে কারও মৃত্যু যেন তাঁর গোটা পরিবারকেই নাড়িয়ে দেয়। যেন প্রকৃতির রোষেই ভেঙে পড়ে পরিবারের স্তম্ভ। বজ্রপাতের প্রকোপ ইদানীং বেশ বেড়েছে, ফলে প্রায়শই এমন ঘটনার কথা শোনা যাচ্ছে। আর সেই সব ভুক্তোভোগী পরিবারের সর্বজয়ারা যেন হঠাৎই সর্বহারা হয়ে পড়ছেন। এক চোখে কান্না, অপর চোখে ভবিষ্যতের দুচিন্তা নিয়েই পুজো এসেছে সে সব পরিবারেও।

তাদের কথা ভেবেই, বিপর্যয়কে পার করে, নতুন করে লড়াই করে সর্বহারা সেই মানুষের আবার সর্বজয়া হয়ে ওঠার গল্প বলছে উত্তর কলকাতার গৌরীবেড়িয়া সার্বজনীন। বজ্রপাতে মানুষের যে ক্ষতি হয়, সেই ক্ষতির কথাই উঠে আসছে মণ্ডপের কোণায় কোণায়। আছে লড়াই, আছে বাঁচার চেষ্টা। এসব পরিবারের মায়েরা সমস্ত বিপদে কীভাবে ঢাল হয়ে দাঁড়ান সেই চিত্রও তুলে ধরছেন শিল্পী সৌরভ নাগ।মণ্ডপ দাঁড়িয়ে থাকবে আটটি স্তম্ভের ওপর। এই আটটি স্তম্ভ সমাজের বিভিন্ন রকম পেশাকে তুলে ধরবে। কোনও একটি স্তম্ভের পতন হলে পরিবারের যে ক্ষতি হয় তাকেই সর্বহারার সঙ্গে তুলনা করেছেন শিল্পী। কিন্তু এখানেই থেমে থাকা নয়, বিপদকে হারিয়ে সেই মানুষগুলোও একদিন আবার জয়ী হন। বাংলার কোণে কোণে এমন হাজার গল্প আছে। সেইসব মানুষের লড়াই উঠে আসছে উত্তর কলকাতার এই পুজোতে।

কে কোন তারকার ছেলে, সেটা দেখা আমাদের কাজ নয়: আরিয়ানকে গ্রেফতার করে বললেন এনসিবি প্রধান

সর্বজয়াকে মূলত একটা চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে এখানে। সেই চরিত্র বাংলার ঘরে ঘরেই রয়েছে। বজ্রবিদ্যুতে আচমকা মৃত্যু এসে বহু পরিবারের ভিত নাড়িয়ে দেয়। অনেক পরিবারই অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে, দিশেহারা হয়ে পড়েন, নেমে আসে কালো ছায়া। সেই কালো ছায়ার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার গল্পই ‘সর্বজয়া’।শিল্পী সৌরভ নাগের কথায়, “আমরা মূলত বজ্রপাত নিয়ে কাজ করছি। তবে অনেক ক্ষেত্রে এই বজ্রপাতকে আমরা আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছি। বজ্রপাতে প্রচুর ক্ষতি হয় মানুষের। অনেকে পরিবারের মূল মানুষটিকেই হারিয়ে ফেলেন। তবে তার পরেও তারা আবার সর্বজয়া হয়ে ওঠে, সেই লড়াইয়ের কথাই দেখাচ্ছি।”

বজ্রপাত কবলিত এলাকায় মূলত যে সব পেশার ওপর পরিবার দাঁড়িয়ে থাকে সেই রকমই আটটি স্তম্ভের ওপর পুরো মণ্ডপটি দাঁড়িয়ে থাকবে। আর থাকবে বাজ পড়ে নষ্ট হওয়া গাছ, ক্ষতি হওয়া বাড়ির চিত্র। এইভাবেই বজ্রপাতে ক্ষতি হওয়া বিভিন্ন দৃশ্য আঁকা হবে গৌরীবেড়িয়া সার্বজনীনের মণ্ডপের মধ্যে।পুরো আয়োজন যে দর্শকদের জন্য, সেই দর্শকদের জন্যই মণ্ডপে ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের তরফেও সেই কথা মেনে নেওয়া হয়েছে। তাই এই কাজ সামনে থেকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে না পারায় কিছুটা মনমরা ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মান্টা মিশ্র। তবে দর্শকদের জন্য ফেসবুকে পুরো মণ্ডপকে তুলে ধরার ভাবনা নিয়েছে গৌরীবেড়িয়া সার্বজনীন।

মান্টা মিশ্র বলেন, “আমাদের আন্দাজ ছিল, এই রকম একটা রায় আসবে। সেই মতোই প্রস্তুতি নিয়েছি। আগের বারের রায়ের কথা মাথায় রেখেই এবার মণ্ডপ তৈরি করেছি। উৎসাহী জনতা যাতে বাইরে থেকেই মণ্ডপ ও প্রতিমা দর্শন করতে পারেন সেইভাবেই ভাবা হয়েছে।”

এই সর্বজয়ার গল্পে আবার বজ্রপাতে সর্বহারা এক মায়ের সন্তানই ভবিষ্যতে বজ্রপাত নিয়ে গবেষণা করছে। কীভাবে বজ্রপাত থেকে বাঁচা যায়, সেইসব উপায়ের ছোট ছোট ঝলকও উঠে আসবে মণ্ডপে। বলাই চলে প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের লড়াইয়ের এক প্রতিচ্ছবি।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.