HeaderDesktopLD
HeaderMobile

করোনা-শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে পুজোয় ‘তর্পণ’ হাতিবাগান নবীন পল্লীর

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘আশ্বিনের শারদ প্রাতে…’ রেডিওয় মায়ের আগামী বার্তার মধ্যে দিয়েই বাঙালির মহালয়া শুরু হয়। তার পরেই গঙ্গার বুকে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল নিবেদন করে তাঁদের সন্তুষ্ট করার মধ্যে দিয়ে ‘তর্পণ’ পালন করে বাঙালি। বহু যুগ ধরে চলে আসা এই রীতি এবার দেখা যাবে উত্তর কলকাতার এক গলিতে (hatibagan)।করোনা গত দেড় বছর ধরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারতে। বাদ পড়েনি বাংলা। প্রথম ঢেউয়ের ঝাপটা সামলে উঠতে না উঠতেই  দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঁচড়। দোরগোড়ায় তৃতীয় ঢেউ। প্রতিদিনই এই করোনাসুরের আক্রমণে প্রাণ হারাচ্ছেন বহু মানুষ। বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছে পরিবার। পুজোর আবহে তাই করোনায় মৃত মানুষদের প্রতি ‘তর্পণ’ জানানোর উদ্যোগ নিয়েছে হাতিবাগান নবীন পল্লী।হাতিবাগানে এক ছোট গলির মধ্যেই ভাবনাকে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোশাকুশি, তিল, গীতা, নামাবলি, খড়ম, কুলো, জামাকাপড়– অর্থাৎ তর্পণের সময়ে যা যা সামগ্রী প্ৰয়োজন সবকিছু দিয়েই মণ্ডপ সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। সাদা কাপড়ের ওপর ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে পুরো মণ্ডপের ভাবনাটা।

করোনাকালে এই এলাকা প্রায় ৪০-৫০ জন নবীন-প্রবীণ ব্যক্তিকে হারিয়েছে। শেষ সময়ে তাঁদের পাশে থাকতে পারেননি অনেকেই। এবার সেইসব মানুষদেরই শ্রদ্ধা জানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে হাতিবাগান নবীন পল্লী। সমগ্র এলাকার ভারাক্রান্তের ছবি ফুটে উঠবে এই মণ্ডপে। যাঁদের হারিয়ে ফেলেছেন এই সময়ে তাঁদের ছবি দিয়ে সাজানো হবে মন্ডপ।এই অভিনব ভাবনার পেছনে লুকিয়ে আছে দু’বছরে হারানো কিছু প্রিয়জনের স্মৃতি। করোনা যাঁদের কেড়ে নিয়েছে অকালে তাঁদেরকেই মনে করিয়ে দেওয়ার ভাবনা। গঙ্গায় নয়, গলির মধ্যেই ‘তর্পণ’ দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, মণ্ডপের ভাবনায় উঠে এসেছে ‘স্বর্গের সিঁড়ি’।

সবার জন্য পুজোর উপহার ভুলতে বসেছে বাঙালি, শপিং-ফর্দে বড় কোপ বসিয়েছে প্যানডেমিক

মণ্ডপ আপাদমস্তক সাদা রং ও কাপড়ের হলেও মা হয়ে উঠবেন রঙিন। সমস্ত রঙের মিশ্রণে মায়ের আসন সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। সেটাই স্বর্গ। ক্লাবের সদস্য সজল সাহা বললেন, “কথায় আছে, পরলোক গমনের পরে মানুষ সিঁড়ি বেয়ে স্বর্গে পৌঁছে যান। সেই জিনিসটাই ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি। মায়ের জায়গা রঙিন করার অর্থ ওটাকেই স্বর্গ বোঝানো। এই সিঁড়ি বেয়ে স্বর্গে যাবার পথ উঠে এসেছে ভাবনায়।”চমক এখানেই শেষ নয়। ভাবনা যেহেতু তর্পণের, তাই মহালয়ার দিনে বিশেষ পরিকল্পনা হাতিবাগান নবীন পল্লীর। ওইদিনই মণ্ডপের উদ্বোধন করা হবে। কোনও নামী তারকার হাতে নয়। সজলবাবু বলেন, “যে সমস্ত মানুষকে সামনে রেখে আমাদের এই মণ্ডপ তৈরি করছি, তাঁদের পরিবারের হাত দিয়েই মণ্ডপের উদ্বোধন করা হবে।”

আনন্দের মধ্যেও যে বিষাদের সুর বেজেছে, সেই সুরের রেশেই সেজে উঠছে হাতিবাগানের এই গলি। গঙ্গার নামে শান্তির বার্তা উঠে আসছে মণ্ডপের পরতে পরতে। সুর একটাই, ‘দূর হোক করোনা, ফিরুক শান্তি…’

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.