HeaderDesktopLD
HeaderMobile

মানুষের বোধের বার্তা দিয়ে নস্করপাড়া সার্বজনীন দুর্গোৎসবের থিম ‘বোধন’

0 57

গাছ কেটে ফেলা এ পৃথিবীর এক গভীর অসুখ। একের পর এখ প্রাকৃতিক বিপর্যয়, অসুখে ক্ষতবিক্ষত বসুন্ধরা। এখনই শিক্ষা না নিলে আরও অনেক বড় বিপদ অপেক্ষা করে আছে বলে বার্তা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নগরায়ন সভ্যতা যে কেবল বৃক্ষচ্ছেদন করে পৃথিবীর উত্তাপ বাড়িয়েছে তা নয়, মানব জীবনেও এই সর্বগ্রাসী অভ্যেস গভীর রেখাপাত করেছে। যার ফলস্বরূপ মানুষ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে, হয়ে পড়েছে স্বার্থপর। আর মানব জীবনের এই দৃষ্টিকোণকে মাথায় রেখেই দক্ষিণ কলকাতার পর্ণশ্রী থানা এলাকার নস্করপুর সর্বজনীন দুর্গোৎসব তাদের হীরক জয়ন্তী বর্ষের পুজো সেজে উঠছে। এখানে থিমের নাম বোধন।

শিল্পী উপাসনা চট্টোপাধ্যায়ের ভাবনায় নস্করপুর সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজোর এখন শেষ প্রস্তুতি চলছে। গত বছর যখন প্রতিশ্রুতিমান এই শিল্পীকে নিজেদের হীরক জয়ন্তী বর্ষের পুজো সাজানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তখন তার বাজেট ছিল বিশাল মাপের।

মূলত পুজো কমিটির প্রবীনদের কথাতেই তরুণী উপাসনাকে পুজোর দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আয়োজন শুরু হয়ে গিয়েছিল গত বছর ডিসেম্বর মাস থেকে। কিন্তু মার্চ মাসে করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের জেলা লকডাউন। ধারাবাহিক আড়াই মাসের লকডাউনে সব পরিকল্পনা বানচাল করে দেয়। লকডাউন উঠলে শিল্পী উপাসনা নিজেই পুজো কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। মহার্ঘ্য থিম থেকে সরে স্বল্প বাজেটের থিম প্রসঙ্গে পুজো কমিটির কর্তাদের জানান তিনি। শিল্পী আন্তরিকতার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হীরক জয়ন্তী বর্ষ পুজোর জন্য তাঁকে দায়িত্ব দেয় নস্করপুর সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি।

বোধন থিম প্রসঙ্গে শিল্পী বলছেন, “এখানে আমি মানুষের বোধের উদয়ের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কারণ এই নগরায়ন সভ্যতা যত এগিয়েছে ততই আমরা নিজের মাটি, পরিবার, সংস্কৃতি থেকে দূরে চলে যাচ্ছি। আমরা যেন মাটির গন্ধ কখনও না ভুলি। না ভুলে যাই পরস্পরকে। এখানে আমি সেকথাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এখন যে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তাতে আমাদের আত্মসচেতন হয়ে পরস্পরের পাশে হাতে হাত মিলিয়ে থাকার সময়।”

বোধন থিমে দেবী মুর্তি গড়ছেন শিল্পী উপাসনা চট্টোপাধ্যায় নিজেই। নিজের হাতে গড়া দেবীমূর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, “আমার ভাবনায় এখানে পদ্মাসনে বসে মা দেবী। সকলকে আশীর্বাদ করছেন যে সকলের আত্ম উপলব্ধি হোক।” ভাবনা বন্ধনকে আলোকসজ্জায় দিয়ে প্রাণবন্ত করবেন আলোকশিল্পী পিনাকী গুহ। আবহ সঙ্গীতের দায়িত্বে রয়েছেন সংগীতশিল্পী সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়।

এই পুজো প্রসঙ্গে কমিটির অন্যতম সদস্য সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “প্যানডেমিকের ধাক্কায় আমাদের কোমর ভেঙে গিয়েছিল। তাই কি করা উচিত করে উঠতে পারছিলাম না আমরা। কিন্তু উপাসনা আমাদের অল্প বাজেটে ভালো কিছু করে দেখানোর আশ্বাস দেওয়ার পরেই আমরাও সিদ্ধান্ত নিই। আমরা শিল্পীর উপর আস্থা রাখছি স্বল্প সাধ্যের মধ্যেই আমাদের হীরক জয়ন্তী বর্ষকে ও স্মরণীয় করে রাখবে।” তিনি আরও বলেন, “৮০ শতাংশ বাজেট কমাতে বাধ্য হয়েছি আমরা। প্যান্ডেলের বাইরে থেকে দাঁড়িয়ে যাতে ঠাকুর দেখা যায় তার জন্য খোলামেলা প্যান্ডেল করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তারক্ষী ও ভলেন্টিয়ার্সও থাকবে। মাস্ক ও স্যানিটাইজারের রাখা হচ্ছে ২৪ ঘন্টায়। মন্ডপের ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।”

ছবি: স্নেহাশিস দাস
You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.