HeaderDesktopLD
HeaderMobile

কঠিন সময়ে সাহস ও শক্তিতে ভর করে মাতৃ আরাধনা খিদিরপুর ২৫ পল্লির

0 39

করোনাকালে কি আদৌ শারদোৎসব সম্ভব? এমন প্রশ্ন বুকে নিয়েই প্রমাদ গণতে শুরু করেছিল উৎসব প্রিয় বাঙালি।‌ কিন্তু, মহালয়ার পর থেকেই স্বল্প পরিসরে সেজে উঠছে কলকাতার শারদোৎসবের আসর। সেই তালিকায় এবার প্ল্যাটিনাম জুবিলি পার করে নিজেদের পুজো সাজাচ্ছে দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যশালী পুজো কমিটি খিদিরপুর ২৫ পল্লি।

নামজাদা পুজোয় তালিকায় দক্ষিণ কলকাতার এই পুজো বরাবরই চমক দিয়ে এসেছে। এবারের ৭৬তম বর্ষেও চমকের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল গত বছর ডিসেম্বর মাস থেকে। যুবক শিল্পী প্রদীপ্ত কর্মকারকে সামনে রেখে শুরু হয়েছিল খিদিরপুর ২৫ পল্লির পরিকল্পনা। কিন্তু আচমকাই ছন্দপতন !

করালগ্রাসী করোনায় বিশ্বজুড়ে লকডাউন। পৃথিবীর তাবড় অর্থনীতিবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতেও তার কু-প্রভাব পড়েছে যথেষ্ট। তাই নতুন করে শিল্পী ও ক্লাব কর্তারা বৈঠক করে বিকল্প ভাবনাচিন্তা শুরু করতে বাধ্য হন। শেষে দু’পক্ষের সম্মতিতেই কাজ শুরু হয় নতুন ভাবে। সেই ভাবনার নির্যাস হিসেবে এবার ‘বিশ্বাসে বিস্ময়’ থিম নিয়ে কলকাতার দুর্গাপুজোর মঞ্চে হাজির হচ্ছে খিদিরপুর ২৫ পল্লি।

কী থাকছে এই থিম ভাবনায়? শিল্পী প্রদীপ্ত কর্মকার বলেছেন, “এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা। একসময় মনে হচ্ছিল এবার বোধহয় দুর্গাপূজো হবে না। কর্মকর্তারা যেভাবে মনোবল দেখিয়ে আমায় পুজোর জন্য উৎসাহী করেছেন তাতে আমার এই থিম এবারের অবরুদ্ধ সময়কে নিয়েই গড়ে উঠেছে। করোনা সংক্রমণের মধ্যেই আবার উমফন ঘূর্ণিঝড় দেখেছে কলকাতা। এসব কিছুর মধ্যেই মাতৃ আরাধনার লক্ষ্যে স্থির থেকেছে এই পুজো কমিটি। পরস্পরের পাশে থেকে সাহস ও শক্তি জুগিয়েছে তারা। এই ইচ্ছাশক্তিই আমার থিম ‘বিশ্বাসে বিস্ময়’-এ দেখা যাবে।”

প্রশাসনিক নিয়মবিধি মেনেই খোলামেলা ভাবে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। ঠাকুর দেখতে এবার আর মণ্ডপের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হবে না বলেই জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। সরকারের স্থির করে দেওয়া করোনাবিধি মেনেই সবরকম বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। খিদিরপুর ২৫ পল্লির দেবী মূর্তি গড়ছেন শিল্পী পরিমল পাল। আবহ সঙ্গীতে সুনীত ও ইন্দ্রদীপ।

এবারের পুজো উদ্যোগ প্রসঙ্গে খিদিরপুর ২৫ পল্লির অন্যতম কর্মকর্তা কালিপদ সাহা বলেন, “আমাদের কাছে এবারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অল্প খরচে ভাল পুজো করা। এই পরীক্ষায় আপাতত আমরা সফল হবো বলেই মনে হচ্ছে। এবার ঠাকুর দেখার আয়োজন দুপুর বেলা থেকেই শুরু করে দেব আমরা। তাই ঘণ্টায় ঘণ্টায় ভলেন্টিয়ার বদলের পাশাপাশি, পুজো মণ্ডপ থেকে থেকে যাতে কোনও ভাবেই সংক্রমণ না ছড়ায়, সে ব্যাপারেও কড়া নজর থাকবে পুজো কমিটির।”

(ছবি: স্নেহাশিস দাস)
You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.