HeaderDesktopLD
HeaderMobile

বন্দিদশায় মুক্তির আশ্বাস, রবিঠাকুরের ডাকঘর গল্পকে থিম করেছে বেহালা নূতন দল

0

দক্ষিণ কলকাতার বেহালা জনপদের শশীভূষণ মুখোপাধ্যায় রোডের এই শারোদৎসবকে এক দশক আগেও কলকাতা কেন, বেহালার বহু বাসিন্দাই চিনত না। কিন্তু ২০০৬ সালে প্রথমবারের জন্য থিম পুজোর আঙিনায় পা রেখেই বাজিমাত করে বেহালা নূতন দল। তার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি এই পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের।

সেরা শারদোৎসবের সমস্ত শিরোপা ইতিমধ্যেই পাওয়া হয়ে গিয়েছে বেহালা নূতন দলের। এবার পালা শুধু নিত্যনতুন নজির তৈরি করার।‌ ৫৫তম বছরে বেহালা নূতন দলের থিম: ‘অমলের বাড়ি’। শিল্পী বিশ্বনাথ দের ভাবনায় তৈরি হয়েছে বেহালা নতুন দলের মণ্ডপ।

অমলের নামটি শুনলেই বাঙালির মননে আসেন রবীন্দ্রনাথ। কতকাল আগে রবি ঠাকুর লিখে গিয়েছেন ‘ডাকঘর’ গল্প। সেই ‘ডাকঘর’ গল্পে ছোট্ট অসুস্থ অমল গৃহবন্দি হয়েই দেখে বাইরের দুনিয়া। অসুস্থ অমলের সঙ্গে দইওয়ালার সেই গল্প কেই বা ভুলতে পারে?

শিল্পীর কথায়, “করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আবহে প্রত্যেক মানুষের অবস্থায় অমলের মতো। এই মারণ ভাইরাস সমগ্র মানবজাতিকে বন্দি করে রেখেছে। কেউ গৃহবন্দি, কেউ বা হাসপাতালে বন্দি। মুক্ত বাতাস নিতেও অন্তরায় হয়েছে মাস্ক।

এমন পরিস্থিতিতে অভিনব ভাবনা নিয়ে বেহালার নতুন দলের মণ্ডপ জুড়ে চোখে পড়বে অসংখ্য লেটারবক্স ও জানালা। যা দিয়ে সমগ্র মানবজাতি যেন কোনও বার্তা দিতে চাইছে ঈশ্বরকে। চাইছে এ বন্দি দশা থেকে মুক্তির আশ্বাস! এখানে মূর্তিতে একটি বিশেষত্ব রেখেছেন শিল্পী বিশ্বনাথ। ডাকঘর গল্পে অসুস্থ অমলকে ফুল উপহার দিয়ে যেত সুধা নামে এক বালিকা। এখানে সেই সুধাকে দেবীরূপে অধিষ্ঠিত করেছেন শিল্পী। দেবীর হাতে নেই কোনও সামরিক অস্ত্র। শ্বেতবসনা দেবীর হাতে থাকবে পুষ্প।

মূর্তিতে প্রাণ দান করেছেন পিউ পাল। আলোক পরিকল্পনায় দীনেশ পোদ্দার, আলোক সঞ্চালনায় শান্তনু দাস। আবহ সঞ্জয় দাস। কণ্ঠ সংযুক্তা দাস। মণ্ডপ নির্মাণে রবীন্দ্রনাথ পাল, সহযোগিতায় বিশ্বজিৎ মন্ডল ও পুতুল ঘোষ।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক দুধকুমার মণ্ডল ও বলরাম দত্ত বলেন, “কোভিড সংক্রমনের জন্য আমরা মণ্ডপে বহুবিধ ব্যবস্থা রেখেছি। ভিতরে ১৫ জনের বেশি মানুষ ঢুকতে দেওয়া হবে না। সামাজিক দূরত্ব যেমন বজায় থাকবে, মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থাও রাখা হবে মণ্ডপেই।”

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.