HeaderDesktopLD
HeaderMobile

বেহালা ক্লাবে আসছেন দক্ষরাজের কন্যা দাক্ষায়ণী, ঠিক যেমন মেয়ে আসে বাপেরবাড়ি

0 75

দক্ষরাজের কন্যা দাক্ষায়ণী নাম নিয়ে মর্ত্যে আবির্ভাব হয়েছিল দেবী দুর্গার। মহামায়ার সেই দাক্ষায়ণী রূপ নিয়েই দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যশালী বেহালা ক্লাব হাজির হচ্ছে এবারের দুর্গাপুজোয়।

২০২০-র শারোদৎসব সবদিক থেকেই একটু আলাদা। পুজো কমিটিগুলির নুন আনতে পান্তা ফুরানোর জোগাড় ! করোনা মহামারী যেমন আঘাত হেনেছে মানবজীবনে, তেমনি অর্থনীতির ভাঁড়ারেও টান দিয়েছে। তাই এবারের পুজোর আয়োজন করতে কালঘাম ছুটছে উদ্যোক্তাদের। তবু সকল বাধাবিঘ্ন কাটিয়ে কলকাতার শারদোৎসবের রণাঙ্গন একটু একটু করে সেজে উঠতে শুরু করেছে। এই সঙ্কটকালে বেহালা ক্লাবের পুজো ৭৬ তম বর্ষে পদার্পণ করবে। সেই পুজো সাজিয়ে তুলছেন শিল্পী অদিতি চক্রবর্তী।

শিল্পীর ভাবনায় দেবী এখানে ধরিত্রীবাসীর কন্যা। বছরে একবার মাত্র তাঁর বাপের বাড়ি আসা। যতই বাধা বিপত্তি থাকুক না কেন, বছরে একবার বাপের বাড়ি আসা কোনও ভাবেই আটকাবে না তাঁর। এই বসুধাবাসী দেবীর অতি আপনজন। তাঁদের এমন চরম মুহূর্তে বাড়ির মেয়ের আগামন যেন স্বাভাবিক ঘটনাই শিল্পীর কাছে। এই ভাবনা থেকেই থিম ‘দাক্ষায়ণী’ বেছে নিয়েছেন শিল্পী অদিতি।

তাঁর কথায়, “কোভিড সংক্রমণের আবহে গোটা বিশ্ব এখন সংকটে। ভেবে বলুন তো, আমরা মেয়েরা বাপের বাড়িতে কোনও সংকট হলে যাই না? পিতা-মাতা যখনই সংকটে পড়ে মেয়েরা তখনই নানারূপে, নানা সময় তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এটাই হয়ে এসেছে, এটাই হবে। তাই আমার ভাবনায় দেবী দাক্ষায়ণী এই সঙ্কটকালে ধরিত্রীতে আসবেন। সংক্রমণ নামক অসুরকে উপেক্ষা করেই আসবেন। আর নারী যে শক্তির স্বরূপ, তা এই কঠিন সময়েই তুলে ধরা উচিত।”

ঘটনাচক্রে, গত বছর ছিল বেহালা ক্লাবের প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপন। সেবারও এই পুজোয় প্রাণদান করেছিলেন শিল্পী অদিতিই। এই সংকটকালেও বেহালা ক্লাব ও অদিতির সংযোগ অটুট রয়েছে। অর্থনৈতিক ডামাডোলের বাজারে পুজোর বাজেট ৭৫ শতাংশ কমে গিয়েছে তাদের। এই কঠিনতর পরিস্থিতিতে বেহালা ক্লাবের থিম শিল্পী হিসেবে কোনও রকম অর্থের দাবি করেননি শিল্পী অদিতি চক্রবর্তী। এমনটাই জানিয়েছেন বেহালা ক্লাব দুর্গোৎসব কমিটির কো-অর্ডিনেটর তরুণাভ চৌধুরী।

তাঁর কথায়, “আমরা আমাদের শিল্পী থেকে শুরু করে পুজোর সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকটি মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। গতবছর প্ল্যাটিনাম জুবিলি বর্ষ উদযাপনের পর অর্থনৈতিকভাবে ক্লাবের ওপর চাপ ছিল। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও লকডাউন সেই চাপ কয়েকশো গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় শিল্পী অদিতি ও আমাদের আলোকসজ্জায় দায়িত্বে থাকা মিউজিক কর্ণার আমাদের কাছে কোনও নির্দিষ্ট দাবিদাওয়া রাখেননি। ফলে যে চাপ আমাদের মাথার উপর ছিল তা তাদের সৌজন্য অনেকটাই কমে গিয়েছে।”

দেবী দাক্ষায়ণী-র প্রতিমা গড়ছে অরুণ পাল এন্ড সন্স।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.