HeaderDesktopLD
HeaderMobile

কলকাতার দাঁ পরিবারের বনেদী পুজোর আগে জমজমাট ‘আগমনী বৈঠক’

0 87

কলকাতার বনেদী বাড়ির পুজো নিয়ে চিরকালই বাঙালিদের একটু বেশি আগ্রহ। তার কারণও আছে। ঐতিহ্যবাহী এই পুজোর আচার অনুষ্ঠান একেবারে আলাদা হয় যে! এক একটা বাড়ির পুজোতে ঠাকুরের পোশাক থেকে শুরু করে খাওয়া দাওয়া পর্যন্ত সব কিছুর পেছনেই একটা করে আলাদা গল্প থাকে।

এবারেও শত বাধার মধ্যেই এসে গেছে পুজো। তার আগে সারা বাংলায় বাজে আগমনী সুর, কোথাও কোথাও এই উপলক্ষে অনুষ্ঠানও আয়োজিত হয়। কথায়, গানে, গল্পে সেজে ওঠে মঞ্চ। ১০ই অক্টোবর ‘ইন্ডিয়া ট্যুরিজম কলকাতা’ এবং ‘ইন্ডিয়া ট্যুইনস’-এর যৌথ উদ্যোগ ‘দেখো আপনার দেশ’ প্রচারের জন্য ভারত সরকারের পর্যটক মন্ত্রক দুর্গা পুজোর আগে ‘আগমনী বৈঠক’ নামে এক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

কলকাতার জোড়াসাঁকোর শিব কৃষ্ণ দাঁ বাড়ির দালানের এই বৈঠকী অনুষ্ঠানে প্রধানত তুলে ধরা হয় বাংলার পুরোনো সংস্কৃতিকে।

কলকাতার বনেদী পরিবারের পুজোগুলোর নানা দিক থাকে। এই পুজোর আসল আচার অনুষ্ঠান, বাড়ির ইতিহাসের গল্প, পুজোর গল্প, কথা, গান ইত্যাদি দিয়ে সাজানো হয়েছিল এই অনুষ্ঠান। বাঙালির সবচেয়ে আনন্দের উৎসব দুর্গাপুজো। বাংলার ঐতিহ্যকে বজায় রেখে নানা শিল্প, সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটে এই সময়।

১৫০ বছরেরও পুরনো এই দাঁ বাড়ির পুজো। তাদের আচার যদিও অন্যান্য বনেদি বাড়ির তুলনায় অনেকটাই আলাদা। বৈষ্ণব রীতি অনুসারে পুজো হয় এখানে। ফলে পশুবলি হত না পুজোয়। মায়ের গলায় থাকে সোনার গয়না। তৎকালীন সময়ে এই সোনার গয়না আসত বিদেশ থেকে। এখনও প্রতিবছর দাঁ বাড়ির পুজো দেখার জন্যে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। যদিও এবারের নিয়ম একেবারে আলাদা।

কলকাতার ও বাইরের বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার, জেনারেল ম্যানেজার, কলকাতার বিশেষ কয়েকজন শিল্পী, বনেদি বাড়ির সকল সদস্য এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা মিলে মোট ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকী আড্ডায়। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই অনুষ্ঠানে বসার আয়োজন করা হয়েছিল। মাস্ক পরেই ছিলেন সকলে। বসার জায়গায় কোনও রকম প্যান্ডেল করা হয়নি, যাতে হাওয়া বাতাস ভালভাবে চলাচল করতে পারে সেইভাবেই সাজানো হয় দালান।

কলকাতার বনেদী বাড়ির পুজোতে খাবারের রেওয়াজও আলাদা। এই বাড়িতে আবার অন্নভোগের প্রচলন নেই। মিষ্টি, লুচি, গজা, খাজা থাকে ভোগে। এই অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য আনা হয় ১৮২ বছরের পুরোনো মিষ্টির দোকান ‘মাখনলাল অ্যান্ড সনস’ এর বিখ্যাত কুচো নিমকি, পন্ড নিমকি, কাঠি নিমকি। রসগোল্লা এখন নানা জায়গায় পাওয়া যায়। কিন্তু এই দোকানের মিষ্টির আলাদা করে বিশেষ সুনাম আছে কলকাতায়। তাই দিয়েই আপ্যায়ন করা হয় অতিথিদের।

কলকাতার বিখ্যাত বনেদী বাড়ির সদস্য এবং পেশায় উকিল শ্রী ইন্দ্রদীপ নারায়ণ এবং আমেরিকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পরিচালক শ্রীমতী সোহিনী দাস এই অনুষ্ঠানে পরিবেশন করেন নানা পুরাণ কথা, দুর্গাপুজোর নানা গল্প। সোহিনী রায় চৌধুরী বাংলা আগমনীর গান করেন। বনেদী বাড়িতে পুজোর আগে মা দুর্গার আগমনের সময় টপ্পা গান গাওয়া হত। সেই টপ্পা-গান এই বৈঠকে বনেদি বাড়ির এক সদস্য পরিবেশনা করেন।

এই বৈঠকের উপস্থিত দর্শকরা জানান গল্পে, গানে তাঁরা এতটাই বিভোর ছিলেন যে একটা সময় তাদের মনে হয়েছিল তাঁরা পুরনো দিনে ফিরে গেছেন।

কলকাতার বনেদী বাড়ির অন্দরমহল, তাদের পুজোর রীতিনীতি, আচার অনুষ্ঠান, কলকাতার আসল ‘বাবু সংস্কৃতি’, আধুনিক যুগে বনেদী বাড়ির ঐতিহ্য, পুরোনো সংস্কৃতি ধরে রাখাটা কতটা কঠিন তার গল্প তুলে ধরাই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.