HeaderDesktopLD
HeaderMobile

খোলামেলা মণ্ডপে সুবিশাল চিন্ময়ী মা, নিয়ম মেনেই ঐতিহ্য পালন বাগবাজার সার্বজনীনে

0 56

কলকাতার প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতীক বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব। চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী ১০২ বছর ধরে এই পুজো হয়ে আসছে। থিম পুজোর আড়ম্বর নয়, সাবেকিয়ানার আবহে ঘেরা এই উৎসবে আজও পাওয়া যায় ইতিহাসের গন্ধ। এই কোভিড সংক্রমণ কালেও সে আমেজ অক্ষুণ্ণ থাকবে বলেই জানিয়েছেন বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব পুজো কমিটি।

কমিটির অন্যতম কর্তা বাপি ঘোষ জানিয়েছেন, প্রতি বছর দুর্গা প্রতিমার উচ্চতা যা থাকে এবছরও উচ্চতা একই থাকছে। তবে সরকারি নির্দেশ মেনে পুজোমণ্ডপ অনেক বেশি খোলামেলা করা হচ্ছে। মণ্ডপের প্রবেশপথ অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে দর্শনার্থীরা মণ্ডপের বাইরে থেকেই প্রতিমা দর্শন করতে পারেন এই কারণেই প্রতিমার উচ্চতা কমানো হয়নি। ভিড় এড়াতে ৩০ ফুটের তিনটি বড় গেট করা হচ্ছে। বাইরে যাওয়ার পথ প্রায় ১৬ ফুট খোলা রাখা হয়েছে। যদি দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি হয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে পেছনের দিক থেকে তাদেরকে তাড়াতাড়ি বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাতে কোনও মতেই পুজো মণ্ডপে বেশি ভিড় না হয়।

বাগবাজার সর্বজনীনের ঠাকুর দেখতে গেলে তিনটি বিষয় শর্ত পূরণ করতে হবে দর্শকদের। প্রথমত মাস্ক বাধ্যতামূলক, দ্বিতীয়ত সামাজিক দূরত্ব ও তৃতীয় বিষয়টি সঠিক ভাবে স্যানিটাইজার ব্যবহার করা। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে স্যানিটাইজার টানেল যেমন বসানো হবে, তেমনই প্রতিদিন মন্ডপ স্যানিটেশনের কাজ চলবে জোরকদমে।

মুখ্যমন্ত্রী কমিটিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিলেন খোলামেলা প্যান্ডেল করার। সেই নির্দেশ মেনে বাগবাজার সর্বজনীনের প্যান্ডেল তিন দিক থেকে উন্মুক্ত থাকছে। সঙ্গে কোনও দর্শনার্থী মাস্ক না পরে এলে তাকে মাস্ক দেওয়ার পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। বিষয়গুলিতে নজরদারির জন্য থাকবেন বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব স্বেচ্ছাসেবকরা।

বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসবের এবারের প্রতিমা গড়ছেন মৃৎশিল্পী জিতেন্দ্র নাথ পাল। চিরাচরিত প্রথায় বাগবাজারে যে চিন্ময়ী রূপ দেখে এসেছে কলকাতাবাসী, সেই রূপে বদল আনা হচ্ছে না এবারও।

পুজোর রীতিনীতির সঙ্গেও আপস করতে চাননি পুজো কমিটির সদস্যরা। তা সত্ত্বেও, কিছু ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাপি ঘোষ বলেন, “ভোগ বিতরণ, অষ্টমীর অঞ্জলি ও সিঁদুর খেলা– এই তিনটি বিষয় নিয়ে আমরা এখনও আলোচনা করছি। তবে যতদূর আলোচনা হয়েছে তার নিরিখে বলা যায় সিঁদুর খেলা অন্যবারের মতো এবার আর হবে না। কারণ, বছর আমরা সকালবেলায় প্রতিমা বিসর্জনের কর্মসূচি স্থির করেছি।”

দূর-দূরান্তের এলাকা থেকেও বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসবের দেবীকে অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে আসেন বহু মানুষ। এক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা। বেশ কিছু নতুন পদ্ধতির কথা অঞ্জলি নিবেদনের জন্য ভাবা হচ্ছে। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

প্রাচীন রীতিনীতি মেনে কয়েক হাজার মানুষকে ভোগ খাওয়ানো হতো বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পক্ষ থেকে। কিন্তু করোনার দাপটে এবার ভোগ বিতরণ একেবারেই বন্ধ থাকছে। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় দাঙ্গা পরিস্থিতির জন্য বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব ঘটে হয়েছিল। তাছাড়া ১০২ বছরের শারদোৎসবের রীতিনীতিতে কখনও বদল আসেনি। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু পুরোনো রীতি এবছরের মতো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ছবি: স্নেহাশিস দাস
You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.