HeaderDesktopLD
HeaderMobile

ক্রিয়েট ইওর ওন ফ্যাশন, পুজোসাজের প্রস্তুতি শুরু হোক আজ থেকেই

0

গৌরী বোস

দরজায় কড়া নাড়ছে পুজো। গতবছরের মত এবছরও করোনা-পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে বোঝা না যাওয়ায় বেড়ানো, শপিং থেকে সাজের প্ল্যানিং সব কিছুই শেষ মুহূর্তের জন্য তোলা ছিল। তাই হাতে আর একদম সময় নেই। এই পুজোয় নজরকাড়া সাজতে হলে প্রস্তুতি নিন আজ থেকেই।
দুর্গাপ্রতিমা গড়তে
যেমন আগে কাঠামো তৈরি করা হয়, মাটির প্রলেপ দেওয়া হয় তারপর, তেমন সাজগোজের ক্ষেত্রেও প্রস্তুতি নিতে হয় আগে থেকেই। যারা কোনও কিছুই বদার করেন না, তাঁরাও কিন্তু দুটো জিনিস নিয়ে বদারড্‌। চামড়ার ‘ট্যান’ হয়ে যাওয়া আর চুলের সৌন্দর্য। এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলে রাখি, ট্যান ‘পড়ে’ না, ট্যান ‘হয়’। এই ট্যানের প্রথম স্টেজ হল সানবার্ন, যা অগ্রাহ্য করলে সেটা ট্যানে পরিণত হয়। এটা বাড়তে দেওয়া কোনওভাবেই উচিৎ নয়। একটা স্টেজ অব্দি এই সানবার্ন রিমুভ করা যায়। তাই সজাগ থাকতে হবে, সানবার্ন এমন জায়গায় যেতে না পারে যেখানে আর ১০০% রিপেয়ারেব্‌ল থাকবে না।

চটজলদি কিছু সমাধান:
মনে রাখবেন ট্যান থেকে মুক্তি পাবার চিকিৎসা কোনওমতেই ‘ব্লিচ’ নয়। এটা আমি রেকমেন্ড করি না। কেমিক্যালবিহীন ‘টোনিং’ নিয়মিত সানবার্ন থেকে স্কিনকে রক্ষা করে অর্থাৎ মাসে ২টো টোনিং করলে সানবার্ন ট্যানে পরিণত হতে পারে না। কিন্তু ট্যান যদি হয়ে গিয়েই থাকে, সেক্ষেত্রে কেমিক্যালবিহীন ‘পিলিং’ করতে হবে যার একটি মাত্র অ্যাপ্লিকেশনে প্রায় ৮০% ট্যান রিমুভ করা যায়। আর গভীরতা যদি কম হয় সেক্ষেত্রে পুরোটাই ক্লিন হয়ে যায়।অনেকে ভাবেন এটা বুঝি বেদনাদায়ক। একবারেই তা নয়, বরং আরামদায়ক, আর কোনও সাইডএফেক্টও নেই– অনেকটা ফেশিয়ালের প্যাকের মত।
স্থেটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী কোনটা প্রযোজ্য জেনে নিয়ে চটপট নিজের স্কিনের রং ফিরিয়ে আনুন। এরপর ফেশিয়াল যদি করাতে চান তো আরও ভালো।ফেশিয়াল করার পর মেনটেনেন্স হিসাবে কী প্যাক ব্যবহার করবেন ও তার পদ্ধতি কী সেটা তাঁর কাছ থেকে ভালো করে জেনে নেবেন। যদিও এটা তাঁর দায়িত্ব, তাই তিনি নিজেই বলে দেবেন।

পা দেখা যাবে এমন ড্রেস পুজোয় পরলে ওয়াক্সিং করা উচিৎ, নাহলে দৃষ্টিকটু লাগে। বিশেষ করে যারা স্লিভলেস পোশাক পরবেন তাদের আন্ডারআর্ম ওয়াক্সিং মাস্ট। এছাড়া পুরো হাতেও ওয়াক্সিং করা যেতে পারে। সব সাজের সঙ্গেই হাত-পা পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ব্রাজিলিয়ান, আইসক্রিম, গ্লাভস্‌ এ্যান্ড বুটস্‌ ইত্যাদি নানান পেডিকিওর ও ম্যানিকিওর আছে। প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী বেছে নিন।আর চুলের সৌন্দর্য্যের জন্য সবার আগে দরকার ‘হেয়ার কেয়ার’, যেটা চলতি কথায় ‘স্পা’ নামে পরিচিত। এটা কিন্তু নিছক পোশাকি নাম নয়– স্পা কথার অর্থ হল ‘লাইন অফ ট্রিটমেন্ট’। যারা পারমানেন্ট স্ট্রেটনিং ও কালারিং করাতে চান না, তারা পুজোর ক’টাদিন মেকওভারের জন্য টেম্পোরারি স্ট্রেটনিং ও কালার করতে পারেন। এই কালার কয়েকটা শ্যাম্পুর পর আস্তে আস্তে চলে যায়। কালারের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কালারিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করে খুব ভালোভাবে জেনেবুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।পার্মানেন্ট স্ট্রেটনিং-এর ক্ষেত্রে আরও সাবধান হতে হবে। চুলের টেক্সচার, অবস্থা কেমন সেটার ওপর চুলের ভালমন্দ থাকা ভীষণভাবে নির্ভর করে। সব থেকে উল্লেখযোগ্য হল ‘পোস্ট-কেয়ার’। সেটা করার মতো সময় বা সামর্থ্য না থাকলে নৈব নৈব চ। কারণ তাতে চুলের ক্ষতি অবধারিত, অনেক সময় যা অপূরণীয় হতে পারে। এই দায়িত্ব সম্পূর্ণ টেকনিশিয়ানের, তিনিই উপযুক্ত যত্ন বলে দেবেন।এর কোনওটাই বাধ্যতামূলক নয়। সবটাই নির্ভর করে আপনার চাহিদা ও প্রয়োজনের ওপর। মনে রাখবেন কথায় আছে ‘কেশেই বেশ’। তাই এসব না করলেও ‘হেয়ার কেয়ার’ জরুরি।

বহুরকমের হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট ও প্রসেস আছে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ থেরাপিস্টের পরামর্শে এই কাজ না করালে লাভের থেকে লোকসানের সম্ভবনা থেকে যায়। হেয়ার বাটার, রেস্টোরেশন প্যাক, এ্যান্টি-ব্রেকেজ, থ্রি-কভার বাটার বাথ, ইন্সট্রো/ইন্সট্রা গ্লো এ্যান্ড সাইন ইত্যাদি বহুরকমের কেয়ার আছে। এছাড়া হেয়ার লস্‌, ড্যানড্রাফ, ড্যামেজ, ড্রাই, অয়েলি ইত্যাদি হেয়ার ট্রিটমেন্ট তো আছেই। যার জন্য কয়েকটা ক্লিনিক্যাল সাপোর্ট ও বাড়িতে ‘রিলেটেড’ কেয়ারের প্রয়োজন হয়। হাতে আর সময় নেই, তাই ঝটপট বাজিমাত করার জন্য পুজোর আগে একটা ‘হেয়ার মেক-ওভার’ অর্থাৎ স্পা অবশ্যই করান।

পুজোয় ঘুরতে যাওয়ার লোক দুধরনের– একদল যারা এসি গাড়ি করে এসি জায়গাতেই যান, আর একদল যারা প্যান্ডেল হপিং করেন। এই দ্বিতীয় দলে যারা পড়েন, তাদের জন্য বেস মেক-আপ রেকমেন্ডেড নয়। আয়না, চিরুনি, লিপস্টিক প্রায় সব মেয়ের ব্যাগেই থাকে। শুধু এর সঙ্গে রাখতে হবে ওয়েট টিস্যু আর কম্‌প্যাক্ট। মুখ ঘেমে তেলতেলে হয়ে গেলে ওয়েট টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে কম্‌প্যাক্ট-এর পাফ ঝেড়ে মুখটা একটু পাফ করে নিলেই আবার আগের রূপে।পেট বডিলাইন থেকে বেড়িয়ে এসেছে এমন চেহারা যাদের, তাঁদের শিফন, নেট এই জাতীয় ‘সি-থ্রু’ শাড়ি বা ড্রেস এড়িয়ে চলাই ভালো, নয়তো দৃষ্টিকটু লাগবে।
যাদের হাইট শর্ট এবং
ভারীর দিকে চেহারা তাঁদের অ্যাংকেল লেন্থ ট্রাউজার বা ঐ জাদে আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় বড় ডিজাইনের প্রিন্টেড শাড়ি বা ড্রেস এড়িয়ে যাওয়া ভাল, তার বদলে লম্বালম্বি স্ট্রাইপ বা ছোটো ছোটো ডিজাইনের প্রিন্টেড শাড়ি বা ড্রেস পরলে শরীরের মাইনাসগুলো কম চোখে ধরা পড়বে।কোমরের ওপরের চর্বির ভাঁজ যদি পিঠ পর্যন্ত চলে যায় তবে লম্বা ঝুলের ব্লাউজ পরলে তা চোখে ধরা পড়বে না। এসব ক্ষেত্রে স্কিন-টাইট ড্রেস না পরাই ভাল।

এবার পুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে কিছু জিনিস সঙ্গে রাখবেনই– এক্সট্রা মাস্ক, স্যানিটাইজার এগুলো তো থাকবেই, এছাড়া নতুন জুতোর উপহারস্বরূপ ফোস্কার জন্য ব্যান্ডেড্‌।  আর অ্যালার্জি থাকলে অ্যান্টি অ্যালার্জি ট্যাবলেটও মাস্ট।

সবশেষ বলি, ফ্যাশনে ইন বলেই সে ড্রেস পড়তে হবে, না মানলেও সেভাবেই সাজতে হবে – এমন নয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি ফ্যাশন ইন বা আউট এতে বিশ্বাসী নই। আমি মনে করি, যে পোশাক আমার চেহারা, ব্যক্তিত্বকে কমপ্লিমেন্ট করে, স্বচ্ছন্দে থাকতে সাহায্য করে আর আত্মবিশ্বাসী করে তোলে তাই আমার ফ্যাশান। সুতরাং এই পুজোয় ‘ক্রিয়েট ইওর ওন ফ্যাশান’।

 

লেখিকা বিশেষজ্ঞ এস্থেটিশিয়ান, মেক-আপ ডিজাইনার ও এডুকেটর,
যোগাযোগ- শাকম্ভরী বডি এ্যান্ড বিউটি ক্লিনিক
203, এ.পি.সি. রোড, কোলকাতা 700004
মোবাইল : 7003893883 

 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.