HeaderDesktopLD
HeaderMobile

স্ট্রেস থেকে চুল উঠছে? পুজোর আগেই ঘরে বসে জেনে নিন সমাধানের উপায়

0

গৌরী বোস

চুল ওঠার (hairfall) সমস্যায় অনেকেই নাজেহাল। পরিবেশ, পরিস্থিতিজনিত স্ট্রেস ছাড়াও বাড়তি কাজের স্ট্রেস, যত্নের অভাব, তারপর বর্ষাকাল। চুল ‘হাইগ্রস্কপিক’ নেচারের, তাই বর্ষায় বাতাসের আর্দ্রতা শুষে নিয়ে নেতিয়ে পড়ে, যেমন নুন বর্ষায় গলে যায়। ফলে বাজে গন্ধ, নানান সংক্রমণ, স্ক্যাল্পে লাল দানার মতো র‍্যাশ (কখনও তাতে ব্যথা), খুশকি। সব মিলিয়ে চুল ওঠার চূড়ান্ত সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই।সমস্যা যেমন আছে, সমাধানও আছে। তবে প্রথমেই ‘চুল উঠছে’ এই দুশ্চিন্তা কন্ট্রোল করতে হবে। কারণ করোনা পরিস্থিতি কারোও হাতে নেই। কবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরব, তাও জানা নেই কারোও। সেইজন্য একমাত্র উপায় ‘সেলফ্‌ কাউন্সেলিং’, আর তার সাথে দরকার কিছু সতর্কতা ও উপযুক্ত যত্ন। তাহলেই এই সমস্যার হাত থেকে অন্ততপক্ষে ৭০-৮০ ভাগ সমাধান পাওয়া যাবে।

পুজোয় আপনার স্টাইল স্টেটমেন্ট হতে পারে স্টাইলিশ এই ব্যাগগুলি

সতর্কতা হিসেবে কী কী মেনে চলবেন?
ভিজে চুল না বাঁধার চেষ্টা করুন। চিরুনির দাঁড়া হবে মসৃণ। চিরুনি ৩-৪ দিন অন্তর পরিষ্কার করাটাও বাধ্যতামূলক। যারা সিঁদুর পরেন, অবশ্যই হার্বাল সিঁদুর ব্যবহার করবেন। মাসাজ থেকে শ্যাম্পু করা বা চুল মোছা যাইহোক জোরে ঘষাঘষি করে করা যাবে না, এতে চুলের ক্ষতি অবশ্যম্ভাবী। চুলের উপযুক্ত শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করা খুবই দরকার। যা হাতের সামনে পেলাম তাই ব্যবহার করে নিলাম, এই মানসিকতা বদলানো দরকার। নিজের আলাদা তোয়ালে, চিরুনি ব্যবহার করা সব সময় উচিত। বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত না হয়ে লোকাল উঠতি কোম্পানির বদলে ব্র্যান্ডেড্‌ ও টাইমটেস্টেড্‌ প্রোডাক্ট ব্যবহারই শ্রেয়। ভিজে চুল তোয়ালে দিয়ে যতটা সম্ভব শুকিয়ে নিয়ে তবেই চুল আঁচড়াতে হবে। আর্থিক সঙ্গতি থাকলে ব্র্যান্ডেড্‌ কোম্পানির ‘অ্যান্টি হেয়ার লস্‌’ বা ‘হেয়ার গ্রোথ’ ইত্যাদি লোশন, টনিক ব্যবহারে চুল ওঠার সমস্যা কমে যায় ও নতুন চুল গজায়। মাসে ২ টো ক্লিনিক্যাল ট্রিটমেন্ট অত্যন্ত জরুরি। ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ অন্তর ‘এন্ডস্‌ লক্‌’ এই বিশেষ কাট্‌টি করতেই হবে। এতে চুলের লেন্থ ছোটো হয় না, কিন্তু চুল ওঠার সমস্যা ৪০-৫০% কমে যায়।

র‍্যাশ ও খুশকি হলে কী করবেন?
প্রতিদিন ‘অ্যান্টি ফাঙ্গাল’ বা ‘ড্যানড্রাফ অয়েন্টমেন্ট’ (হার্বাল) ১:১ উষ্ণ জলের সাথে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে সারা রাত লাগিয়ে সকালে ‘অ্যান্টি ড্যানড্রাফ বা হেয়ার লস্‌’ শ্যাম্পু দিয়ে ওয়াশ করে একই গ্রুপের কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। সমস্যা কমে গেলে চুলের যত্নের জন্য সপ্তাহে এক বা দুদিন ব্যবহার যথেষ্ট। খুশকির ক্ষেত্রে মেডিকেটেড শ্যাম্পু যদি ব্যবহার করেন তবে তা বেশিদিন ব্যবহার করা যাবে না, তাতে চুল আরও ড্রাই হয়ে যাবে।

নেতিয়ে পড়া চুলের সমস্যায় কী করবেন?
একদিন অন্তর ভাতের ফ্যান, সেডার অ্যাপেল ভিনিগার ও হার্বাল হেয়ার কেয়ার পাউডারের পেস্ট তৈরি করে পুরো চুলে লাগিয়ে ৪০-৪৫ মিনিট পর ‘বাউন্স’ আনে এমন অর্থাৎ ভল্যুম শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।
চুলে দুর্গন্ধ দূর করতে কী করবেন?
কাফের লাইম ও সিট্রাসের (যে কোনও লেবু) খোসা বেটে পুরো চুলে লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট পর শ্যাম্পু করতে হবে।

ড্যামেজ ও রুক্ষ চুল সারাতে কী করবেন?

দুধের সর, ফ্রেশ ক্রিম আর মধু সমপরিমাণে নিয়ে হেয়ার কেয়ার পাউডার দিয়ে পেস্ট তৈরি করে পুরো চুলে লাগিয়ে আধঘণ্টা পরে ড্রাই হেয়ারের শ্যাম্পু দিয়ে চুল ওয়াশ করতে হবে।

লেখিকা বিশেষজ্ঞ এস্থেটিশিয়ান, মেক-আপ ডিজাইনার ও এডুকেটর।
যোগাযোগ- শাকম্ভরী বডি এ্যান্ড বিউটি ক্লিনিক
২০৩ এ.পি.সি. রোড, শ্যামবাজার
মোবাইল : 91634 14443 

মুখে মাস্ক, তাতে কী? পুজোয় তো মেকআপ মাস্ট, কিন্তু কেমন মেকআপ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.