HeaderDesktopLD
HeaderMobile

পাঁচ দিনে পাঁচ সাজ নিজস্ব স্টাইল ট্রেন্ড সেট করেছেন ডা: রূপালি বসু

0
পেশায় চিকিত্সক, কিন্তু তাঁর শিল্পীমন সবসময় চায় শিল্পের স্বীকৃতি। তাই বাংলার তাঁত, বালুচরি, কাঁথাকাজ থেকে অন্য প্রদেশের শাড়িশিল্পীদের সাহায্য করতেই তিনি শাড়ি কেনেন সারা বছর। উডল্যান্ড হসপিটালের সিইও এবং ডিরেক্টর ডা. রূপালি বসুর এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সোমা লাহিড়ী
‘যিনি রাঁধেন চুলও বাঁধেন’, এই প্রবচনটা আপনার ক্ষেত্রে সর্বৈব সত্য। ডাক্তারির মতো পেশায় থেকেও এতটা ফ্যাশন সচেতন, এটা কী করে সম্ভব?
রুপালি- আসলে ছোটবেলা থেকেই আমার সেলাই, বোনা, আঁকা এইসব ভালো লাগত। বাবা মাও আমার এই ভালো লাগাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতেন। বাবা আমাকে টেলারিং কোর্স করিয়েছিলেন। এখনও আমাকে ড্রেস মেটিরিয়াল দিলে আমি নিজের ডিজাইনে ড্রেস বানিয়ে দিতে পারব। এখন সময় নেই বলে সম্ভব নয়, কিন্তু ডাক্তারি পড়ার সময় নিজের ডিজাইনে কামিজ, চুড়িদার, এমনকী শাড়িও তৈরি করে পরতাম। বন্ধুরা খুব অ্যাপ্রিশিয়েট করত। বানিয়ে দিতে বলত।
দিতেন বানিয়ে?
রূপালি- দিতাম। আসলে সেই সময়ে তো এতো ডিজাইনার ছিলেন না। বুটিক বলেও কিছু ছিল না। তাই গতানুগতিকের বাইরে কিছু দেখলে সকলেই তা পেতে চাইতেন।কয়েক বছর আগেও তো আপনি নিজের ডিজাইনে তৈরি শাড়ির প্রদর্শনী করেছিলেন, তাই না?
রূপালি- করেছিলাম। একবার নয়, বেশ কয়েকবার। কয়েক হাজার শাড়ি তৈরি হয়েছিল। সিল্ক, তসর, পিওর জর্জেট, বাংলার তাঁতকে ক্যানভাস করে বাটিক, হ্যান্ডপেন্টিং, কাঁথা ও নানারকম এমব্রয়ডারি দিয়ে সাজিয়েছিলাম। তখন অ্যাপলোতে ছিলাম। প্রদর্শনীর লাভের অর্থ দেওয়া হয়েছিল অ্যাপলো এডুকেশনাল ট্রাস্টে।
আপনি তো অ্যাপলোতে থাকার সময় একটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেছেন…
রূপালি- হ্যাঁ, আজকের সম্পূর্ণা। ওটা অ্যাপলোর এডুকেশনাল ট্রাস্টেরই একটা বিভাগ। লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন। আমি বিশ্বাস করি ভালো থাকার জন্য শুধু মেডিসিন আর ট্রিটমেন্ট নয়, দরকার বেঁচে থাকার সবরকম রসদ। সাজগোজ, খাওয়া দাওয়া, ঘর সাজানো, বেড়ানো, সাহিত্য, ধর্ম সব কিছু মিলেমিশে ভালো রাখে আমাদের। ‘আজকের সম্পূর্ণা’ ম্যাগাজিনটাকে সেভাবেই সাজিয়েছিলাম। আমি অ্যাপলো ছেড়ে দেওয়ার পর পত্রিকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
আপনি নিজেও তো খুব সুন্দর করে সাজেন। সেটা কি মন ভালো রাখতে?
রূপালি- আমাদের পেশাটা খুব স্ট্রেসফুল। মানুষের জীবন নিয়ে কাজ। যদিও আমি এখন অফিস ওয়র্ক করি, কিন্তু সেটা আবার অন্যরকম টেনশন। তাই নিজেকে সাজিয়ে রাখলে নিজের যেমন মন ভালো থাকে, তেমন যাঁরা আমার সঙ্গে হসপিটালে কাজ করেন তাঁদেরও স্ট্রেস কিছুটা কমে। কাজে উৎসাহ আসে।তাই কি এবার উডল্যান্ডসে দুর্গা পুজোর আয়োজন?
রূপালিএক্কেবারে তাই। তবে ঠিক পুজো নয়, প্রতিমা আনা হয়েছে। রোজ প্রদীপ জ্বালানো হয়েছে। আর সবার জন্য পুজোর মেন্যু ছিল ফুলকো লুচি, বেগুন ভাজা, ফুলকপির ডালনা, চাটনি, পায়েস। পুজোর দিনে বাড়ির প্রিয়জনদের ছেড়ে হসপিটালে কাজ করতে আসতে ইচ্ছে করে কার? কিন্তু এইরকম আয়োজন দেখলে কাজের আগ্রহ বাড়ে। রোগীদেরও ভালো লাগে।
এবার আবার শাড়ি প্রসঙ্গে আসি। আপনি যে শাড়িই পরেন একটু অন্যরকম মনে হয়। সব শাড়ি কি আপনার নিজের ডিজাইন করা?
রূপালি- না না, সে সময় আর এখন পাই কোথায়? অনেক দায়িত্ব কাঁধে। তবু আমার ক্রিয়েটিভ সত্তা মাঝেমাঝে মুক্তি চায়। তাই ‘কনিস্ক’তে গেলে নন্দিতাদির সঙ্গে ডিজাইন রঙের কম্বিনেশন নিয়ে আলোচনা করে শাড়ি অর্ডার করি। অনামিকা খন্না, এমনকী সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা বলে শাড়ি করিয়েছি। কাঁথাকাজ করা শাড়ি বেশিরভাগই কিনি শামলু দুজেদার থেকে। তাই আমার কালেকশন এত সমৃদ্ধ।আপনার কাঞ্জিভরমের সম্ভারও তো নজরকাড়া…
রূপালি- দক্ষিণ ভারতে অনেকদিন ছিলাম কাজের সুবাদে। তাই নামী সিল্ক উইভার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ আছে। তারা এক্সক্লুসিভলি শাড়ি করে পাঠায় আমাকে। বেনারসের ক্ষেত্রেও তাই। কিছু অনলাইনেও কিনি। বছরে চল্লিশটা শাড়ি আমি কিনি। ঈশ্বরের কৃপায় সেই সামর্থ্য আছে বলেই কিনতে পারি।এতে শাড়িশিল্পীদেরও তো উপকার হয়, তাই না?
রূপালি- ঠিক। আমি শিল্পীদের মর্যাদা দিতে চাই। শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। উপযুক্ত অর্থ না পেলে তাঁরাই বা এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন কী করে? বাংলার তাঁত, ধনেখালি, টাঙ্গাইল, ঢাকাই জামদানিরও পৃষ্ঠপোষক বলতে পারেন আমাকে।সবশেষে জানতে চাইব, নিজেকে এতো গ্ল্যামারাস রেখেছেন কী করে?
রূপালি- অন্তরের শক্তিই মানুষকে সুন্দর রাখে। তাই এই অতিমারিতে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছি, কিন্তু মনের জোর হারাইনি। বি পজেটিভ, লুক ইয়াং।
You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.