HeaderDesktopLD
HeaderMobile

গয়নার বাক্স: রুপোয় বোনা রূপকথা, কাঠ-বাঁশ-পোড়ামাটিতে শিকড়ের টান

0 355

করোনাকালে মাস্কই একমাত্র প্রয়োজনীয় অ্যাকসেসরি। সামগ্রিক ফ্যাশনটাই এখন থ্রি-লেয়ার। টপ-বটমের সঙ্গে মাস্কও মাস্ট। ফ্যাশন ডিজাইনাররা বলছেন, এই সময় একগাদা জুয়েলারি না কিনে বরং আলমারি ঘেঁটে মা-ঠাকুমার পুরনো গয়নাতেই নতুন স্ট্র্যাটেজির ব্যবহার করা যেতে পারে। রেট্রো ফ্যাশনেও আসবে একটা পালিশ, ছিমছাম লুক। পেলব ঠোঁট বা টিকলো নাকের সৌন্দর্য তো চাপা পড়েই গেল, গ্লাভসে ঢাকা হাতে রকমারি আঙটি এখন খুব একটা খাপ খাবে না, বাকি কান-গলা আর হাতের সাজে একটু চমক আনা যেতেই পারে।

পুরনো দিনের সব ডিজাইনই এখন ফিরে এসেছে জাঙ্ক-ফ্যাশনে। বিয়ের অনুষ্ঠান হোক, অফিস পার্টি বা পুজোর ফ্যাশন, ঠাকুমা-দিদিমার কানবালাই বেছে নিচ্ছেন আঠারোর কলেজ তরুণী থেকে ত্রিশের ঝকঝকে আইটি-সফটওয়্যারের ললনারা।  গয়নার বাক্স ভরে উঠছে রকমারি পাথর বসানো কানবালায়। কাঁধের যত কাছাকাছি নামবে কানের দুল, ততই স্টাইলিশ হয়ে উঠবেন বঙ্গললনা। তবে করোনাকালে ছোঁয়া বাঁচিয়ে আর দ্রুত সাফসুতরো করার মতো কাঠ বা সেরামিকের গয়নারও খুব চাহিদা বেড়েছে এখন। তাছাড়া নানা রঙের প্লাস্টিক বিডস্ দিয়ে তৈরি  গয়নাও এখন ট্রেন্ডি।

কানবালাতে ফিউশন, সাবেকে মেতেছে ডিজিটাল প্রজন্ম

কানবালা, চাঁদবালির রেট্রো লুক এখন পছন্দ করছেন বিভিন্ন বয়সের মহিলারা। বাড়ির পুজোয় অষ্টমী বা নবমীর রাতের ভারী সাজ হোক বা সকালের অঞ্জলিতে সাবেকিয়ানায় নজর কাড়তে ধাতু আর মুক্তোর ফিউশনে পুরনো দিনের কানবালায় সাজছে আজকের প্রজন্ম। পশ্চিমী স্টাইলের সঙ্গেও বেশ খুলছে পুরনো ঘরানার চাঁদবালি। রেট্রো লুকেও নানা রকম ট্রেন্ড তৈরি করছেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। হাল্কা সুতির শাড়ির সঙ্গে লো-কাট ব্লাউজ সঙ্গে একটা ভারী নেকপিস, যে কোনও বয়সেই নজর টানতে বাধ্য।

রুপোয় তোমায় ভোলাব…

গয়নায় একটু অক্সিডাইজড লুক পছন্দ করেন আজকের জেন ওয়াই। যেখানে সেখানে চটজলদি সাজে সোনার গয়নার ঝক্কি নিতে চান না কেউই। আর স্টাইল স্টেটমেন্টেও আভিজাত্য রাখতে হাল্কা রূপোর গয়না সেখানে পারফেক্ট। আগে সোনার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রূপো ছিল অচ্ছুৎ। গয়না সমাজে খুব একটা মান্যি-গণ্যি করা হত না, বড়জোড় পায়ের তোড়া অবধি ছিল এর চাহিদা। এখন আবার রূপোই ফিরে এসেছে স্বমহিমায়, রীতিমতো আলোড়ন তুলে। কখনও অন্য কোনও ধাতুর সঙ্গে মিলিয়ে মিশিয়ে, আবার কখনও স্টারলিং  সিলভারেই তৈরি হচ্ছে রকমারি ডিজাইনার জুয়েলারি। যেমন ধরা যাক, এথনিক পোশাকের সঙ্গে মানানসই ছোট্ট চাপা কানের দুল, বা শাড়ির সঙ্গে নকশা করা ঝুমকো, ঝোলা দুল বা কানবালা, সঙ্গে ম্যাচিং রিস্টলেট— রূপোর প্রতিটি সাজই মনপসন্দ আধুনিকাদের। ডিজিটাল ললনাদের জন্য দারুণ ফ্যাশনদুরস্ত। আর প্রং-সেটিং ব্রেসলেট তো একেবারে হিরের চমক নিয়ে আসে। যে কোনও পশ্চিমী সাজের সঙ্গে একটা ব্রেসলেট কমপ্লিট লুক দেবে সন্দেহ নেই। কোমরের জন্য ওয়েস্টলেটও বেশ খাসা। যে কোনও কস্টিউম জুয়েলারির দোকানে পাওয়া যাবে।

Deepika Padukone in her modeling days | Silver jhumkas, Jhumka, Deepika padukone

হাতে বোনা রূপকথা, প্রতিটি নকশায় ফুটে ওঠে এক টুকরো গল্প

হাতের তৈরি গয়নার আমেজই আলাদা। সুতোর বুননে, বাঁশের কাজে, কাঠে খোদই করা নকশার পরতে পরতে জড়িয়ে থাকে স্বপ্ন। শিল্পী মনের কল্পনার সঙ্গে মিলেমিশে যায় কত আদর, যত্ন, ভাবনা, উষ্ণতার পরশ। পুঁতি, উল, রেশমি সুতো, পাথর, ডোকরা, মাটি, গাছের বীজ, নানা ধরনের কাগজ, কাঠ..সব দিয়েই বোনা যায় রূপকথা। প্রতি বছরই গয়নার ট্রেন্ড বদলায়। গত কয়েকবছরে কাঠ, মাটি, বাঁশের তৈরি পরিবেশ-বান্ধব জুয়েলারি বাঙালি মেয়েদের ওয়াড্রোবের অহঙ্কার হয়ে গেছে। এখন সুতো, গামছা, কাপড়ের পাড়, মাটির উপরেই বেস করে তৈরি হচ্ছে গয়না। হারের চওড়া লকেটে কোথাও সাবেক দুর্গার মূর্তি, কোথাও শহর কলকাতা আবার কোথাও সময়ের সঙ্গে তালমিলিয়ে হালফিলের ঘটনার থিম। হাতে-গলায় সুতোয় বোনা সূর্যমুখী ফুলের আদল বা জ্যামিতিক নকশা, রঙিন পুঁতি কাঠ বা কড়ি দিয়ে ডিজাইন এখনকার সময়ে বেশ ট্রেন্ডি।

DIY Hand Painted Jewelry / DIY Jewelry / Hand-Painted Wood Jewelry - YouTube

নকশা কেটে, খোদাই করে, রঙবেরঙের তুলির আঁচড়ে কাঠের গয়নায় স্বপ্ন ফুটিয়ে তোলেন নকশাকাররা। এই কাঠের সাজ আজকাল বেশি পছন্দ মেয়েদের। শাড়ি বা সালোয়ার, অথবা পালাজোর সঙ্গে কাঠের জুয়েলারি যে কোনও অনুষ্ঠানের জন্যই পারফেক্ট। মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে নানা রকমের পোশাকের সঙ্গেই পরা যায় এমন জুয়েলারি।

বাঁশের তৈরি পরিবেশ-বান্ধব গয়নার ট্রেন্ড এখন সারা দেশেই। বাঁশ বা কাঠ দিয়ে নানা রকম আদল তৈরি হয়, তার উপরে পাটের দড়ি, রঙবেরঙের পুঁতির কারুকাজ। যে কোনও পোশাকের সঙ্গেই মানানসই।

Female Mainly. Jute Jewellery, Rs 150 /piece Shailpik Jewellery | ID: 21737544412

নকশাকারের হাতের গুণে পোড়ামাটির গয়নার চাহিদাও অনেক। প্রতিটি গয়নার প্রতিটি দানার গায়ে একাধিক বর্ণের উপস্থিতি। একটির সঙ্গে অন্যটির রঙের তফাত। অভিজ্ঞ গয়নাকারের হাতের জাদুতে বাইরে থেকে একাধিক রং ঢালার দরকার পড়ে না,  পোড়ামাটির কৌশলেই ফুটে ওঠে রঙের রামধনু। আমাদের গ্রাম বাংলার গয়নাকারদের মুন্সিয়ানায় পোড়া মাটির সাজের কদর বেড়েছে গোটা দেশেই। শহুরে চাকচিক্যের অন্তরালে গ্রামের কুটিরশিল্পীদের হাতের জাদুতে ফ্যাশনিস্তা হয়ে উঠছেন কল্লোলিনীর ললনারা।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.