HeaderDesktopLD
HeaderMobile

জেলবন্দি আবাসিকদের তৈরি পোশাক নিয়ে পুজোর বাজার মাতাচ্ছেন অভিষেক

0

কোভিডের চোখরাঙানি থেকে পৃথিবী সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। তবুও দুর্গাপুজোয় বাঙালিরা নিজেদের এক্তিয়ারে দাঁড়িয়ে অল্পবিস্তর হলেও সাজগোজ তো করবেনই। তবে এ বছরে মহিলা ও পুরুষের ঠিক কী ধরনের ফ্যাশন ট্রেন্ড হবে তা নিয়ে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার (fashion-designer) অভিষেক দত্ত। চৈতালি দত্তের সঙ্গে তাঁর আড্ডায় উঠে এল পুজোর কালেকশন থেকে শুরু করে আগামী দিনে তাঁর নানা অজানা পরিকল্পনার কথা।একজন প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন ডিজাইনারের দৃষ্টিভঙ্গিতে কীভাবে দেখছেন এ বছরে পুজোর ফ্যাশন?
অভিষেক- গতবছর কোভিডের মধ্যেই দুর্গাপুজো হয়। এখনও কোভিডের প্রকোপ রয়েছে। থার্ড ওয়েভ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মানুষ ভীষণভাবে শঙ্কিত। তাই এ বছরের পুজোতে মানুষ কতটা হৈ-হুল্লোড় করতে পারবেন এবং কতটা বাধা-নিষেধ থাকবে তা অজানা। আমার মনে হয় মানুষজন গত দেড় বছরে গৃহবন্দি থাকার ফলে তাঁদের মধ্যে খুশি বা উৎসবের মেজাজ অনেকটাই এখন ফিকে হয়ে গেছে। তবুও পুজোর চার পাঁচটা দিন নাই বা হোক অন্তত একটা দিন তো মানুষ তাঁর বাজেটের মধ্যে অবশ্যই সাজগোজ করবেন। গত বছর যেমন বাড়ির বাইরে যাওয়ার পরিস্থিতি মানুষজনের ছিল না। আমি নিজেই তো আমার পরিবার নিয়ে কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে ছিলাম। সেখানে সারা পুজো কাটিয়েছি। এবারে মানুষজন সেজেগুজে ঘরে বসে থাকবেন নাকি বাইরে বেরতে পারবেন তা এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
গত বছরের পুজোর তুলনায় এ বছরের ব্যবসার ব্যাপারে আপনার কী অভিমত?
অভিষেক- আমি কিন্তু খুবই আশাবাদী। মানুষ দশটা পোশাক না কিনতেই পারেন। কিন্তু একটা পোশাক পুজোর জন্য কিনবেনই। আমার মনে হয় গত বছরের তুলনায় এ বছরের ব্যবসা কিছুটা হলেও ভালো হওয়া উচিৎ। হয়তো আগের মতো মানুষজন দামি কাপড়জামা কিনতে চাইবেন না। কারণ দামি জামাকাপড় পরে সেজেগুজে তো মানুষ ঘরে বসে থাকবেন না। তাঁকে তো বাইরে বেরোতে হবে। রীতি অনুযায়ী পুজোতে নতুন বস্ত্র পরতে হয়। এটাই প্রচলিত। তাই মানুষ একটা পোশাক তার বাজেটের মধ্যে অবশ্যই কিনবেন। সাধারণ মানুষ তো আমাদের মতো ডিজাইনারদের পোশাক কিনতে ভয় পান। তাঁদের ধারণা যে ফ্যাশন ডিজাইনাররা এলিট শ্রেণির জন্য শুধু জামাকাপড় তৈরি করেন। তাই সাধারণ মানুষের কথা ভেবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমি নিজস্ব একটা পোশাক-লাইন লঞ্চ করেছি, যা পকেট ফ্রেন্ডলি। একজন সাধারণ মানুষও তাঁর বাজেট অনুযায়ী ফ্যাশন ডিজাইনারের পোশাক অনায়াসে পরতে পারেন। দাম সাধারণের সাধ্যের মধ্যে।আপনার কালেকশন তো এলিট শ্রেণিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ…
অভিষেক‐ (মুচকি হেসে) তবে এবারে সাশ্রয়ী রেঞ্জ এনেছি। আমার আর আমার ইউনিটের ডিজাইন করা পোশাক জেলবন্দি আবাসিকরা তৈরি করেছেন। এই কালেকশনের নাম প্যারোল। এক হাজার টাকা থেকে দাম শুরু। এটি প্রেত কালেকশন। এছাড়াও আমার প্রিমিয়াম কালেকশন ‘অভিষেক দত্ত’ তো রয়েছেই।
প্যারোল কালেকশনে কী ধরনের আউটফিট রয়েছে?
অভিষেক‐ এই রেঞ্জে ছেলে-মেয়ে উভয়ের কালেকশন আছে। ছেলেদের শার্ট, নেহেরু জ্যাকেট, বন্ধ-গলা, লিনেন কুর্তি, ধুতি ইত্যাদি রয়েছে। মেয়েদের জন্য আছে আনারকলি, শার্ট, কুর্তা ইত্যাদি। জেলবন্দি আবাসিকরা পোশাকে সেলাই এবং এমব্রয়ডারি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।ডিজাইন আমি আর আমার টিম করেছি। ফলে প্রতিটি পোশাকে ডিজাইন এলিমেন্ট আছে। যেখানে ডিজাইনার হিসেবে অভিষেক দত্তের নিজস্ব ছাপ রয়েছে। যেহেতু আমি পিওর ফ্যাব্রিক নিয়ে কাজ করি তাই এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। একশো শতাংশ কটন, লিনেন, চান্দেরির হ্যান্ড উইভড ছাড়াও বেশিরভাগ লিনেন-কটন ব্লেন্ড করা ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হয়েছে। ছেলেদের ক্ষেত্রে লিনেনের ওপর শিভোরি কাজ করা জ্যাকেট রয়েছে। এছাড়াও পুরুষদের প্রিন্টেড শার্টের কলারে ডিজাইনার ডিটেলিং রয়েছে। প্যারোল রেঞ্জে খুব বেশি এমব্রয়ডারি নেই। মেয়েদের কুর্তায় অ্যাপ্লিক এবং শার্টের কিছু ক্ষেত্রে এমব্রয়ডারি রয়েছে। বেশিরভাগই টেক্সচার এবং আমার নিজস্ব প্রিন্টেড পোশাক এই রেঞ্জে আছে। প্রিন্টের মধ্যে গ্রাফিক ও ফ্লোরাল রয়েছে। আবার কোনও ক্ষেত্রে এই দুটো প্রিন্টের সংমিশ্রণ চোখে পড়বে।প্যারোল রেঞ্জের কী ধরনের পোশাকের কালার প্যালেট আছে?
অভিষেক‐ যেহেতু পুজো তাই পোশাকের কালার প্যালেট ব্রাইট প্যাস্টেল শেড- পিঙ্ক, লেমন ইয়ালো, সিগ্রিন, অরেঞ্জ, ব্লু শেডস। পুরুষদের ক্ষেত্রেও কোনও ‘ডাল ‘কালার ব্যবহার করা হয়নি। এই কালেকশন www.label-parole.com এই অনলাইনে মিলবে।পুজোয় এ বছরে মহিলাদের জন্য আপনার প্রিমিয়াম কালেকশনের স্পেশালিটি কী?
অভিষেক- (হেসে) অনেক কিছু আছে। খুব বেশি ভারি এমব্রয়ডারি কিছু করিনি। তবে এ বছরে হ্যান্ডওয়ার্কের ফ্রেঞ্চ নটের কাজ করা পোশাক আমার স্পেশালিটি। এটাই আমার স্টাইল। এছাড়া এথনিক ওয়্যার জামস্যুট, ড্রেপ জামস্যুট, লম্বা কুর্তা ড্রেস, ধোতি প্যান্টের সঙ্গে শ্রাগ জ্যাকেট, ইন্দো ওয়েস্টার্ন যেমন আছে, তেমনই আবার ব্লাউজের সঙ্গে শাড়ি গাউন রয়েছে। ইনস্ট্যান্ট জিপার লাগিয়ে পরে নিলেই হল। এটি ওয়ান পিস। পায়ের কাছে প্লিট করা। সেইসঙ্গে শাড়িতে নজরকাড়া হ্যান্ড এমব্রয়ডারির কারিকুরি চোখে পড়বে। এই ধরনের শাড়ি-গাউন আমার তিন-চার রকমের স্টাইলে রয়েছে। পোশাকের কিছু জায়গায় প্লেসমেন্টে এমব্রয়ডারি করা।পুরুষের প্রিমিয়াম কালেকশনে এবছরে বিশেষত্ব কী?
অভিষেক- ড্রেপ কুর্তা, শর্ট বন্ধগলা, নেহেরু জ্যাকেট, লিলেন ধুতির সঙ্গে অ্যাসিম্যাট্রিক কুর্তা।আর কালার প্যালেট?
অভিষেক- ইন্ডিগো ব্লু, কোরাল পিঙ্ক, ব্লু, পিচিশ পিঙ্ক, ত্যানজারিং ইত্যাদি।
এ বছরে প্রিমিয়াম কালেকশনের কী ধরনের দামের রেঞ্জ আছে?
অভিষেক- আসলে শুধুমাত্র পুজোকে মাথায় রেখে তো আমি কালেকশন করি না। কারণ আমার প্রচুর অবাঙালি ক্লায়েন্ট আছেন। ফলে তাঁদের কথা মাথায় রাখতে হয়। সেই সঙ্গে দিওয়ালি, ওয়েডিং-এর নানা অনুষ্ঠানে পরার জন্য কালেকশন করি। তাই এটিকে আমি ফেস্টিভ কালেকশন বলি। ফলে পুরোটা নিয়েই আমার সিজনাল কালেকশন তৈরি করা। সাধারণত প্রিমিয়াম কালেকশন দশ হাজার টাকা থেকে শুরু হলেও এ বছরে আট হাজার টাকার থেকে শুরু। মেয়েদের শাড়ি গাউনের দাম পনেরো হাজার টাকার থেকে শুরু হয়।
এই কালেকশনের থিম কী?
অভিষেক- ডিজিট্যাল প্রিন্টকে আমি হাইলাইট করেছি। এছাড়া মুর্শিদাবাদি হ্যান্ড উভেন সিল্কের ওপর কাজ করেছি। এতে খুব ভালো ‘ফ্লো’ দেয়। এবারের থিম ফ্লোরাল মোটিভ।

স্ট্রেস থেকে চুল উঠছে? পুজোর আগেই ঘরে বসে জেনে নিন সমাধানের উপায়

এবারে পুজোর পোশাকের ট্রেন্ড কী?
অভিষেক- গত দেড় বছর
গৃহবন্দি থাকার ফলে খুব বেশি ফিটেড জামাকাপড় পরতে মানুষজন এখন পছন্দ করছেন না। ফলে ইলাবোরেট গার্মেন্ট, ফ্লোয়িং বা এ-লাইন কাট ড্রেপিং স্টাইল এ বছরের ট্রেন্ড। একটু লুজ ফিটেড পোশাক পরা এখন সটাইল। ব্রাইট প্যাস্টেল কালার এই সিজনে ইন্। রেড অরেঞ্জ ছাড়াও ইয়ালো, পিচিশ পিঙ্ক, ইন্ডিগো ব্লু ইত্যাদি কালার এ বছরে ইন সিজন। প্যাস্টেল শেডের মধ্যে ব্রাইটার টোন এ বছরে খুব চলবে।করোনা আবহে ক্লায়েন্টের সঙ্গে কীভাবে সংযোগ রক্ষা করছেন?
অভিষেকে- এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভার্চুয়ালি করছি। যেহেতু এখন ডিজিট্যালের যুগ তাই কোনও অসুবিধা হয় না। এছাড়াও অনলাইনেও কেনাকাটার ব্যবস্থা রয়েছে। বেশিরভাগ মানুষ এখন ভ্যাক্সিনেটেড। তবুও সতর্কতা মেনে চলা উচিত। এমনিতে স্টুডিওতে প্রবেশ নিষেধ। যদি খুব প্রয়োজন পড়ে সেক্ষেত্রে বাই অ্যাপয়েন্টমেন্টে স্টুডিওতে ক্লায়েন্টরা আসেন। সেটা খুবই কম। সেক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী শুধুমাত্র সেই কালেকশন ডিসপ্লে করা থাকে। বিনা স্পর্শে সেই কালেকশন ক্লায়েন্টকে দেখতে হয়।
আপনি তো জেলবন্দি আবাসিকদের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন-
অভিষেক- (মুখের কথা কেড়ে নিয়ে )
আমি গত আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে প্রেসিডেন্সি জেলের আবাসিকদের নিয়ে কাজ করছি। আমার নিজস্ব সেলাই ইউনিট প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছে। জেলের ৪০-৫০ জন আবাসিক আমার সঙ্গে কাজ করে। একটু সময় লাগলেও আমি ওদের ট্রেনিং দিয়ে সেলাই শিখিয়েছি। ওরাও কাজটা শিখে গেছে। মূলত ওরা সেলাই এবং এমব্রয়ডারির কাজ করে। যে সব অপরাধী জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গেছে তারাও অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ করছে। আমি সেইভাবেই আলাদা সেটআপ করেছি। আমার মনে হয়েছে এদের কর্মসংস্থানের দরকার। নচেৎ আবার বিপথে চলে যেতে পারে। নিয়মিত এদের সকলকে আমি প্রোডাকশন দিই। কারণ শুধু কাজ শিখে কাজ করলেই তো হবে না। এদের পারিশ্রমিকের প্রয়োজন। কাজের বিনিময়ে এরা প্রত্যেকেই বেতন পায়। এদের সঙ্গে আমি উইভার্সদের জড়িত করেছি। কারণ আমি যেহেতু হ্যান্ড-উভেন ন্যাচারাল ফেব্রিক নিয়ে কাজ করি তাই উইভার্সরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হলে আবাসিকদেরও ফ্যাব্রিক সম্পর্কে সম্যক ধারণা হবে।

পুজোর আগে বয়স কমাতে স্পর্শহীন জেড স্টোন ফেসিয়াল

আমি ২০১৯ এ জেলের এইসব আবাসিকদের মডেল করে জে ডাব্লু ম্যারিয়ট হোটেলে ফ্যাশন শো’র মাধ্যমে এদের তৈরি করা কলেকশন লঞ্চ করেছি। ইতিমধ্যে সেলাই ইউনিট খোলার জন্য দিল্লির তিহার জেল থেকে আমাকে অ্যাপ্রোচ করেছে। গত বছর থেকে কোভিডের কারণে কাজকর্ম কিছুটা থেমে গেছিল। কিন্তু চেষ্টা করছি আগামী বছরের মধ্যে কলকাতার বাইরের দু-তিনটে জেলে সেলাই ইউনিট খোলার। আমি ভারতের প্রথম ডিজাইনার যে দিল্লিতে তিহার ফেস্টিভ্যালে আবাসিক ও মডেলদের নিয়ে ফ্যাশন শোর মাধ্যমে পোশাক শোকেসিং করেছি।

আপনি এ বছরের শুরুতে ফ্যাশন ফিল্ম করেছেন?
অভিষেক- হ্যাঁ। আসলে কোভিড আবহের জন্য ফ্যাশন উইক বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ফ্যাশন ডিজাইনাররা এখন ‘ফ্যাশন ফিল্ম’-এর মাধ্যমে নিজস্ব কনসেপ্ট, থিম ডিজিট্যাল মিডিয়ায় প্রেজেন্ট করছেন। এখন তো সবকিছু ডিজিট্যালি লঞ্চ করছে। আমি এ বছরের প্রথম দিকে বিখ্যাত ফরাসি চিত্রশিল্পী লিভিয়ার সঙ্গে কোলাবরেশন করে ইন্দো-ফ্রেঞ্চ কালেকশন লঞ্চ করেছিলাম। লিভিয়ার পেন্টিং নিয়ে কাজ করেছি, যা ডিজিট্যাল প্রিন্টের মাধ্যমে পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। ফ্রেঞ্চ এমব্যাসিতে তদানীন্তন ফ্রেঞ্চ কনস্যুলেট ভার্জিন কর্টিভাল এই কালেকশন প্রমোট করেন। যেহেতু চন্দননগরে ফ্রেঞ্চ আর্কিটেকচার রয়েছে তাই সেখানে বড় টিমকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে রিয়্যাল লোকেশনে সেই ভিডিও ফিল্ম তৈরি করেছিলাম। সিনেমাটোগ্রাফার থেকে এই টিমে অনেকেই ছিলেন।

আগামী দিনে আপনার কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?

অভিষেক- ফ্রেঞ্চ কোলাবরেশনে নতুন কাজ শুরু হবে। কিন্তু সেটা কী এই মুহূর্তে তা রিভিল করা সম্ভব নয়। এছাড়া আমার সঙ্গে এখন আরও বেশ কয়েকটি কোলাবরেশনে কাজের কথা চলছে। সব কিছু ফাইনাল হলে অবশ্যই আপনাকে আমি জানাব। কোভিডের পর থেকেই এখন ডিজাইনাররা অনেক কোলাবোরেশনে কাজ করছেন। সেক্ষেত্রে আমিও ব্যতিক্রম নই।

এবার পুজোয় মাত করবে মধ্যপ্রদেশের হ্যান্ডউইভ ট্রাডিশনাল শাড়ি

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.