HeaderDesktopLD
HeaderMobile

আমিষ থেকে নিরামিষ, চেনা পদের অচেনা চমক এবার পুজোর হেঁসেলে

0

ডালিয়া বি মিত্র

কাজের কারণে প্রায়শই নানা জায়গায় যেতে হয় আমাকে। কাজের পাশাপাশি সেই জায়গার খাবার চেখে দেখি, তার উপকরণ ও প্রণালী জানবার চেষ্টা করি, সেটা গ্রামের রান্না হোক কি শহুরে দৈনন্দিন রান্না। মজার ব্যাপার, সেই সব রান্নাকে নিজেদের জিভের স্বাদ অনুযায়ী একটু অদলবদল করে নিলেই সেটা একটা নিজস্ব (innovative) রেসিপি হয়ে যায়। সেই চেষ্টা থেকেই রান্না নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলে আমার। আজ তেমনই কিছু নতুন ধরনের পদের রেসিপি রইল আপনাদের জন্য…

মাছের ডিমের দক্ষিণী মালাইকারি
মালাইকারি মানে মালাই বা ক্রিম নয়। এই রান্নাটির উৎপত্তি মালেশিয়া থেকে। তারপর নাবিকদের হাত ধরে তার ভারতবর্ষে প্রবেশ। সেই মালায় এবং কারি বা ঝোল মিলে মালাইকারি। নানা কিছু দিয়েই এই রান্না করা যায়। আজ আমরা কাতলা মাছের ডিম দিয়ে রান্না করব এই দক্ষিণী কারি।
উপকরণ ( প্রথম পর্যায়)
মাছের ডিম – ২৫০ গ্রাম।
খই – ১০০ গ্রাম।
হলুদ গুঁড়ো – ১ চামচ
লঙ্কা গুঁড়ো – ১ চামচ।
নুন – আন্দাজমতো
সর্ষের তেল (ভাজবার জন্য)
প্রণালী
প্রথম পর্যায়ের সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে রাখতে হবে আধঘণ্টা। এরপর ডুবো সর্ষের তেলে বলের আকারে হালকা সোনালি করে ভেজে তুলে নিতে হবে। এইবার ভাজা বলগুলোকে পাতলা নারকেলের দুধে ভিজিয়ে রাখতে হবে।উপকরণ (কারি বানাবার জন্য)
পেঁয়াজ ১ টা বড়ো কুচানো
আদাবাটা ২ চামচ
আস্ত লংকা ৫/৬ টা
নারকেলের দুধ ২০০ মিলি ঘন
চিনি ১ ছোটো চামচ
আস্ত গরম মশলা (এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি) ১ চামচ
গুঁড়ো গরম মশলা ১ চামচ
সর্ষের তেল ৩ চামচ
কালো সর্ষে ১/২ চামচ
ঘি ২ চামচ
কারিপাতা। ১০/১২ টা
কুরানো নারকেল ৬ চামচনুন আন্দাজ মতো

প্রণালী
কড়াইতে তেল ও ঘি একসাথে গরম করে তাতে আস্ত গরম মশলা ফোড়ন দিতে হবে। মশলার সুন্দর গন্ধ বের হলে এতে পেঁয়াজস, কারিপাতা আর নারকেল কোরা(৪ চামচ) দিয়ে ভাজতে হবে হালকা করে।
তারপর আদাবাটা,
 নুন ও চিনি যোগ করতে হবে। তেল ছেড়ে এলে নারকেল দুধে ভেজা বড়া দিয়ে দিতে হবে। একটু সামান্য কষিয়ে নিতে হবে। জল দেয়া চলবে না। মশলা থেকে তেল ছেড়ে এলে এরপর ঘন নারকেল দুধ মেশাতে হবে। ফুটে উঠলে গুঁড়ো গরম মশলা ও আস্ত কাঁচা লংকা দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে।

রুটি, পরোটা ভাত সব কিছুর সঙ্গেই উপাদেয় এই পদটি। সচরাচর মাছের ডিমের বড়া করেই খাওয়া হয়। চিংড়ি মাছের বদলে মাছের ডিম দিয়ে মালাইকারি নিশ্চয় করে একবার আমরা খেতেই পারি।

সাবুদানা বরফি চটপটি
পৃথিবী জুড়ে এই মুক্তোদানার মতো খাদ্যবস্তুটির অনেক নাম। গ্রীষ্মপ্রধান দেশে খেজুরের ডালের নরম স্পঞ্জি অংশ থেকে তৈরি এর নাম কোথাও সাগু, কোথাও সাকসাক বা রাবিয়া। এটি উচ্চ কালোরি যুক্ত, তাই ঝটপট এনার্জি যোগায়। ভিটামিন বি ৬ ও ফলেট থাকে বলে গর্ভস্থ ভ্রূণের বেড়ে ওঠার জন্যও খুব উপকারী সাবুদানা।
উপকরণ
মিহি গুঁড়ো সাবু দানা – ২ কাপ
আস্ত সাবু দানা – ২ চামচ
আলু সেদ্ধ – ২ টো বড়ো
ভাজা জিরা গুঁড়ো ২ চামচ
ধনে গুঁড়ো। – ১ চামচ
কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো ১/২ চামচ
কাঁচা লঙ্কা কুচি – ৪ চামচ
ভাঙা চিনাবাদাম – ৪ চামচ
আমচুর পাউডার – ১ চামচ
চালের গুঁড়ো -২ চামচপ্রণালী
সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে মেখে একটা কাচের চৌকো পাত্রে সাদা তেল মাখিয়ে চেপে চেপে উপকরণটা ভরতে হবে।
তারপর আধ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এরপর ধোকার মত বরফি আকারে কেটে নিতে হবে। ডুবন্ত তেলে মুচমুচে করে ভেজে টমেটো সস, কাঁচা লংকা ও লেবু সহযোগে চায়ের সাথে গরম গরম পরিবেশন করা যাবে এই বৈকালিক নোনতা স্নাক্সটি।

(লেখিকা পেশায় ডিজাইনার ও শেফ। ভালোবাসেন রান্না নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে। )

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.