HeaderDesktopLD
HeaderMobile

হর-পার্বতীর বিবাহের দিনেই কেন আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী চন্দ্রঘণ্টা, মা দুর্গার তৃতীয় অবতার

0

রূপাঞ্জন গোস্বামী

পিতা দক্ষরাজের যজ্ঞস্থলে স্বামীর নিন্দা সহ্য করতে না পেরে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন সতী। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে, ভূত প্রেত পিশাচ নিয়ে যজ্ঞস্থলে এসেছিলেন স্বয়ং মহাদেব। সৃষ্টি করেছিলেন ভয়াল ভীষণ দেবতা বীরভদ্র আর রুদ্ররূপিনী দেবী ভদ্রকালীকে। দক্ষের যজ্ঞ তাঁরা তছনছ করে দিয়েছিলেন। দক্ষের শিরশ্ছেদ করেছিলেন শিবের অবতার বীরভদ্র। সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে মহাদেব শুরু করেছিলেন প্রলয় নৃত্য। কেঁপে উঠেছিল ত্রিলোক। ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছিল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের।দেবতাদের অনুরোধে এগিয়ে এসেছিলেন শ্রীবিষ্ণু। সুদর্শন চক্র দিয়ে খণ্ড খণ্ড করেছিলেন সতীর দেহ। মর্ত্যের যেখানে যেখানে পতিত হয়েছিল সতীর দেহাংশ ও আভরণ, সেখানে সেখানে গড়ে উঠেছিল জাগ্রত শক্তিপীঠ। একসময় শান্ত হয়েছিলেন মহাদেব। তাঁর আকাশের মতো গভীর, নীল চোখ থেকে মর্ত্যে ঝরে পড়েছিল দু’ফোঁটা অশ্রুবিন্দু। তৈরি হয়েছিল দুটি হ্রদ। ভারতে থাকা ‘পুষ্কর’ ও পাকিস্তানে থাকা ‘চশমে-আজম’ হল মহাদেবের অশ্রুজলে ভরা সেই দুটি হ্রদ।

মহাদেবের চোখের জলে ভরা পুষ্কর হ্রদ

জগৎসংসার থেকে মন তুলে নিয়েছিলেন মহাদেব। হিমালয়ের দুর্গম গুহায় সর্বক্ষণ থাকতেন ধ্যানমগ্ন হয়ে। এভাবেই কেটে গিয়েছিল শত শত মহাযুগ। প্রমাদ গুনেছিলেন দেবতারা। দেবতাদের দেবতা মহাদেব, তিনিই পরমেশ্বর। ত্রিলোকের প্রতি তিনি বিমুখ হলে যে সৃষ্টি-স্থিতি-লয় বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

পিনাকপাণিকে সংসারমুখী করার চেষ্টা শুরু হয়েছিল

মর্ত্যে তখন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছিলেন বজ্রাঙ্গের পুত্র তারকাসুর। তাঁর দাপটে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছিল স্বর্গ মর্ত্য পাতালে। কিন্তু প্রজাপতি ব্রহ্মার বরে বলীয়ান তারকাসুর ছিলেন প্রায় অবধ্য। মহাদেবের সাত বছর বয়সী পুত্র ছাড়া তারকাসুরকে কেউ বধ করতে পারবেন না। কিন্তু পুত্র পেতে গেলে মহাদেবকে সংসারমুখী করতে হবে। তাই মহাদেবের মনে কামভাব জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল প্রেম ও কামের দেবতা কামদেবকে।

বন্ধু ঋতুরাজ বসন্ত ও স্ত্রী রতিকে নিয়ে কামদেব গিয়েছিলেন মহাদেবের কাছে। হিমালয়ের তুষারাবৃত এলাকায় ধ্যানমগ্ন ছিলেন মহাদেব। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে বরফ সরে গিয়ে দেখা দিয়েছিল ফুলে ফুলে ঢাকা উপত্যকা। বইতে শুরু করেছিলে সুগন্ধি দখিনা বাতাস। নৃত্যের মাধ্যমে কামদেব ও রতি মহাদেবের সামনে প্রদর্শন করেছিলেন মিলনের নানা মুদ্রা।
তবুও ধ্যান ভাঙেনি
আদি যোগী মহাদেবের। বাধ্য হয়ে কামদেব পুস্পধনু থেকে মহাদেবের ওপর নিক্ষেপ করছিলেন পঞ্চবাণ। ধ্যান ভঙ্গ হয়েছিল মহাদেবের। রুষ্ট হয়েছিলেন নীললোহিত। উন্মোচিত হয়েছিল তাঁর তৃতীয় নেত্র। নির্গত হয়েছিল তীব্র তেজরাশি। সেই তেজে ভস্ম হয়ে গিয়েছিলেন কামদেব। অসহায় দেবতারা তখন দেবী আদ্যাশক্তির স্মরণাপন্ন হয়েছিলেন। ত্রিলোককে ধ্বংসের মুখ থেকে উদ্ধার করতে রাজি হয়েছিলেন মহামায়া।

শিবের  ক্রোধের তেজে ভস্ম হল মদন

হিমাবত কন্যা পার্বতী 

দক্ষ নিহত হওয়ার পর, শ্রীবিষ্ণুর অনুরোধে দক্ষের প্রাণ পুনরায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মহাদেব। কন্যা সতীকে হারিয়ে দক্ষ তখন প্রায় উন্মাদ। মহাদেব তখন দক্ষকে বলেছিলেন, রাজা হিমাবতের স্ত্রী ময়নাবতীর গর্ভে পার্বতী রূপে জন্ম নেবেন সতী। বছরে একবার আসবেন দক্ষের সঙ্গে দেখা করতে।
হিমালয়ের রাজা ছিলেন হিমাবত। তাঁর স্ত্রী ছিলেন অপ্সরা ময়নাবতী। দৈববাণী পেয়ে, সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গে আদ্যাশক্তির তপস্যায় বসেছিলেন হিমাবত ও ময়নাবতী। তাঁদের তপস্যায় তুষ্ট হয়েছিলেন দেবী। বর চাইতে বলেছিলেন দম্পতিকে। আদ্যাশক্তিকেই কন্যা হিসেবে প্রার্থনা করেছিলেন রাজা হিমাবত। ‘তথাস্তু’ বলেছিলেন দেবী। নয়নাবতীর গর্ভে পার্বতী হয়ে জন্ম নিয়েছিলেন সতী।

যৌবনে মহাদেবকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার জন্য কঠোর তপস্যা শুরু করেছিলেন পার্বতী। সতীর মতোই। পার্বতীর কঠোর তপস্যায় ধ্যানভঙ্গ হয়েছিল মহাদেবের। ছদ্মবেশ ধরে মহাদেব এসেছিলেন পার্বতীর কাছে।মহাদেবের নামে কটু কথা বলে পার্বতীকে নিরুৎসাহ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পার্বতী ছিলেন নির্বিকার। বিবাহ তিনি মহাদেবকেই করবেন, অন্য কাউকে নয়। এরপর পার্বতীকে বিবাহ করতে রাজি হয়েছিলেন মহাদেব।

পার্বতীর কঠোর তপস্যায় ধ্যান ভেঙেছিল পিনাকপাণির

বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে মহাদেব গিয়েছিলেন রাজা হিমাবতের কাছে। সঙ্গে ছিলেন দেবর্ষি নারদ আর মহাদেবের সঙ্গীসাথীরা। নারদের দেওয়া প্রস্তাবটি প্রথমেই নাকচ করে দিয়েছিলেন হিমাবত। তিনি বলেছিলেন তাঁদের বংশের ঐতিহ্য বিশ্ববিদিত। কিন্তু মহাদেবের বংশপরিচয় কী? কে তাঁর বাবা মা? বংশ পরিচয়হীন একজন মানুষের সঙ্গে তিনি তাঁর কন্যার বিবাহ দেবেন না।
রাজা হিমাবতের কথা শুনেও মহাদেব শান্ত হয়ে বসেছিলেন ধ্যান মুদ্রায়। নারদ তখন তাঁর একতারার তারে আঘাত করেছিলেন। ভেসে এসেছিল ‘টুং টাং’ শব্দ। দেবর্ষি রাজা হিমাবতকে বলেছিলেন, এই শব্দই হল অধমতারণ যোগেশ্বর মহাদেবের বংশপরিচয়। প্রতিধ্বনি থেকেই জন্ম নিয়েছিলেন মহারুদ্র। তাঁর পিতামাতা বা পূর্বপুরুষ নেই। তিনি স্বয়ম্ভু। নিজেকে নিজে তৈরি করেছেন। নারদের হেঁয়ালি কিছুই বুঝতে পারেননি রাজা হিমাবত। বুঝতেও চাননি। কিন্তু পার্বতীর জেদের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিলেন।

কিংবদন্তি থেকে জানা যায়, হর-পার্বতীর বিবাহের আচারগুলি অনুষ্ঠিত হয়েছিল গুপ্তকাশী ও ত্রিযুগীনারায়ণ গ্রামে। বিয়ের আগেই পার্বতী শিবকে অনুরোধ করেছিলেন, বিবাহমণ্ডপে রাজবেশে আসার জন্য। কিন্তু কথাটি ভুলে গিয়েছিলেন ভোলা মহেশ্বর। বিবাহের দিন বিবাহস্থলে পশুপতি হাজির হয়েছিলেন তাঁর আদি অকৃত্রিম রূপ নিয়ে। মাথায় জটা, গলায় সাপের মালা, হাতে ত্রিশূল ও ডমরু। খালি পা। সারা গায়ে ভস্ম মাখা। পরনে পশুর চামড়া, যা থেকে তখনও তাজা রক্ত ঝরছিল। উপরন্তু ভাঙের নেশায় মত্ত ছিলেন তিনি।বরযাত্রী হয়ে মহাদেবের সঙ্গে এসেছিলেন তাঁর কয়েক হাজার চ্যালা। তাদের মধ্যে ছিল ভূত, প্রেত, পিশাচ ও অঘোরী সাধুরা। যেমন ভয়ংকর তাদের চেহারা, তেমন ভয়ংকর তাদের আচরণ। ক্ষণে ক্ষণে বিকট আওয়াজ করছিল তারা। কেউ তাদের ভাষা বুঝতে পারছিল না। অনুমতি না নিয়েই মহাদেবের চ্যালারা বুভুক্ষুর মতো ভক্ষণ করতে শুরু করেছিল বিবাহস্থলে রাখা সকল খাদ্যদ্রব্য। বিবাহমণ্ডপ ছেড়ে ভয়ে পালাতে শুরু করেছিলেন কন্যাপক্ষের লোকেরা। মেয়ে পার্বতীর হবু স্বামী ও তাঁর সঙ্গীসাথীদের চেহারা ও হাবভাব দেখে আতঙ্কে জ্ঞান হারিয়েছিলেন পার্বতীর মা। হর-পার্বতীর বিবাহ পণ্ড হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

চ্যালা চামুন্ডাদের সঙ্গে নিয়ে শিব এভাবেই এসেছিলেন পার্বতীকে বিয়ে করতে

আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী চন্দ্রঘণ্টা

শিব ও তাঁর চ্যালাদের এহেন অভদ্র আচরণে ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন পার্বতী। তাঁর মুখ থেকে নির্গত হয়েছিল এক ভয়াবহ হুঙ্কার। ভূত প্রেত পিশাচদের রক্ত জল হয়ে গিয়েছিল সেই হুংকার শুনে। তারা সভয়ে তাকিয়ে দেখেছিল, যেখানে শিবপ্রিয়া পার্বতী দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেখানে আবির্ভূতা হয়েছেন এক ব্যাঘ্রাসনা দেবী।
অসামান্য রূপবতী দশভুজা দেবীর গাত্রবর্ণ সোনালি। তাঁর চক্ষু থেকে নির্গত হচ্ছে শত সহস্র সূর্যের তেজ। কপালে উল্টানো অর্ধচন্দ্রাকৃতি একটি ঘণ্টা। যেটি থেকে বেরিয়ে আসছে হাড়হিম করে দেওয়া শব্দ। দেবীর দশটি হাতের মধ্যে ন’টি হাতে দেবী ধরে ছিলেন ত্রিশূল, জপমালা, তির, ধনুক, তরবারি, পদ্ম, অঙ্কুশ, ঘণ্টা ও কমণ্ডলু। দেবীর দশম হাত ছিল বরাভয় মুদ্রায়।দেবী পার্বতীর এই লাবণ্যময়ী অথচ ভয়াবহ রূপ দেখে বিবাহস্থল ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল শিবের ভয়ার্ত চ্যালারা। পার্বতীর উগ্ররূপ দেখে বাহ্যজ্ঞানে ফিরেছিলেন ভুজঙ্গভূষণ। বিশ্বেশ্বর অনুভব করেছিলেন, তিনি একা নন, প্রয়োজনে বিনাশকারী রূপ ধারণ করতে পারেন আদ্যাশক্তির অবতার পার্বতীও। চুরমার করে দিতে পারেন সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের ভারসাম্য। নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন শিব। তুষ্ট হয়েছিলেন সদ্য জাগ্রত দশভুজা দেবী চন্দ্রঘণ্টা। পুনরায় ধারণ করেছিলেন পার্বতীর কলেবর।
এরপর শিবের কাছে গিয়ে পার্বতী বলেছিলেন, “প্রভু আমি আপনার ভয়ংকর রূপ দেখে অভ্যস্ত। আমি এই রূপেই আপনাকে চাই। কিন্তু আমার আত্মীয়স্বজন আপনার এই রূপ মেনে নিতে পারছেন না। আপনি দয়া করে আমার ও আমার মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রাজবেশে বিবাহমণ্ডপে আসুন।” পার্বতীর কথা মেনে নিয়েছিলেন আশুতোষ। ফিরে গিয়েছিলেন কৈলাসে। কিছুক্ষণ পর বিবাহ মণ্ডপে ফিরে এসেছিলেন রাজবেশ ধারণ করে।

রাজবেশে বিবাহ করতে এলেন মহাদেব

শশীশেখরের সেই ভুবন ভোলানো রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন রাজা হিমাবত ও রানি নয়নাবতী। বিশ্বের সুন্দরতম পুরুষকে সামনে থেকে দেখে ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলেন পার্বতীর আত্মীয়স্বজন। মহাসমারোহে সাঙ্গ হয়েছিল বিবাহের সব আচার অনুষ্ঠান। বিবাহের পর শিবের হাত ধরে পার্বতী চলে গিয়েছিলেন কৈলাসে। জন্ম নিয়েছিলেন পরম পুরুষ শিব ও আদিশক্তি পার্বতীর সন্তান কার্তিকেয়। বধ করেছিলেন তারকাসুরকে।

দেবী চন্দ্রঘণ্টার মাহাত্ম্য

হর-পার্বতীর বিবাহের দিন থেকেই ত্রিলোকে পূজিতা হয়ে আসছেন দেবী চন্দ্রঘণ্টা। নবরাত্রির তৃতীয় দিনে দেবী দুর্গার তৃতীয় শক্তি, দেবী চন্দ্রঘণ্টাকে যথাবিহিত উপাচারে পূজা করা হয়। নৈবেদ্য হিসেবে দেবীর চরণে নিবেদন করা হয় দুধ, ঘি, ক্ষীর ও মধু। পুরোহিতের কণ্ঠে ভেসে আসে দেবীর স্তব-
পিণ্ডজপ্রবরারূঢ়া চণ্ডকোপাস্ত্রকৈর্যুতা।
প্রসাদং তনুতে মহ্যং চন্দ্রঘণ্টেতি বিশ্রুতা।।
ভক্তদের বিশ্বাস, যেকোনও বিপদ থেকে কখনও মা, কখনও বোন, কখনও স্ত্রীরূপে ভক্তকে উদ্ধার করেন দেবী চন্দ্রঘণ্টা।সাধকদের মতে দেবী চন্দ্রঘণ্টার আরাধনা করলে মুক্ত হওয়া যায় যেকোনও আতঙ্ক থেকে। কারণ দেবী চন্দ্রঘণ্টা বরাভয়দাত্রী ও বলপ্রদায়িনী। তাঁর তেজরাশি ভক্তকুলের মধ্যে সঞ্চারিত হওয়ার ফলেই ভক্তেরা সমস্ত জাগতিক ভয় ও আতঙ্ক থেকে মুক্তি পান। পরাক্রমী হন দেবীর বাহন ব্যাঘ্রের মতো।

দেবী চন্দ্রঘণ্টার সব থেকে বিখ্যাত মন্দির

পৌরাণিক যুগ থেকে ভারতবর্ষে দেবী চন্দ্রঘণ্টা পূজিতা হলেও ভারতে দেবী চন্দ্রঘণ্টার মন্দিরের সংখ্যা খুব কম। এই মন্দিরগুলির মধ্যে সবথেকে বিখ্যাত মন্দিরটি আছে ভারতের আধ্যাত্মিক বারাণসী বা বাঙালির কাশীতে। বারাণসীর লক্ষ্মী চৌতারায় আছে দেবী চন্দ্রঘণ্টার এই সুপ্রাচীন মন্দিরটি।
স্থাপত্যের দিক থেকে এই ছোট্ট মন্দিরটির তেমন কোনও বিশেষত্ব নেই। রাস্তার পাশে থাকা আর পাঁচটা সাধারণ মন্দিরের মতোই। কিন্তু দেবীর মাহাত্ম্য ছড়িয়ে আছে বিশ্ব জুড়ে। মন্দিরের অভ্যন্তরে বিরাজ করছে  দেবী চন্দ্রঘণ্টার দেড় ফুট উচ্চতার বিগ্রহ। তাঁর দুই পাশে নবদুর্গার বাকি আট দুর্গা, শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী ও সিদ্ধিদাত্রীর বিগ্রহ।

কাশীতে দেবী চন্দ্রঘণ্টার বিগ্রহ

অত্যন্ত নিষ্ঠা সহকারে দেবীর নিত্যপূজা হয় এই মন্দিরে। বাসন্তী ও শারদীয়ার নবরাত্রির তৃতীয় দিনে এই মন্দির প্রাঙ্গণে হয় বিশাল জনসমাগম। দেবী চন্দ্রঘণ্টাকে স্থানীয় মানুষেরা চেনেন ‘চিত্রঘণ্টা’ নামেও। কারণ তিনি যমের বাহন মহিষের গলায় বাঁধা যমঘণ্টাকে ভক্তের থেকে দূরে রাখেন। তাই নির্দিষ্ট সময়ের আগে চিত্রগুপ্ত খাতায় লিখতে পারেন না ভক্তের নাম। এই প্রসঙ্গে বয়স্ক ভক্তদের কেউ কেউ উল্লেখ করেন একটি ঘটনার কথা, যেটি তাঁরা লোককাহিনি হিসেবে শুনে এসেছেন বংশপরম্পরায়। তবে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেরই অজানা সেই কাহিনি।

বহুকাল আগে, এক ভোরে, মন্দিরের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন দেবীর এক বৃদ্ধ ভক্ত। প্রতিদিন ভোরে দেবী চন্দ্রঘণ্টাকে দর্শন না করে জল স্পর্শ করতেন না তিনি। প্রতিদিনের মতো মন্দিরের বাইরে দাঁড়িয়েই দেবীর স্তব, মন্ত্রজপ করছিলেন সেই ভক্ত। মন্দির তখনও খোলেনি। সেই রাস্তা দিয়েই মন্দিরের দিকে ধেয়ে আসছিল এক উন্মত্ত ষাঁড়। একের পর এক পথচারীকে নিহত ও আহত করতে করতে।
পথচারীরা দূর থেকে বৃদ্ধ মানুষটিকে সরে যেতে অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু দেবীর স্তবে মগ্ন থাকা ভক্তের কানে সে কথা প্রবেশ করেনি। বৃদ্ধ ভক্তকে আক্রমণ করার জন্য ছোটা শুরু করেছিল যাঁড়টি। কিন্তু বৃদ্ধের দিকে কয়েক পা এগিয়েই মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়েছিল। বৃদ্ধের থেকে সামান্য কিছু দূরে, অজানা কোনও কারণে প্রাণ হারিয়েছিল ষাঁড়টি। টেরই পাননি বৃদ্ধ। কারণ তখনও তিনি বিভোর ছিলেন দেবীর স্তবে। 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.