HeaderDesktopLD
HeaderMobile

কুমারী পূজায় কোন বয়সের কন্যাকে মা দুর্গার কোন রূপে পূজা করা হয়

0 107

সনাতন হিন্দু দর্শন বলে মহাবিশ্বে থাকা সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় নামক ত্রিবিধ শক্তি আবদ্ধ থাকে কুমারীর মধ্যে। ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের দশম অনুবাকের ১২৫ তম সূক্ত বা দেবী সূক্তে বলা হয়েছে কুমারীর মাধ্যমেই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বলা হয়েছে বসুন্ধরার বুকে জন্ম নেওয়া সকল কুমারীই প্রকৃতিদেবীর অংশ। দেবী দুর্গা এই কুমারী রূপ ধারণ করেই অশুভ শক্তির প্রতীক কোলাসুরের বিনাশ করেছিলেন। তাই দেবী দুর্গার মধ্যে মিশে আছে তাঁর প্রকৃতি ও কুমারী রূপ।

প্রাচীন যুগের বেদজ্ঞ ঋষিরা মর্ত্যে দেবী দুর্গার কুমারী রূপের আরাধনার প্রচলন করেছিলেন। বেদজ্ঞ ঋষিরা কুমারী পূজা করার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতি দেবীর আরাধনা করতেন। মহাভারতেও কুমারী পূজার কাহিনি বর্ণিত আছে। মহাভারতের ভীষ্ম পর্ব থেকে জানা যায় দেবী দুর্গার কুমারী রূপের পুজো করেছিলেন স্বয়ং অর্জুন। কালক্রমে দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হয়ে উঠেছিল কুমারী পূজা। অনেক শাস্ত্রজ্ঞই বলে থাকেন কুমারীপুজো ছাড়া দুর্গাপুজোতে মহাফল লাভ করা যায় না। তা সত্ত্বেও দুর্গাপূজার সময় কুমারী পূজার রীতি ক্রমশ কালের গভীরে হারিয়ে গিয়েছে।

Kumari puja on Ashtami

ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের সামান্য কিছু অংশে আজও দুর্গাপূজার অঙ্গ হিসেবে কুমারী পূজা করার রীতি আছে। কুমারী পুজোর জন্য ১ বছর থেকে ১৬ বছরের অরজঃস্বলা বালিকাকে নির্বাচন করা হয় দেবীপুরাণ মেনে। শ্রীরামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর প্রকাশ। কুমারী পূজার কুমারী হিসেবে সেই বালিকাকেই নির্বাচন করা হয়, যার মধ্যে দৈবীভাব প্রকাশ পায়।

কুমারী পূজার কুমারী হিসেবে সাধারণত ব্রাহ্মণ কন্যাকেই নির্বাচন করেন দুর্গাপূজার আয়োজকেরা। কিন্তু দেবীপুরাণ, তন্ত্রসার, কুলার্ণব-তন্ত্র ও অনান্য শাস্ত্রে কুমারী পুজার ক্ষেত্রে কোন জাতি বা বর্ণভেদ করা হয়নি। যেকোনও জাত বা বর্ণের অরজঃস্বলা কুমারীকেই দেবীরূপে পূজা করা যেতে পারে। এমনকি পতিতা নারীর কন্যারও দেবী রূপে পূজিতা হতে বাধা নেই।  অরজঃস্বলা বালিকাটিকে নববস্ত্র, ফুলের মালা, আলতা, সিঁদুর, তিলক ও মুকুট পরিয়ে মহাষ্টমীর দিন দেবী দুর্গা রূপে তন্ত্রমতে পূজা করা হয়। কুমারী পূজার কুমারীদের বয়স অনুসারে দেবী দুর্গার আলাদা আলাদা রূপ হিসেবে পূজা করা হয়  ।

Bengal family worships four-year-old Muslim girl in Kumari Puja- The New Indian Express

  • ১ বছরের কন্যাকে দেবী সন্ধ্যা রূপে পূজা করা হয়।
  • ২ বছরের কন্যাকে দেবী সরস্বতী রূপে পূজা করা হয়।
  • ৩ বছরের কন্যাকে দেবী ত্রিধামূর্তি রূপে পূজা করা হয়।
  • ৪ বছরের কন্যাকে দেবী কালীকা রূপে পূজা করা হয়।
  • ৫ বছরের কন্যাকে দেবী সুভাগা রূপে পূজা করা হয়।
  • ৬ বছরের কন্যাকে দেবী উমা রূপে পূজা করা হয়।
  • ৭ বছরের কন্যাকে দেবী মালিনী রূপে পূজা করা হয়।
  • ৮ বছরের কন্যাকে দেবী কুব্জিকা রূপে পূজা করা হয়।
  • ৯ বছরের কন্যাকে দেবী কালসন্দর্ভা রূপে পূজা করা হয়।
  • ১০ বছরের কন্যাকে দেবী অপরাজিতা রূপে পূজা করা হয়।
  • ১১ বছরের কন্যাকে দেবী রুদ্রাণী রূপে পূজা করা হয়।
  • ১২ বছরের কন্যাকে দেবী ভৈরবী রূপে পূজা করা হয়।
  • ১৩ বছরের কন্যাকে দেবী মহালক্ষ্মী রূপে পূজা করা হয়।
  • ১৪ বছরের কন্যাকে দেবী পীঠনায়িকা রূপে পূজা করা হয়।
  • ১৫ বছরের কন্যাকে দেবী ক্ষেত্রজ্ঞা রূপে পূজা করা হয়।
  • ১৬ বছরের কন্যাকে দেবী অম্বিকা রূপে পূজা করা হয়।

Bengal family worships Muslim girl as Goddess Durga in Kumari Puja - The Week

নিবন্ধের প্রথমাংশে বলা হয়েছে কুমারী পূজা করলে মহাফল লাভ করা যায়। দেবাদিদেব মহাদেব স্বয়ং যোগিনী শাস্ত্রে বলেছেন, শত কোটি জিহ্বাও কুমারী পূজার ফল ব্যক্ত করে পারবে না। এর থেকেই বোঝা যায় কুমারী পূজা করলে ভক্তেরা আশাতীত ফল লাভ করবেন।

কুমারী পূজায় সাধকদের সিদ্ধি লাভ হয়। গৃহীদের দুঃখ, দারিদ্র দূর হয়। শত্রুর বিনাশ ঘটে বা শত্রু বন্ধুতে পরিণত হয়। বিদ্যা ও অর্থ সম্পদ লাভ হয়। সমস্ত কাজে বাধা-বিপত্তি দূর হয়। গৃহে সুখ-শান্তি বিরাজ করে। ভক্তেরা দীর্ঘায়ু লাভ করেন, অকালমৃত্যুর কবলে পড়তে হয় না। ভক্তদের সন্তানলাভ হয়। মান যশ বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ নিষ্ঠাভরে কুমারী পূজা করলে ভক্তদের সকল মনস্কামনা পূরণ হয়।

 

১৪২৭ সনের অষ্টমীর নির্ঘন্ট

অষ্টমী তিথি আরম্ভ:

বাংলা তারিখ– ৬ কার্তিক, ১৪২৭, শুক্রবার
ইংরেজি তারিখ – ২৩/১০/২০২০
সময় – বেলা ১২ টা ৪ মিনিট ২০ সেকেন্ডে অষ্টমী পড়বে।

অষ্টমী তিথি শেষ:

বাংলা তারিখ – ৭ই কার্তিক, ১৪২৭, শনিবার
ইংরেজি তারিখ – ২৪/১০/২০২০
সময় – সকাল ১১টা ২২ মিনিট ৪১ সেকেন্ড পর্যন্ত অষ্টমী থাকবে।

সূর্যোদয়- ঘ ৫।৪২, সূর্য্যাস্ত ঘ ৫।২, পূর্বাহ্ন ঘ ৯।২৮

পুর্বাহ্নের মধ্যে শ্রীশ্রী শারদীয়া দুর্গাদেবীর অষ্টম্যাদিকল্পারাম্ভ ও কেবল মহাষ্টমীকল্পারাম্ভ এবং মহাষ্টমীবিহিত পূজা প্রশস্তা। পুর্বাহ্নের মধ্যে বীরাষ্টমী ও মহাষ্টমীর ব্রতোপবাস।

সন্ধিপূজারম্ভ:

সময় – সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে সন্ধিপুজো শুরু হবে।

বলিদান:

সময় – সকাল ১১টা ২২ মিনিট ২৯ সেকেন্ড থেকে।

সন্ধি পূজা সমাপন:

সময় – শেষ হবে সকাল ১১টা ৪৬ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.