HeaderDesktopLD
HeaderMobile

‘ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া’… ইতিহাস, লোককথা, মঙ্গলকাহিনি যেন কথা বলে ময়নাগড়ে

0 200

রত্না ভট্টাচার্য্য
শক্তিপদ ভট্টাচার্য্য

বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে হঠাৎ বেরিয়ে পড়ার মজাই আলাদা। আর সে বেড়ানো যদি হয় জল, জঙ্গল, পরিখা, আর দ্বীপের ভিতরে! তাহলে তো কথাই নেই। কী মনে হচ্ছে? আন্দামানের কথা বলছি! আরে না না, আন্দামান কি রাজস্থান নয়, আমাদের রাজ্যেই রয়েছে এক চমৎকার  দ্বীপভূমি, যার সন্ধান রাখেন না অনেকেই। আমাদের আশেপাশের চেনা বাংলাদেশটাই যে কত সুন্দর, কত অজানা আশ্চর্য যে লুকিয়ে আছে এই বাংলার মাটিতে, আমরা অনেকেই তার খবর রাখিনা। আর এই সুন্দরের মুখোমুখি হওয়ার জন্য দীর্ঘ ছুটি বা বিপুল অর্থ কোনওটারই প্রয়োজন পড়েনা, প্রয়োজন কেবল একটু খুঁজে দেখা, আর সুযোগ পেলেই ঘুরে বেড়ানোর মত মন।

আর এভাবেই খুঁজতে খুঁজতে এক মেঘলা সকালে পৌঁছে গেলাম পূর্ব মেদিনীপুরের সুপ্রাচীন পুণ্যভূমি ময়নাগড়ে।

গড় বা কেল্লা বললেই চোখে ভেসে ওঠে বিরাট বিরাট উঁচু প্রাচীর, প্রাসাদ, অলিন্দ, ঝরোখা, জাঁকজমক আর ঠাঁটবাটের ছবি। ময়নাগড় কিন্তু ঠিক তেমনটা নয়। বা বলা ভালো তার চেয়েও ঢের বেশি চিত্তাকর্ষক এই ময়নাগড়। এই ময়নাগড়ের চারপাশে আজও দেখা যায় বিরাট বিরাট পরিখা। সে এক সময় ছিল, যখন ময়নাগড়কে বেষ্টন করে থাকা এই সব পরিখার জলে ছাড়া থাকত বড় বড় হিংস্র কুমির।

না, না, কোনও রূপকথা বা বানানো গল্প নয়। এমনই অনেক টানটান আশ্চর্য গল্পের  জন্মভূমি এই ময়নাগড়। কত অজানা ইতিহাস, লোককথা, মঙ্গলকাহিনীর আকর এই শহর। ময়নাগড়ের একেবারে মাঝখানে রয়েছে একটি দ্বীপ। এই দ্বীপের নামটিও ভারি সুন্দর- ‘ভিতরগড়’। এই ভিতরগড় দ্বীপেই সপরিবারে বাস করতেন ময়নাগড়ের রাজা। ফলে যাবতীয় দর্শনীয় প্রাসাদ, মন্দির সবই গড়ে উঠেছে এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে।

ময়নাগড়ের ইতিহাস, আমাদের ইতিহাস। এই সুপ্রাচীন বাংলাদেশের ইতিহাস। কিন্তু সেই প্রাচীন ইতিহাসের পথে প্রবেশ করার আগেই থমকে দাঁড়াতে হল আমাদের। চোখ আটকে গেল নগরীর মূল তোরণদ্বারে, যেখানে লেখা রয়েছে ময়নাগড়, বৌদ্ধ, হিন্দু এবং মুসলমানদের পূতপবিত্র উপাসনাস্থল।

তোরণদ্বার পেরিয়ে  লাল মাটির রাস্তা সোজা চলে গেছে নাক-বরাবর। রাস্তার দু’পাশে কালিদহ ও মাকড়দহ নামের দুখানা পরিখা। পরিখার নামগুলো খেয়াল করেছেন কী! বেশ ইঙ্গিতবহ না! এসব ভাবতে ভাবতে খানিকটা এগিয়েছি, হঠাৎ চোখে পড়ল পরিখার জলে একটি ছোট ডিঙি বাঁধা। ডিঙির মালিকের সন্ধানে ইতিউতি তাকাচ্ছি, হঠাৎ দেখি খেটো ধুতি পরা এক বয়স্ক মাঝি আমাদের সামনে এসে উপস্থিত। বলে না দিলেও বুঝলাম নৌকোটি ওঁর। মাঝি ভদ্রলোক নিজে থেকেই আমাদের জিজ্ঞেস করলেন ভিতরগড় ঘুরে দেখতে চাই কী না! আগ্রহী হলে নৌকোয় পরিখা ঘুরিয়ে, রাজার বাড়ি ঘুরিয়ে আবার এইখানে এনে নামিয়ে দেবেন আমাদের৷ দক্ষিণাও খুব বেশি নয়। মাত্র একশটি টাকা। আগ্রহ তো ছিলই, তার উপর এমন পড়ে পাওয়া নিমন্ত্রণ, অগ্রাহ্য করি কী করে! অগত্যা টাল খেতে খেতে ডিঙিতে উঠে বসা গেল। কথায়বার্তায় জেনে নিলাম মাঝি দাদার নাম রূপিন।

ডিঙি চলল লগি ঠেলে ঠেলে আর দাদা বলতে লাগল এই দ্বীপভূমির কথা। ডিঙির মাথায় কোনও আচ্ছাদন নেই, থাকার কথাও নয়। উপরের দিকে একবার তাকিয়ে দেখলাম আকাশের মুখ ভার। আজ বেশ গুমোট, যে কোনও মুহূর্তে বৃষ্টি এসে যেতে পারে। আর এলে এই ছইবিহীন ডিঙিতে বসে ভেজা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু সব আশঙ্কা এক লহমায় কোথায় চলে গেল যখন গল্পের ঠাস বুনোটের মধ্যে ঢুকে পড়লাম আমরা।

মাঝিদাদার কাছেই জানা গেল ভিতরগড়ের বর্তমান আয়তন প্রায় ১২.৯১ একর। দ্বীপটিকে ঘিরে রয়েছে দেড়শো ফুট চওড়া ও প্রায় ৩০০০ ফুট পরিধিবেষ্টিত একটি পরিখা। আগে এই পরিখায় ছাড়া থাকত অসংখ্য কুমির। আর ছিল পরিখার ধার ধরে পাঁচিলের মতো ঘন বাঁশবন। যার ফলে দূর থেকে শত্রুদের ছোঁড়া তির বা গোলাগুলি সবই আটকে যেত বাঁশের জঙ্গলে। সত্যিই এক দুর্ভেদ্য গড় ছিল এই ময়নাগড়।

প্রথম পরিখার ধার থেকে দুশো মিটার দূরে দেড়শো ফুট চওড়া ও ৬০০০ ফুট পরিধি বিস্তৃত আরও একটি পরিখা ছিল। এই দুই পরিখার মাঝের ভূমিটিকে বলা হত বাহিরগড়। এখানে রাজার সেনাবাহিনীর লোকজন, অন্যান্য কর্মচারী ও পাত্রমিত্রদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। দ্বিতীয় পরিখাটিকে ঘিরে ছিল আরও একটি তৃতীয় পরিখা। তিনটে পরিখায় ঘিরে অসম্ভব সুরক্ষিত ছিল এই গড়। পরিখা কাটার মাটি দিয়েই তৈরি হয়েছিল ভিতরগড় ও বাহিরগড়ের স্থলভূমি। গড়ের অগ্নিকোণে ছিল বাহিরগড় প্রবেশের মূল দ্বার, যা এখনও অক্ষত আছে। তৃতীয় পরিখাটির অবশ্য এখন আর কোনও অস্তিত্ব নেই। হারিয়ে গেছে পরিখাতে ছেড়ে রাখা সেইসব ভয়াল কুমিরও। এখন কালিদহ ও মাকড়দহ নামে পরিখাদুটিই অবশিষ্ট আছে। এই ময়না দ্বীপভূমিকে উত্তর ও পূর্বদিকে ঘিরে রেখেছে কাঁসাই নদী। দক্ষিণে রয়েছে কেলেঘাই আর পশ্চিমে চন্ডীয়া নদী। বর্তমানে পুরো ময়না দ্বীপটাই হল ময়না ব্লক। আর ময়নাগড়ও  নাম বদলে হয়ে গেছে গড়ময়না। স্থানীয়রা বলেন গড় সাফাত। গড়ময়না এখন স্কুল, কলেজ, অফিস, সিনেমাহল নিয়ে বেশ বড়সড় গঞ্জ।

ধর্মমঙ্গলের সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, বৌদ্ধ নরপতি মহাবীর লাউসেনের রাজধানী ছিল একদা এই ময়নাগড়। তারও আগে নবম শতাব্দীতে ময়নাগড়ের রাজা ছিলেন কর্ণসেন। তাঁর সময়ে বীরভূম জেলার অজয় নদের ধারে ঢেঁকুর রাজ্যের সামন্ত গোপ রাজা ছিলেন ইছাই ঘোষ।

মহাশক্তিশালী ইছাই ঘোষ ছিলেন দেবী ভবানীর বরপুত্র। তিনি কর্ণসেনকে পরাজিত করে ময়নাগড় দখল করে নেন। যুদ্ধে কর্ণসেনের ছয় পুত্র মারা পড়ে। ছেলেদের শোকে দেহ রাখেন কর্ণসেনের স্ত্রীও। কর্ণসেন এই সময় আশ্রয় নেন গৌড়ের রাজা মতান্তরে দণ্ডভুক্তির রাজা ধর্মপালের কাছে। কথিত আছে যে, রাজা ধর্মপাল তার শ্যালিকা রঞ্জাবতীর সঙ্গে বিয়ে দেন কর্ণসেনের। ধর্মদেবের উপাসিকা রঞ্জাবতী একটি পুত্রসন্তান লাভ করেন ধর্মঠাকুরের দয়ায়। ধর্মদেবতার বরপুত্র লাউসেন ছিলেন অমিতপরাক্রমী। বয়ঃপ্রাপ্তির পর তিনি এক প্রবল যুদ্ধে ইছাই ঘোষকে যুদ্ধে পরাস্ত ও নিহত করেন। পিতৃরাজ্য পুনরুদ্ধার করার পর ময়নাগড়েই আবার রাজধানী স্থাপন করেন লাউসেন। লাউসেনের এই বীরত্বের কাহিনী নিয়েই মধ্যযুগে লেখা হয়েছিল ধর্মমঙ্গল কাব্য। ময়নাগড় ধর্মপূজার পীঠস্থান হিসাবেও চিহ্নিত ছিল। আজও মানুষের বিশ্বাস, ময়নার কাছে বৃন্দাবনচকে যে প্রাচীন ধর্মঠাকুর আছেন তা লাউসেনের প্রতিষ্ঠিত। এছাড়া, ময়নাগড়ের বুকে  রুঙ্কিণী কালী ও লোকেশ্বর শিব মন্দিরও লাউসেনের প্রতিষ্ঠিত বলে অনেকের ধারণা। তবে লাউসেনের পরে ময়নাগড়ের শাসনদণ্ড কার হাতে উঠেছিল, সে প্রসঙ্গে ইতিহাস নীরব।

বেশ খানিকটা এগিয়ে এসে মাঝিদাদা দূরে ডানদিকে আঙ্গুল তুলে বললেন, ”অই দ্যাখেন নয়নানন্দ দেব গোস্বামী মহন্তর সমাধি মন্দির।” উড়িষ্যা থেকে ময়নাগড়ে এসেছিলেন এই বৈষ্ণব রাজবাড়ির কুলোপুরোহিত। সমাধি মন্দিরটিও বেশ সুন্দর, সবুজ দ্বীপের বুকে যেন একটুকরো স্থির ছবি। আর একটু এগিয়ে রয়েছে পির হায়দারের দরগা। রাজা জগদানন্দের আহ্বানে এখানে এসে ডেরা বেঁধেছিলেন পির হায়দার। সে আরেক গল্প। মাঝিদাদা আঙুল তুলে দেখালেন বাঁদিকে গভীর ঘন জঙ্গল।ওই ঝোপঝাড়ের ভিতরে ঘুমিয়ে রয়েছে  ময়নাগড়ের প্রাচীন ইতিহাস, যেমন আয়না মহল, সওয়ারি মহল, পুজোর ঘাট, রাজ ঘাট ইত্যাদি। আবার শুরু হল গল্প…

মধ্যযুগে উৎকল সাম্রাজ্যের জলৌতি দণ্ডপাটের অন্যতম ছিল ময়না। জলজঙ্গলে ভরা এই ময়নাগড় একসময় জলদস্যুদের মৃগয়াক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।আর এই জলদস্যু দলের নেতা ছিলেন শ্রীধর হুই।  উৎকলরাজের অনুরোধে ময়না আক্রমণ করে শ্রীধরকে পরাস্ত করেন আরেক মহাবলশালী মানুষ। তাঁর নাম ছিল গোবর্ধনানন্দ। ১৫৬২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ময়নার শাসনভার ন্যস্ত ছিল গোবর্ধনানন্দের উপরেই। তাঁর সংগীত প্রতিভার কথা লোকের মুখে মুখে ফিরত।  শোনা যায় একবার এক খ্যাপা হাতিকে নিজের বশীভূত করার জন্য উৎকল নৃপতি তাঁকে রাজা, আনন্দ, ‘বাহুবলীন্দ্র’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। এই বাহুবলীন্দ্র বংশের প্রথম পুরুষ কালিন্দীরাম সামন্ত বালিসীতাগড়ে ১৪৩৪ খ্রিস্টাব্দে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। পরে গোবর্ধনানন্দ নতুন করে রাজত্ব পত্তন করেন ময়নাগড়ে। এই বংশেরই অন্যতম পুরুষ ছিলেন জগদানন্দ বাহুবলীন্দ্র। তিনি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন অগ্রগণ্য সেনানী ছিলেন। ওয়ারেন হেস্টিংসের লেফটেন্যান্ট বেইল কেল্লা ময়নাচৌরার দখল নেন ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দের ২০ ফেব্রুয়ারি। জগদানন্দ সেইসময় রাজ্যচ্যুত হন। কিন্তু ব্রিটিশরা কোনওদিনই তাঁকে বন্দি করতে পারেনি। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই বাহুবলীন্দ্র বংশের মানুষেরা  ভিতরগড় ভূখন্ডে বাস করেন।

আস্তে আস্তে ঘাটে এসে থামল ডিঙি। ঘাটের সিঁড়ি বেয়ে পায়ে পায়ে ঢুকলাম ভিতরগড়ে। মাঝিদাদার মুখেই শুনলাম গড়ের জগন্নাথ মন্দির, খাসদরবার, কামানপোত, ভূগর্ভস্থ হর্ম্যরাজি, গুপ্ত সুড়ঙ্গপথ সবই চলে গেছে কালের গর্ভে। শুধু থেকে গেছে বাহুবলীন্দ্রদের ঘরবাড়ি, প্রাচীন ধবংসস্তূপ আর রাজপরিবারের কুলদেবতা শ্যামসুন্দর জীউয়ের মন্দির।

আমরা এখন দাঁড়িয়ে আছি দক্ষিণমুখী পঞ্চরত্ন মন্দিরের সামনে। জানতে পারলাম বর্তমানে শ্যামসুন্দরের কপালেই রাজতিলক আঁকা হয়। প্রায় ২৩ ফুট উচ্চতার মন্দিরের ভিতরে আলো করে আছেন শ্যামসুন্দর জীউ। এত অনিন্দ্যসুন্দর মূর্তি,যে চোখ ফেরানো যায় না। সঙ্গে রয়েছেন গৌড় নিতাই, শালগ্রাম শিলা ও রাজরাজেশ্বর। অবাক হয়ে ভাবছিলাম সেই সুদূর অতীতের কথা। রাজপরিবারের কুলদেবতা আজও স্বমহিমায় বিরাজিত, তবু এই জনবিরল দ্বীপের মধ্যে কী এক বিশাল শূন্যতা যেন ঘিরে রেখেছে তাঁকে। এই শূন্যতা অবশ্য পূর্ণ হয়ে ওঠে রাসপূর্ণিমার সময়।

প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমায় রাসযাত্রা উপলক্ষ্যে ময়নাগড়ে সাজো সাজো রব পড়ে যায়। বাহিরগড়ের পরে গড়সাফাতে রয়েছে সুন্দর রাসমঞ্চ। পূর্ণিমার দিন নৌকায় করে রীতিমতো বাদ্যি বাজিয়ে শোভাযাত্রা করে রাসমঞ্চে আসেন শ্যামসুন্দর জীউ। থাকেন পরের বেশ ককেকটা দিন। সেসময় প্রতিবছর আলোর রোশনাইয়ে ভরে যায় পরিখার নৌকাগুলো। সুসজ্জিত নৌকার আলোয় পরিখার জল রঙিন হয়ে ওঠে। আকাশে উড়ে বেড়ায় রঙিন ফানুস। দেশের আর কোথাও কৃষ্ণ ভগবান এরকম নৌকায় করে রাসমঞ্চে যান না। এটি একটি বিরল অভিজ্ঞতা। শ্যামসুন্দরের জয়ধ্বনি ও বাজনার আওয়াজে গমগম করে এলাকা।

এসব ভাবতে ভাবতে মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়েই যেন এক কল্পলোকে চলে গেছিলাম। গায়ে বৃষ্টির ফোঁটা আর রূপিন দাদার ডাকে সম্বিত ফিরল। তাড়া দিয়ে বললেন ”চলেন চলেন, ওই দিকে রয়েছে লোকেশ্বর শিবের মন্দির।” ২৬ ফুট উচ্চতার মন্দিরটি আটচালার। মন্দিরগাত্রের কারুকাজও বেশ অভিনব। গর্ভগৃহে লোকেশ্বর শিব অবস্থান করছেন একটি গর্তের মধ্যে। গর্তটি জলে ভরা। শুনলাম এটি কেবল বর্ষাকালেই সম্ভব হয়। গুপ্তপথে নদী থেকে জল এসে এসময় ডুবিয়ে রাখে শিবলিঙ্গ। মন্দিরে বেশকিছু টেরাকোটার কাজ চোখে পড়ল,  যেমন বিদেশিদের শিকারযাত্রা, নৌবহর ইত্যাদি।

প্রতিবছর রাসের সময় এখানে যে মেলাটি হয় সেটি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম বিখ্যাত মেলা। এই মেলার অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে যেটি বিখ্যাত সেটি হল কদমা। ছোটো থেকে শুরু করে সুবিশাল ফুটবলের মাপের কদমাও তৈরি হয় যার স্বাদ না কি জগৎবিখ্যাত। ফেরার পথে রূপিন দাদা আমাদের বারবার অনুরোধ জানালেন রাস পূর্ণিমার সময় আরেকবার আসার জন্য ময়নাগড়ে। তাঁকে আবার ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভারাক্রান্ত মনেই বাড়ির পথ ধরলাম। পিছনে পড়ে রইল বৃষ্টিভেজা জল জঙ্গল আর বাঙালির এক বিস্মৃতপ্রায় গৌরবগাথা।

তমলুক থেকে ময়নার দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার আর মেচেদা থেকে হাই রোড হয়ে ময়না ২৮ কিলোমিটার। তমলুক বা মেচেদা থেকে ময়না বাসে আসা যায়। ময়নায় থাকার কোন ব্যবস্থা নেই, মেচেদা বা কোলাঘাটে থেকে জায়গাটি দেখে নেওয়া যায়।

থাকার ঠিকানা—হোটেল পার্ক পয়েন্ট, এন এইচ ৪১, মেচেদা, দূরভাষ- ০৩২২৮-২৩১৪০৮, চলভাষ- ৯৪৩৪০৭৯১৫৬।
হোটেল সোনার বাংলা, কোলাঘাট, চলভাষ- ৯০৫১২৬৬৬৬০।
You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.