HeaderDesktopLD
HeaderMobile

শান্তিপুরের ঘরছাড়া যুবক বাগনানের গাঁয়ে এসে করলেন প্রথম দুর্গাপুজো

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সে প্রায় ৪৩৫ বছর আগেকার কথা। শান্তিপুরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ জমিদার হরনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে ঘর ছেড়েছিলেন পুত্র ছকুরাম। উদভ্রান্তের মত ঘুরতে ঘুরতে ভিন জেলায় এসে তালের গুড়ের ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। আর তাতেই লক্ষ্মীলাভ। হাওড়ার বাগনানের (bagnan) চন্দ্রভাগ গ্রামে একসময় পাকাপাকি ভাবে বসবাস শুরু করেন ছকুরাম চট্টোপাধ্যায়। সেই গ্রামের জমিদারের কন্যার সঙ্গেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তারপর ধনসম্পদ বাড়তেই একের পর এক মন্দির গড়ে দেবদেবীর পুজোর প্রচলন করেন গ্রামে। তাঁর উদ্যোগেই বকুলতলা দুর্গোৎসবের সূচনা হয়।

তারপর কত প্রজন্মের স্রোতে ভেসে গিয়েছে কত ইতিহাস। তবে আশ্চর্য বিষয় হল, জমিদার পুত্র ছকুরাম যে পুজোর প্রচলন করেছিলেন তা আজও অক্ষয়। বহাল রয়েছে প্রাচীন রীতিনীতিও।

উল্টোরথের দিনই দেবীর কাঠামোতে মাটি দেওয়া হয়। মহালয়ার পরদিন প্রতিপদ থেকে পঞ্চমী পর্যন্ত চলে মা চন্ডীর আরাধনা। ষষ্ঠীতে হয় দেবীর বোধন। সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্থাপন আর কলাব‌উ বরণ।

নারায়ণপুরে জমিদারবাড়ির ৩০০ বছরের পুজো বাঁচিয়ে রেখেছেন এলাকাবাসীরাই

বাড়ির আটচালায় দেবী ঘট বরণ করা হয়, শুরু হয় মহামায়ার মঙ্গল ঘট স্থাপনের শুভ অনুষ্ঠান। তবে চট্টোপাধ্যায় পুজোর বিশেষত্ব হল, প্রাচীন রীতি মেনে আজও সেখানে চালু রয়েছে বলিপ্রথা। সপ্তমী ও অষ্টমী ও নবমীতে পাঁচটি ছাগল ও চালকুমড়ো বলি দেওয়ার রীতি রয়েছে।

চট্টোপাধ্যায় পরিবারের বিশাল পুজোর দালানে এবছরও শুরু হয়ে গেছে পুজোর তোড়জোড়। গুরু দায়িত্ব পালন করেন বাড়ির মহিলারাই। পুজোর কটাদিন মহা সমারোহে ভোগ রান্না চলে। রীতি মেনে প্রতিপদ থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত পাঁচ থালা অন্নভোগ ও পাঁচ থালা খিচুড়ি ভোগ এবং সপ্তমী থেকে নবমী পনেরো থালা করে ভোগ নিবেদন করা হয়। চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গোৎসবে সেই আগেকার মতই কুমারী পুজোয় ধুনো পোড়ানোরও চল রয়েছে।

এই পুজো ঘিরে গোটা গ্রাম জুড়ে উৎসব চলে। দশমীর দিন চট্টোপাধ্যায়দের নিজস্ব পুকুরেই দেবী প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এবছরও বাড়ির পুজোর দালানে প্রতিমায় প্রাণ প্রতিষ্ঠার পালা চলছে। করোনা আবহে সতর্কতা মেনেই পুজোর আয়োজন। তাতে সীমাবদ্ধতা থাকলেও উৎসাহের অন্ত নেই গ্রামবাসীর। চট্টোপাধ্যায় বাড়ির পুজোর জোগাড় করতেই আনন্দে মেতেছেন সকলে।

আমতার রায়বাড়ির দুর্গোৎসবে আজও পূজিত হন দেবী চামুণ্ডা

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.