HeaderDesktopLD
HeaderMobile

শরৎ এলেও বিষণ্ণ দুর্গাপুর রাজবাড়ি, ঘটপুজোতেই হবে কেবল নিয়মরক্ষা

0 ৪১৪

করোনা আবহে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বদলে যাচ্ছে এবার। জাঁকজমক শিকেয়। ঘট পুজো করে শুধুমাত্র নিয়মরক্ষা হবে দুর্গাপুর রাজবাড়িতে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় রাজ পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের যেমন মন ভাল নেই, তেমনই বিষণ্ণ এলাকার মানুষজনও।

উত্তর দিনাজপুর জেলার দুর্গাপুর রাজবাড়ি। প্রতিবছর দুর্গাপুজোর আগে থেকেই এখানে সাজো সাজো রব পড়ে যায়। সাবেকি কাঠামোতে খড় লাগিয়ে মাটি দিয়ে প্রতিমা গড়ার পাশাপাশি ঠাকুরদালান রং করা, বাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা, পুজোতে কোন দিন কী করা হবে তার পরিকল্পনা করা। এই সবকিছু নিয়ে তুঙ্গে ওঠে পরিবারের সদস্যদের ব্যস্ততা। তবে এ বছর তেমন ছবি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না রাজবাড়ির ঠাকুরদালানে।

দেবীপ্রতিমার সাবেকি যে কাঠামোতে মাটি পড়ে, সেটা বাঁশ লাগানো অবস্থায় মন্দিরেই পড়ে আছে। ঠাকুরদালান রং করা হয়নি, আশেপাশের জঙ্গল ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হয়নি। কারণ এবার করোনা নিয়ম বিধি মেনে পুজো সারতে হবে। বেশি মানুষজনের সমাগম করা যাবে না। সে বিষয়ে যেমন সরকারিভাবে নিষেধ করা আছে। তেমনি রাজপরিবারের যে বংশধরেরা আছেন নিজেদের স্বাস্থের কথা চিন্তা করে তাঁরাও সতর্ক। যদি প্রতিমা গড়ে প্যান্ডেল করে প্রতিবছরের মতো পুজো হয় সে ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষজনকে হয়তো আটকানো যাবে না। তাই এ বছর সমস্ত আচার মেনে ঘটপুজো করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন রাজপরিবারের বর্তমান বংশধর অভিজিৎ রায় চৌধুরী।

অভিজিৎ বাবু বলেন, ‘‘দীর্ঘদিনের ইতিহাস জড়িয়ে আছে আমাদের পরিবারের এই পুজোর সঙ্গে। ঠাকুরমার মুখে শুনেছি শেরশাহের আমল থেকে নাকি এই রাজবাড়ির পুজো হত। তখন পুজো হত ইটাহারের চূড়ামণ এস্টেটে। নদী ভাঙনে রাজবাড়ী ভেঙে যাওয়ায় এস্টেট চলে আসে দুর্গাপুরে। বাংলার ১৩৩৫ সাল থেকে এখানে মন্দির স্থাপন করে পুজো শুরু হয়। এতবছর ধরে চলে আসা এই পুজোতে কোনদিনই ঘট পুজোর কোনও ইতিহাস নেই। যা এই বছর হতে চলেছে।’’

ঠাকুরদালানের সামনে আসলে রাজ পরিবারের সবারই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে এমনটাই জানাচ্ছেন অভিজিতবাবু। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা যখন জানছেন এবছর রাজবাড়ির পুজোতে কোনও আড়ম্বর হবে না, তখন মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে তাদেরও। দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে রাজবাড়িতে পা রাখা রাখেননি, এমন ঘটনা এর আগে ঘটেনি কখনও। তাই মানতে কষ্ট হচ্ছে। তবুও সবাই চাইছেন এই একটা বছরে মিটে যাক সমস্যা। তাহলে আবার নতুন করে সামনের আগমনীতে মাতৃ আরাধনা করবেন সবাই মিলে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.