HeaderDesktopLD
HeaderMobile

কিশোর জ্ঞানেন্দ্রর হাত ধরে পুজোর আনন্দ ফিরছে রানাঘাটের বিশ্বাস পরিবারে

0 79

একসময় রীতিমতো জাঁকজমক করে পুজো হত পরিবারে। কিন্তু দেশ ছেড়ে চলে আসার পর আর্থিক কারণেই বন্ধ হয়ে যায় পরিবারের সেই দুর্গাপুজো। এবার নতুন করে আবার পুজো শুরু হবে। নিজের হাতে প্রতিমা গড়েছে রানাঘাটের ক্লাস এইটের ছাত্র। এবার আর শুধু তাদের পরিবার নয়, এই দুর্গাপ্রতিমার পুজোতে অংশ নেবে গোটা পাড়া। শুরু হয়ে গেছে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি।

রানাঘাট সড়কপাড়ার বাসিন্দা বাপি বিশ্বাসের পূর্বপুরুষদের আদিবাড়ি ছিল বাংলাদেশে। অবশ্য বাপিবাবুর জন্মস্থান রানাঘাট। তার দুই সন্তানের মধ্যে জ্ঞানেন্দ্রনাথ বড়। রানাঘাট লালগোপাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস এইটের ছাত্র জ্ঞানেন্দ্রনাথ বাবার কাছে গল্প শুনেছিল বাংলাদেশ পৈত্রিক ভিটায় খুব জাঁকজমক করে দুর্গাপুজো হত। কিন্তু সব ছেড়ে এ দেশে আসার পর রানাঘাটে আর কোনও দিনই তাদের পরিবারে পূজিত হননি দেবী দুর্গা।

বাপিবাবু বলেন, ছোট থেকেই ওর পুজো করার খুব ইচ্ছে। আরও ছোটতে সরল মনে আমাকে প্রশ্ন করত, “কেন রানাঘাটের বাড়িতে দুর্গাপুজো করা হয় না? আমি মাছের দোকানের কর্মচারী। সামান্য মাইনেতে সংসার চালাতেই হিমশিম। দুর্গাপুজো কীভাবে করব?’’

কিন্তু হাল ছাড়েনি জ্ঞানেন্দ্রনাথ। কয়েক বছর ধরে সমানে মাথায় ঘুরেছে পুজো করার ইচ্ছে। ক্লাস এইটে উঠতেই সে চিন্তা করে ফেলে প্রধান খরচ দুর্গা প্রতিমা যদি নিজে বানিয়ে নিতে পারে, তাহলে সামান্য ফলমূল বাবাকে আনতে বলে নিজেই তো পুজো সেরে ফেলা যায়। যেমন ভাবা তেমন কাজ।

দীর্ঘ লকডাউনের মধ্যে পড়াশোনা চাপ কম থাকায়, তৈরি করে ফেলেছে লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী সহ- গোটা দুর্গা প্রতিমা। একদমই কিন্তু ছোট নয়। এখন পাড়া-প্রতিবেশীরা সবাই ভিড় করে দেখতে আসছে জ্ঞানেন্দ্রর ঠাকুর!

মার্চ মাস থেকে স্কুল বন্ধ। তখন থেকেই কাজ শুরু করে জ্ঞানেন্দ্র। আশপাশের বাড়ি ও নদী থেকে মাটি নিয়ে এসে তৈরি করে ফেলে প্রতিমা। টিফিনের জন্য পাওয়া টাকা জমানো ছিল। তাই দিয়েই কিনে ফেলে সাজসজ্জা। এখন শুধু জ্ঞানেন্দ্রর পরিবার নয়, ওই এলাকার লোকেরা মিলেই এই প্রতিমা পুজো করবেন বলে ঠিক করেছেন। শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি।

জ্ঞানেন্দ্র বলছে, ‘‘ভাগ্যিস স্কুল ছুটি ছিল। তাই তো তৈরি করতে পারলাম প্রতিমা, অনেক দিন ধরে দুর্গাপুজো করার ইচ্ছে ছিল আমার। এবার সেই ইচ্ছেই পূরণ হবে।’’

করোনা আবহ। পুজোর জাঁকজমকে এবার আগাগোড়াই ঘাটতি। সে সব অবশ্য মনেই আনছে না জ্ঞানেন্দ্র। কারণ জাঁকজমক করে পুজো করার কথা কখনও ভাবেইনি সে। বরং প্রাণের দুর্গাই আনন্দের ডালি নিয়ে আসছে তার কাছে। অতীতকে ছুঁয়ে দেখেই যে তার তৃপ্তি।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.