HeaderDesktopLD
HeaderMobile

আমতার রায়বাড়ির দুর্গোৎসবে আজও পূজিত হন দেবী চামুণ্ডা

0

 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জঙ্গলের মধ্যে ভাঙাচোরা এক প্রাসাদ। আগাছায় ঢাকা পড়েছে তার দালান। এদিকে সেদিকে ইটের গাঁথনি আলগা হয়ে আছে। আর তার গায়েই লেগে আছে সুদূর ইতিহাসের গন্ধ। সিঁড়ি বেয়ে উঠে আগে যেখানে পুজোর দালান ছিল সেখানে এখন চাপচাপ অন্ধকার। তবে সেসবের মাঝেই তিনশো দুই বছরের ইতিহাস আগলে জেগে থাকেন মা দুর্গার রুদ্রমূর্তি, চামুণ্ডা। শান্ত স্নিগ্ধ মাতৃমূর্তির বদলে এমন দেবীকেই যে স্বপ্নে দেখেছিলেন এক রাজপুরুষ। কালের আঁচড় প্রাসাদের গায়ে লাগলেও হারিয়ে যায়নি রায়বাড়ির (raibari) সেই পুজো।

রায়বাড়ির যে কোনও উৎসবই শুরু হত প্রতিপদ থেকে। আজও সেই রীতি অক্ষুন্ন রয়েছে। মহালয়ের পরেরদিন এবছরও প্রতিপদ থেকেই শুরু হবে রায়বাড়ির দুর্গাপুজো। দেবীর রুদ্রমূর্তির পুজোই এই দুর্গোৎসবের বিশেষত্ব। কিন্তু জরাজীর্ণ প্রাসাদের গায়ে কীভাবে বেঁচে আছে সেই পুজো? সেই ইতিহাস জানতে ফিরে যেতে হবে এককালের ঝলমলে রাজবাড়িতে।

তিনশো বছর আগেকার কথা। তখন আমতার জয়পুরের কোল ঘেঁষেই বয়ে যেত রূপনারায়ণ। সেই নদীপথেই বাণিজ্য করতে চলেছিলেন বর্ধমান রাজপরিবারের সদস্য শান্তি মোহন রায়। পথে রাত্রিযাপনের সময় নোঙর ফেলেছিলেন জয়পুরে। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নাদেশ পান লক্ষ্মীপুজো করার। সেই আদেশ মাথা পেতে নেন শান্তি মোহন। তারপর জয়পুরের বুকেই এলাকার প্রথম লক্ষ্মীপুজোর সূচনা করেন। তৈরি করেন গজলক্ষ্মী মাতা এস্টেট। বছর ঘুরতে না ঘুরতে আবারও স্বপ্নাদেশ পান শান্তি মোহন। দুর্গা মায়ের আরাধনা শুরু করেন সেবার। তখন থেকেই ধীরে ধীরে সেখানেই বসতি গড়ে তোলেন তিনি। প্রসিদ্ধ হয় রায়বাড়ির দুর্গাপুজো। সেই পুজোই এবছর তিনশো দুই বছরে পা দিল।

আজও সমহিমায় দাঁড়িয়ে রয়েছে গজলক্ষ্মী মাতা মন্দির। তৈরি হয়েছে রায় পরিবারের নতুন বাসভবন, আর দুর্গামঞ্চ। তবে পুজোর রীতিনীতির তেমন বদল ঘটেনি। কেবল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়েছে বলি প্রথা।

পুজোর আগে ঘরে ফেরেন দূর দূরান্তে ছড়িয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা। রায়বাড়ির নতুন বাসভবনে শুরু হয় তোড়জোড়। বাড়ির মহিলারা নিজে হাতে নারকেল নাড়ু বানান। সেই দিয়েই চলে অতিথি আপ্যায়ন।

তবে করোনা আবহে এবছরও অতিথি খাওয়ানোর আয়োজন বন্ধ রাখা হয়েছে। রায় পরিবারের আর্থিক সংগতিও আর আগের মত নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই পুজোর জাঁকজমক অনেকটাই কমেছে। তবে ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও আন্তরিকতায় কোনও খামতি নেই।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.