HeaderDesktopLD
HeaderMobile

অষ্টমীতেই সিঁদুর খেলা হাওড়ার পালবাড়ির পুজোয়

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লালপেড়ে সাদা শাড়ির মতই স্নিগ্ধ পালবাড়ির (palbari) ঠাকুর দালান। তার মধ্যেখানে তিলে তিলে জীবন্ত হয়ে উঠছে একচালা দুর্গা প্রতিমা। আর কদিন পরেই বাড়িময় ছুটোছুটি করবে কচিকাঁচার দল। হাসি আহ্লাদে গমগম করবে জমিদার বাড়ি। সেই খুশির আমেজে তৈরি হচ্ছেন পাল পরিবারও। এই পুজোর জন্যই যে সারাবছরের অপেক্ষা।

হাওড়ার সাঁকরাইলের রাজগঞ্জে পালবাড়ির পুজো সকলেই এক ডাকে চেনেন। একশো নব্বই বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। তবে কীভাবে শুরু হয়েছিল, সেকথা বলতে বলতে স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

শোনা যায়, বাড়ির প্রাণ পুরুষ রাজারাম পাল হাওড়ার আন্দুলের রাজবাড়ির দেওয়ান ছিলেন। তবে নিষ্ঠা দেখে ওই এলাকার জমিদারি উপহার দেন রাজা। এরপরই রাজারাম রাজগঞ্জে গঙ্গারপাড়ে একটি নির্মাণ করেন। কিন্তু হঠাৎ আসা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে গঙ্গার গ্রাসে তলিয়ে যায় সেই বাড়ি। এরপর প্রায় একশ নব্বই বছর আগে রাজরাম পালের নাতি চুরামনি পাল সেই বাড়ির অনতিদূরেই তৈরি করেন নতুন জমিদার বাড়ি সঙ্গে ঠাকুর দালান। নিজের ছেলে ললিত নারায়ণ পালের নামে সেই বাড়ির নাম দেন ‘ললিত লজ’।

সেই সময় থেকেই পাল বাড়িতে দুর্গা পুজোর প্রচলন। যা আজও সমান ঐতিহ্য বহন করে আসছে।

সুপ্রাচীন এই দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে পালেদের আর্থিক প্রতিপত্তির ইতিহাস। পরিবার সূত্রে জানা যায়, চুরামনি পালের দুই ছেলে নফর চন্দ্র পাল সারদা প্রসাদ পাল আর দেওয়ানি করেননি। নফর চন্দ্র পাল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে প্রথমে চাকরি ও পরে ব্যবসা শুরু করেন। এলাকার প্রচুর ইটভাটা তৈরি করে রেলের বিভিন্ন ডিভিশনে ইট সরবরাহ করতে শুরু করেন। এছাড়াও ব্যবসা করতে থাকেন। সেইসময় থেকেই পালেদের ধনসম্পদ বৃদ্ধি পায়। দুর্গাপুজো আরও জমজমাট হতে থাকে।

পাল বাড়ির দুর্গাপুজো হয় বৈষ্ণব মতে। জন্মাষ্টমীতে কাঠামো পুজো থেকে শুরু। মহালয়া থেকে চন্ডীপাঠ।বাড়ির মহিলারাই পুজোর সমস্ত ভার সামলান। অষ্টমীতে তৈরি হয় বিশেষ ভোগ। সেই ভোগ রান্না রীতিমত দক্ষ যজ্ঞের আয়োজন!

একচালার দুর্গা প্রতিমা ঠাকুর দালানেই তৈরি হয়। এই পুজোয় কোনও বলি প্রথা নেই। তবে বৈষ্ণব রীতি মেনে অষ্টমীর দিনই হয় সিঁদুর খেলা। দশমীর দিন দেবী দুর্গাকে কাঁধে করে নিয়ে গিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয় গঙ্গায়।

পুজোর কটাদিন এলাকার দুঃস্থ পরিবারগুলোও পালবাড়ির আনন্দে সামিল হন। একসঙ্গেই চলে খাওয়াদাওয়া। চলে পোশাক বিতরণও। আগামীদিনেও এভাবেই পথ চলতে চান পাল পরিবার। সকলকে নিয়েই পুজোর মেজাজে ধরা দিলেন সাঁকরাইলের সুখী পাল পরিবার।

জমিদাররা নেই, তবে বাহিনের জমিদারবাড়ির পুজোই আজ সার্বজনীন দুর্গোৎসব

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.