HeaderDesktopLD
HeaderMobile

মূর্তি নেই, দুর্গাদালানে কাঠামো পুজো ঘিরেই মেতে ওঠে শান্তিপুরের ইন্দ্র পরিবার

0 ৬০২

সম্ভ্রান্ত ইন্দ্র পরিবারের দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল ১৮৭৬ সালে। সেই পুজোর ঐতিহ্য বজায় রয়েছে এখনও। তবে এখন আর মূর্তি পুজো হয় না, দুর্গা দালানে কাঠামো পুজো ঘিরেই মেতে ওঠে গোটা পরিবার।
শান্তিপুর শহরের সুত্রাগড় রামপদ স্ট্রিটে ইন্দ্রবাড়ির দেওয়ালে ছাপ ফেলেছে শতাব্দীর ইতিহাস।

এই পরিবারের সদস্যদের কাছে জানা গেল, পূর্বপুরুষ পাঁচুগোপাল ইন্দ্রের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এই পরিবারের দুর্গা উৎসবের। একসময় ইন্দ্র পরিবারের আদি বাসস্থান ছিল মাজদিয়ার অন্তর্গত ভাজনঘাটে। সেখানে তখন চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটত প্রায়ই।

সে সময়ে চিনির ব্যবসা ছিল এই পরিবারের। অবিভক্ত বাংলার চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চিনি এখানে আসত। সেই চিনি বিক্রি করেই ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল ইন্দ্র পরিবার। স্বভাবতই বেশ কয়েকবার ডাকাতদের নিশানা হন তাঁরা।

এই উৎপাতেই পাঁচুগোপাল ইন্দ্রের পরের প্রজন্ম চাঁদমোহনবাবু সপরিবারে চলে আসেন নদিয়ার প্রাচীন শহর শান্তিপুরের সুত্রাগড় এলাকায়। সেই থেকেই এখানে তাঁরা পাকাপাকি ভাবে বসবাস শুরু করেন। আড়ম্বর সহকারে দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যও বজায় থাকে।

কিন্তু পারিবারিক কোনও দুর্বিপাকে ৮০ বছর আগে হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় এই পরিবারের দুর্গাপুজো। সেই থেকেই কাঠামো পুজোর চল। মূর্তি পুজো না হলেও দুর্গাপুজোর চারটি দিন এখানে দেবীদুর্গার পুজো করা হয় কাঠামোতে। ঠাকুরদালানে এখনও অক্ষত সেই কাঠামো।

মস্ত একান্নবর্তী পরিবারে ব্যবসাই আজও মূল জীবিকা। সারা বছরই গমগম করে ইন্দ্রবাড়ি। পুজোর ক’টা দিন তাতে যেন যোগ হয় বাড়তি মাত্রা। পরিবারের মানুষজন তো আছেনই দূর দূরান্ত থেকে চলে আসেন স্বজন বন্ধুরাও। তাঁদের সবাইকে নিয়ে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে দুর্গাদালান। প্রথা মেনে দুর্গা আরাধনার পর ঘট বিসর্জন। আবার পরের বছরের জন্য শুরু হয় অপেক্ষা।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.