HeaderDesktopLD
HeaderMobile

চার ইঞ্চির ছোট্ট দশভুজার আরাধনা ঘিরে মেতেছে মেমারির নবস্থা গ্রাম

0

অষ্টধাতুর তৈরি মাত্র চার ইঞ্চি উচ্চতার দেবী দশভূজার মূর্তি। সেই মূর্তির পুজো ঘিরেই দুর্গোৎসবের কটা দিন মাতোয়ারা থাকেন মেমারির নবস্থা গ্রামের বাসিন্দারা। পাঁচশো বছরেরও বেশী সময় ধরে নবস্থা গ্রামের  দক্ষিণপাড়ার বিশ্বাস পরিবার এই চার ইঞ্চির অষ্টধাতুর দেবী উমার মূ্র্তি পুজো করে আসছেন। দেবী মাহাত্মেই এলাকাবাসীর কাছে মান্যতা পেয়েছেন চার ইঞ্চির এই দশভুজা।

জাঁকজমক নিয়ে মাতামাতি নেই নবস্থা গ্রামের বাসিন্দাদের। তারা এখন ব্যস্ত ছোট দুর্গার পুজোর আয়োজন নিয়েই। সেজে উঠেছে বিশ্বাসবাড়ির নাট মন্দির। নবস্থা গ্রামের বাসিন্দারা মনে করেন নিষ্ঠা ও ভক্তির মেলবন্ধনই আসল। তাতেই অনন্য হয়ে ওঠেন তাঁদের ছোট্ট দুর্গা।

নবস্থা গ্রামের রাজারাম বিশ্বাসের বাড়ি লাগোয়া মন্দিরে সারা বছর অধিষ্ঠিত থাকেন চার ইঞ্চির দেবী দুর্গা। পঞ্জিকার নির্ঘণ্ট মেনে কোনও নির্দিষ্ট দিন বা সময় ধরে নয়। সারা বছরই নিত্যসেবা হয় অষ্টধাতুর এই  দুর্গা মূর্তির। নিত্যসেবা সারেন স্থানীয় সালিগ্রাম নিবাসী পুজারী কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার সদস্যরা। মহাসপ্তমীর দিন সকালে বিশ্বাস বাড়ির মন্দির থেকে অষ্টধাতুর দশভূজার মূর্তি নিয়ে যাওয়া হয় পরিবারের বড় নাটমন্দিরে। দেবী পক্ষের চারটে দিন নাট মন্দিরেই নিষ্ঠা সহকারে অষ্টধাতুর ছোট্ট দুর্গা মায়ের পুজো হয়। বিশ্বাস পরিবারের কোন পুরুষ এই ছোট্ট অষ্টধাতুর দশভুজা মূর্তির পুজোর সূচনা করেছিলেন তা বলতে পারেন না পরিবারের বর্তমান সদস্যরা।

বিশ্বাস পরিবারের বর্তমান প্রবীণ সদস্য রাজারাম বিশ্বাস জানান, পাঁচশো বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের বংশের সদস্যরা ছোট্ট দশভূজা মায়ের পুজোপাঠ করে আসছেন। বর্তমানে বংশের সপ্তম পুরুষরা এই পুজোর আয়োজন করছেন। পুজোর চারটে দিন লোকাচার মেনেই পুজো হয়। পারিবারিক প্রথা মেনে অষ্টমীর সন্ধিপুজোর দিন ছাগবলি, নবমির দিন ছাঁচি কুমড়ো ও কলা বলি দেওয়ার প্রথা এখনও চালু রয়েছে।

রাজারামবাবু বলেন, ‘‘একাধিকবার তাঁদের পরিবারের অষ্টধাতুর দশভুজার মূর্তিটি চুরি হয়ে গেলেও কোনও না কোনও ভাবে মূর্তিটি ফের বিশ্বাস বাড়িতে ফিরে এসেছে।’’

২০০৭ সালেও একবার মূর্তিটি চুরি হয়ে যায়। তা নিয়ে গ্রামে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছিল। পরে এলাকার একটি খালে জেলেরা যখন মাছ ধরছিল তখন তাঁদের জালে দেবী মূর্তিটি উঠে আসে। পুলিশ মূর্তিটি নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে মেমারি ও বর্ধমান থানা ঘুরে অষ্টধাতুর দশভুজা মায়ের মূর্তি ফের মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়। পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষরা একদা মেমারির বসতপুর এলাকায় বসবাস করতেন। ওই সময়ে এক পূর্বপুরুষের কাঁধে বাজপাখি উড়ে এসে বসে। তারপরেই ওই পূর্বপুরুষ স্বপ্নাদেশ পান। সেই স্বপ্নাদেশ মেনে অষ্টধাতুর চার ইঞ্চির দেবী দশভুজার মূর্তি গড়ে পরিবারে শুরু হয় পুজোপাঠ ।

পূজারী কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার সদস্যরা বলেন, ‘‘ছোট্ট দশভূজা দেবীকে নিয়ে এলাকাবাসীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিভাবের অন্ত নেই। এই ছোট্ট দশভূজা মায়ের পুজোই নবস্থা এলাকার সবচেয়ে প্রাচীন দুর্গাপুজো। ঐতিহ্য পরম্পরা মেনে নবমীর দিন ১০৮টি পদ্মফুলের মালা দেবীকে পরানো হয়। দেবীর বিধান মেনে বিজয়ার দিন এলাকার সকলে এখনও অপরাজিতা ফুলের তাগা ধারণ করেন। দশমীর পুজো শেষ হলে দশভুজার মূর্তি নাটমন্দির থেকে বাড়ি লাগোয়া মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। বিশ্বাস বাড়ির পুজোয় দশমীর দিন সিঁদুর খেলার কোনও চল নেই।’’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.