HeaderDesktopLD
HeaderMobile

মহিষাদল রাজবাড়ির তোপধ্বনি শুনেই সব পাড়ায় সন্ধিপুজো শুরু হত

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসেছে শরৎ। হাওয়ায় দুলছে কাশের বন। তারই ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে রাজবাড়ির ফটক। দুধসাদা মহিষাদল রাজবাড়ি (mahishadal rajbari) দেখলে আজও চোখ জুড়িয়ে যায়। তবে নেই আগেকার রাজা কিংবা রাজপাট। পুজো এলেই আগে রমরম করত রাজবাড়ির দালান। পাড়া জুড়ে উৎসব হত। রাজবাড়ির সে জৌলুস এখন অতীত। তবু ঐতিহ্য মেনে আজও হয়ে আসছে রাজবাড়ির দুর্গাপুজো।

পুজোর কয়েকটা দিন যাত্রাপালা থেকে শুরু করে নানান অনুষ্ঠান, ভোগ বিতরণ, বিসর্জনের শোভাযাত্রা সব কিছুতেই আগের তুলনায় অনেকটাই জৌলুস কমেছে মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয়। মহিষাদলে একাধিক বিগ বাজেটের দুর্গাপুজো হয়ে থাকে, তা সত্ত্বেও ঐতিহ্যপূর্ণ এই রাজবাড়ির দুর্গামণ্ডপে এখনও ভিড় জমান এলাকার বাসিন্দারা।

প্রায় আড়াইশো বছর আগে মহিষাদলের রানি জানকীর আমলে মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয়। সেই সময় থেকেই মহিষাদল রাজবাড়িতে ধুমধামের সঙ্গে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। পর্দার আড়াল থেকে যাত্রাপালা দেখতেন রাজপরিবারের মহিলারা। ষষ্ঠীতে ৬ মন, সপ্তমীতে ৭ মন, অষ্টমীতে ৮ মন, নবমীতে ৯ মন চালের প্রসাদ তৈরি করে এলাকার বাসিন্দাদের ভোগ দেওয়া হত। কিন্তু রাজত্ব চলে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। এখনও পুজোর দিন প্রসাদ বিতরণ করা হয়। কিন্তু তা পরিমাণে খুবই কম।

কোন্নগরের ঘোষাল পরিবারে পান্তা ভাতে ইলিশ খেয়ে দশমীর দেবীবরণ

রাজবাড়ি থেকে কামান দেগে সন্ধিপুজোর সূচনা হত। মহিষাদল রাজবাড়ির কামানের তোপের শব্দে আশপাশের এলাকার পুজো মণ্ডপেও সন্ধিপুজো আরম্ভ হত। কিন্তু সরকার কামান দাগার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করার ফলে বহু বছর ধরে কামান দাগার পরিবর্তে পটকা ফাটিয়ে সন্ধিপুজো করা হয়। অতীতের সেই কামান রাজবাড়ির আঙিনায় একা পড়ে থাকে।

দেবীর চরণে ১০৮টি নীল পদ্ম নিবেদন করার পাশাপাশি এখানে নবরাত্রিও হয়। মহালয়ার পর থেকে রাজবাড়ির দুর্গামণ্ডপ লাগোয়া অশ্বত্থ গাছের তলায় নটিঘট ওঠে।

দেবীরপ্রতিমার একপাশে সেই ঘট থাকে, অন্য পাশে বেদির ওপরে ধান রাখা হয়। এলাকায় ভাল ফসল লাভের আসায় দেবীর পাশে থাকা বেদিতে ধান রাখা হয় বলে রাজবাড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে। দুর্গামণ্ডপ লাগোয়া জায়গায় রাজ আমলে অনুষ্ঠানের জন্য স্থায়ী মঞ্চ ছিল। সেখানে যাত্রাপালা থেকে শুরু করে নানা ধরনের অনুষ্ঠান হত।

তবে বর্তমানে সেই মঞ্চ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অনুষ্ঠানের বহরও ছোট হয়েছে। করোনা আবহে সরকারি নিয়ম মেনেই এবারের পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আমফান ও যশের তান্ডবে রাজবাড়ির ঠাকুরদালানের ছাদ উড়ে গেছিল। স্থানীয় বিধায়ক তিলক কুমার চক্রবর্তী উদ্যোগে ঠাকুরদালান মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। দর্শনার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধে না হয় তার জন্য রাজবাড়ির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মহিষাদল বিধানসভার বিধায়ক, মহিষাদলের প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে পুজোটি সুন্দরভাবে পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিবারেরই সদস্য বিধায়ক তথা অভিনেত্রী জুন মালিয়া। প্রতিবছর তিনিও পুজোয় উপস্থিত থেকে পুজোর আনন্দ উপভোগ করেন।

মহিষাদল রাজবাড়ির সিঁদুর খেলারও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এলাকাবাসীর পাশাপাশি সিঁদুর খেলায় অংশ নেন রাজপরিবারের মহিলারাও। তারপরই চলে প্রতিমা বিসর্জনের পালা।
আগে রাজবাড়ির সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া হিজলি টাইডাল ক্যানেল হয়ে বড় নৌকা করে গেঁওখালির বুকে রূপনারায়ণ নদীতে ঠাকুর বিসর্জন দিতে যাওয়া হত। প্রায় ৬০ বছর আগে তাও বন্ধ হয়েছে। এখন রাজবাড়ি লাগোয়া রাজদিঘিতেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

পুজোর কটাদিন আজও সরগরম হয়ে ওঠে মহিষাদল রাজবাড়ি।

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আপডেট পেতে পড়ুন দ্য ওয়াল গুড হেল্থ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.