HeaderDesktopLD
HeaderMobile

মাছের টকের ভোগ বিতরণ কৃষ্ণসায়রের সর্বমঙ্গলা পুজোয়

0 ১৫৯

নিউ নর্মাল দুনিয়ায় এবার নন-ফর্মাল পুজো। তা বলে রাজার আমল থেকে চলে আসা পুজোয় প্রথার কোনও এদিক ওদিক হবে না। তবে অবশ্যই স্বাস্থ্য আগে, শাস্ত্র পরে, এটা মূলমন্ত্র বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলার আরাধনাতেও।

দেবী সর্বমঙ্গলার মন্দির পূর্ব বর্ধমানের সবচেয়ে প্রাচীন মন্দির। রাজা তেজচন্দের আমলে এই মন্দির নির্মাণ হয়েছিল। মন্দির ঘিরে অনেক উপকথা। দেবী দুর্গা এখানে সর্বমঙ্গলা রূপে পূজিতা। সব কটি উৎসব রাজ-আমল থেকেই মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে। পুজোর চারদিন ষোড়শোপচারে দেবীর আরাধনা করা হয় এখানে। আগে মহিষ ও পাঁঠা বলি হত। আগের জেলাশাসকের উদ্যোগে এখন বলি বন্ধ। আগে সন্ধিপুজোর মহালগ্ন ঘোষিত হত কামান দেগে। ১৯৯৭ সালে বিস্ফোরণের পর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে সেই প্রথাও।

তবু পুজোর পাঁচদিন মন্দিরে তিলধারণের জায়গা থাকে না। দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হন এখানে। মাছের টক সহ নানা উপাচারে মায়ের ভোগ হয়। মালসা ভোগ নিতে ভিড় করেন ভক্তরাও। নবমীতে কয়েক হাজার মানুষ মন্দির প্রাঙ্গনে এসে ভোগের প্রসাদ নেন।

এবার করোনা পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকমাস বন্ধ থাকার পর মন্দির খুলেছে। তবে জনসমাগম খুবই কম। মন্দিরে ঢুকতে হলে একাধিক নিয়ম মানতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। দীর্ঘ লকডাউনে ভক্তরা সঙ্কটে। অর্থাগমও কম। তাই মন্দিরের ভাঁড়ারেও টান পড়েছে এবার। সমস্ত পরিস্থিতি মাথায় রেখেই এবার শুধু নিয়মরক্ষার পুজো হচ্ছে। তবে প্রথা মেনে। প্রধান পুরোহিত অরুণ ভট্টাচার্য জানান, ১৭ই অক্টোবর বিধি মেনে ঘট উত্তোলন হবে কৃষ্ণসায়রে। শুরু হয়ে যাবে মহাপুজোর নির্ঘণ্ট। ঘোড়ার গাড়ি থাকবে। মাকে রাজবেশ পরানো হবে। পায়েস, পোলাও মাছের টকে ভোগ নিবেদন হবে দেবীর।

তিনি বলেন, ‘‘সবই হবে। কেবল ভিড় করা যাবে না। ভাঁড়ারে টান পড়লেও রাজ আমল থেকে চলে আসা কোনও কিছুর ব্যতিক্রম হবে না। শুধু শাস্ত্রের বিধানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধির নিদান মেনে চলতে চাই আমরা।’’

এবার মন্দিরের নিয়ম, গোল দাগের মধ্যে থেকে দূরত্ব মেনে পুজো দিতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে পুরোহিতের হাতে স্যানিটাইজ করার পর ডালা দিতে হবে। অল্প ভোগ বিতরণ হবে। আর মন্দিরে ঢুকতে গেলে মাস্ক পরতে হবে অবশ্যই। তবে এই বিধিনিষেধে অখুশি নন ভক্তরা। তাঁরা জানান, এই পরিস্থিতিতে এমনটাই হওয়া উচিত।

মন্দিরে আসা সোনালী দাস আর মনীষা অধিকারীরা বলেন, ‘‘এই বিধিনিষেধ এবার সবার মেনে চলা উচিত। কোভিডের আবহ। তবু পুজো আসছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানছি। মাস্ক না পরে মাকে দেখব না।’’ নিউ-নর্মাল দুনিয়ার প্রথম পুজো। প্রস্তুতি সর্বস্তরে। তৈরি সর্বমঙ্গলা মন্দিরও।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.