HeaderDesktopLD
HeaderMobile

সারদা মায়ের জন্মভূমিতেও এবার শুধু নিয়মরক্ষার পুজো, হবে না ভোগ বিলিও

0 39

মৃন্ময় পান

করোনা পরিস্থিতিতে এবার আর ধূমধাম করে দুর্গাপুজোর আয়োজন হচ্ছে না জয়রামবাটীর মাতৃমন্দিরে। শুধু নিয়মরক্ষার পুজো হবে নাটমন্দিরে।

“আমি সত্যিকারের মা, গুরুপত্নী নয়, পাতানো মা নয়, কথার কথা মা নয়– সত্য জননী।’’ বলেছিলেন তিনি। সেই সত্য জননী মা সারদার জন্মভিটে বাঁকুড়ার জয়রামবাটী। সারা বছর মায়ের আর্শীবাদ নিতে অগনিত ভক্তের সমাগম হয় জয়রামবাটির মাতৃ মন্দিরে। এখানকার দুর্গাপুজোতেও ঢল নামে ভক্তদের। নিষ্ঠা ও প্রাচীন নিয়ম মেনে দেবী দুর্গার আরাধনা হয় জয়রামবাটির মাতৃ মন্দিরে। তবে এবার করোনা আবহে মায়ের গাঁয়ে মায়ের আরাধনা জন্য হচ্ছে ক্ষুদ্র আয়োজন। স্বাস্থ্য বিধি দিকে দৃষ্টি দিয়ে নিষ্ঠা ও প্রাচীন রীতি মেনে দেবী বন্দনা এবার জয়রামবাটীতে।

১৮৫৩ সালে জয়রামবাটীর মুখোপাধ্যায় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সারদাদেবী। অল্পবয়সে বিয়ে হয় কামারপুকুরের গদাধর চট্টোপাধ্যায় অর্থাৎ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণদেবের সঙ্গে। বিয়ের পর জয়রামবাটিতে বেশ কয়েক বছর ছিলেন তিনি। পুরোনো বাড়িতে। পরে কামারপুকুর এবং কলকাতার বাগবাজারে। তবে শেষ সময়ে প্রায় চার বছর জয়রামবাটীর নতুন বাড়িতে কাটিয়েছিলেন সারদাদেবী। জানা যায়, সারদাদেবীর মা শ্যামাসুন্দরী দেবী শুরু করেছিলেন জগদ্ধাত্রী পুজো। ধুমধাম করে আজও মহাসমারোহে সেই জগদ্ধাত্রী পুজো পালিত হয়।

১৯২৩ সালে বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী সারদানন্দজীর উদ্যোগে সারদাদেবীর দুটি বাড়িকেই অক্ষত রেখে জয়রামবাটীতে প্রতিষ্ঠা হয় মিশন। ১৯২৫ সালে ঘটে পটে দুর্গা পুজা শুরু হয় জয়রামবাটিতে। পরবর্তী কালে ১৯৫৩ সালে মাতৃ মন্দির চত্বরে মণ্ডপ করে মহাসমারোহে নিষ্ঠা ও ভক্তির মধ্য দিয়ে মাটির প্রতিমা তৈরি করে দেবী বন্দনা শুরু হয়। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে মন্ত্র, বিধি মেনেই অনুষ্ঠিত হয় জয়রামবাটী মাতৃমন্দিরের দুর্গাপুজো।

প্রতিবছর অষ্টমীর দিন হয় কুমারী পুজো। এ বারের পরিস্থিতিতে কুমারী পুজো হবে কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সব নিয়মকানুন রক্ষা করা সম্ভব হলে হতে পারে কুমারী পুজো। এমনটাই জানাচ্ছেন জয়রামবাটী মাতৃ মন্দির কর্তৃপক্ষ।

মন্দিরের সহ সম্পাদক স্বামী যুগেশ্বরানন্দ বলেন, ‘‘পুজো দেখতে যে সমস্ত ভক্ত এবং দর্শনার্থী আসবেন স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দুরত্ব মেনেই পুজো দেখার সুযোগ পাবেন তাঁরা। বেশিক্ষণ ঘোরাঘুরির সুযোগ দেওয়া হবে না কাউকেই। স্বল্প সময়ের জন্য দর্শন ও প্রণাম সারতে পারবেন ভক্তরা। ভিড় কোনও ভাবেই করা যাবে না মাতৃমন্দির চত্বরে।’’

জানা গেছে, সকাল সাড়ে আটটা থেকে ১১টা এবং বিকেলে সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত প্রধান ফটক খোলা থাকবে। ভক্তদের প্রসাদ বিলি এবং মাতৃ মন্দির গেস্ট হাউসে থাকা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.